Latest Products
Showing posts with label টার্কি মুরগি কোথায় পাবো. Show all posts
Showing posts with label টার্কি মুরগি কোথায় পাবো. Show all posts

টার্কি এবং কপিতয় মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী সিন্ডিকেট | Turkey Bird And false information provider Syndicate


ফেসবুকের সর্বত্র ইদানিং দেখা যাচ্ছে টার্কির ওজন নিয়ে বেশ কিছু লোক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।
টার্কি নাকি ৩০-৩৫ কেজী হয়?
আসলে ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় বন্য টার্কি টি ৩৭.৬ পাউন্ড যা কেজীতে রুপান্তরিত করলে হবে ১৭ কেজী ২০০ গ্রাম।
(1Poung = 0.453592 Kg,
37.6 Pound = 17.200 kg)
(নিচে ছবি দেখুন।
প্রয়োজনে ওয়ার্ল্ড বিগ টার্কি
লিখে সার্চ দিন)
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বানিজ্যিক খামার গুলোতে তারা সঠিক খাদ্য ব্যবস্থা, আবহাওয়া ও বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০-২২ কেজি পর্যন্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও টার্কি আমাদের দেশের পাখি না তবুও সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক লালন পালনের মাধ্যমে টার্কিকে আমাদের আবহাওয়ায় সর্বোচ্চ ১৬-১৮ কেজী করা সম্ভব।
হাইব্রীড, হাইব্রীড করে মুখে ফেনা তোলা চতুর মানুষগুলো আমাদের দেশের বেকার ও দরিদ্র মানুষ গুলোকে ভূল তথ্য প্রদান করে তাদের থেকে মোটা অক্ঙের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।
দীর্ঘ প্ররিশ্রম, শ্রম এবং মেধা দিয়ে এদেশের সৎ এবং সত্যিকার খামারিগন যখন পযার্প্ত টার্কি উৎপাদনের মাধ্যমে টার্কির দাম সহনশীল পর্যায় নিয়ে এসে বাজার তৈরী করতে সফল হচ্ছে ঠিক তখনই মুষ্ঠিময় সিন্ডিকেট বিভিন্ন দেশ থেকে টার্কি কালেক্ট করে ৩০-৩৫ কেজী হবে বলে চড়া দামে টার্কি বিক্রি করে যাচ্ছে।
তাদের কাছ থেকে ক্রেতা হিসাবে যারা কিনছে তারা কি আদৌ কোন খামারী?? বা টার্কি খামার করে লাভবান হবে???
আগুন দেখলে যেভাবে কিছু উই পোকা না বুঝেই আগুনে ঝাপ দেয় ঠিক সেভাবেই এসব ক্রেতারা চড়া দামে এসব নিয়ে যাচ্ছে।
একজন খামারীর আসল চরিত্র হচ্ছে নিজের যতটুকু আছে তা দিয়েই সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাবে।
বিদেশ থেকে আমদানি করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা কোন খামারীর চরিত্র না।
প্রয়োজনে যদি জাত উন্নয়ন করতে হয় তা নিজের জন্য এনে তা থেকে উৎপাদন করা যায় মাত্র।
টার্কি আমাদের দেশের জন্য সত্যিই আশির্বাদ।
আমি নিজে একজন বেকার থেকে কিছুটা আত্নকর্মসংস্থান করতে পেরেছি। তাহলে নিশ্চয় শিক্ষিত বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সামান্য পুজি ও সঠিক প্রশিক্ষন নিয়ে এ সেক্টরে আসলে সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য ভাল কিছু করা সম্ভব।
একজনকে মক্কেল বানিয়ে সবাইকে ট্যাগ করে তার ছবি সহ পোষ্ট করে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?? আমাদের মত ছোট খামারীদের নিকট ভালোবেসে যে পরিমান টার্কি খামারী এবং টার্কি পালন ইচ্ছুকরা এসে ভিড় জমায় তা তো কখনো ফেবুতে পোষ্ট করে কাউকে ট্যাগাইতে যাই না।
টার্কি পালুন, নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরী করুন।
পোষ্টটি শেয়ারের মাধ্যমে সকল টার্কি প্রেমীদের সতর্ক করে দিন।

ফেসবুকের সর্বত্র ইদানিং দেখা যাচ্ছে টার্কির ওজন নিয়ে বেশ কিছু লোক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।
টার্কি নাকি ৩০-৩৫ কেজী হয়?
আসলে ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় বন্য টার্কি টি ৩৭.৬ পাউন্ড যা কেজীতে রুপান্তরিত করলে হবে ১৭ কেজী ২০০ গ্রাম।
(1Poung = 0.453592 Kg,
37.6 Pound = 17.200 kg)
(নিচে ছবি দেখুন।
প্রয়োজনে ওয়ার্ল্ড বিগ টার্কি
লিখে সার্চ দিন)
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বানিজ্যিক খামার গুলোতে তারা সঠিক খাদ্য ব্যবস্থা, আবহাওয়া ও বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০-২২ কেজি পর্যন্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও টার্কি আমাদের দেশের পাখি না তবুও সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক লালন পালনের মাধ্যমে টার্কিকে আমাদের আবহাওয়ায় সর্বোচ্চ ১৬-১৮ কেজী করা সম্ভব।
হাইব্রীড, হাইব্রীড করে মুখে ফেনা তোলা চতুর মানুষগুলো আমাদের দেশের বেকার ও দরিদ্র মানুষ গুলোকে ভূল তথ্য প্রদান করে তাদের থেকে মোটা অক্ঙের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।
দীর্ঘ প্ররিশ্রম, শ্রম এবং মেধা দিয়ে এদেশের সৎ এবং সত্যিকার খামারিগন যখন পযার্প্ত টার্কি উৎপাদনের মাধ্যমে টার্কির দাম সহনশীল পর্যায় নিয়ে এসে বাজার তৈরী করতে সফল হচ্ছে ঠিক তখনই মুষ্ঠিময় সিন্ডিকেট বিভিন্ন দেশ থেকে টার্কি কালেক্ট করে ৩০-৩৫ কেজী হবে বলে চড়া দামে টার্কি বিক্রি করে যাচ্ছে।
তাদের কাছ থেকে ক্রেতা হিসাবে যারা কিনছে তারা কি আদৌ কোন খামারী?? বা টার্কি খামার করে লাভবান হবে???
আগুন দেখলে যেভাবে কিছু উই পোকা না বুঝেই আগুনে ঝাপ দেয় ঠিক সেভাবেই এসব ক্রেতারা চড়া দামে এসব নিয়ে যাচ্ছে।
একজন খামারীর আসল চরিত্র হচ্ছে নিজের যতটুকু আছে তা দিয়েই সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাবে।
বিদেশ থেকে আমদানি করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা কোন খামারীর চরিত্র না।
প্রয়োজনে যদি জাত উন্নয়ন করতে হয় তা নিজের জন্য এনে তা থেকে উৎপাদন করা যায় মাত্র।
টার্কি আমাদের দেশের জন্য সত্যিই আশির্বাদ।
আমি নিজে একজন বেকার থেকে কিছুটা আত্নকর্মসংস্থান করতে পেরেছি। তাহলে নিশ্চয় শিক্ষিত বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সামান্য পুজি ও সঠিক প্রশিক্ষন নিয়ে এ সেক্টরে আসলে সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য ভাল কিছু করা সম্ভব।
একজনকে মক্কেল বানিয়ে সবাইকে ট্যাগ করে তার ছবি সহ পোষ্ট করে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?? আমাদের মত ছোট খামারীদের নিকট ভালোবেসে যে পরিমান টার্কি খামারী এবং টার্কি পালন ইচ্ছুকরা এসে ভিড় জমায় তা তো কখনো ফেবুতে পোষ্ট করে কাউকে ট্যাগাইতে যাই না।
টার্কি পালুন, নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরী করুন।
পোষ্টটি শেয়ারের মাধ্যমে সকল টার্কি প্রেমীদের সতর্ক করে দিন।
আরো পড়ুন>

টার্কি মুরগি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন | Know Details About Turkey Bird

টার্কি কি?

টার্কি মেলিয়াগ্রিস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের বড় পাখি। এক সময়ের টার্কি বন্য পাখী হলেও এখন তা গৃহে বা ফার্মে পালিত বড় আকারের পাখী । বাচ্চা অবস্থায় এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো। মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো প্রজাতির বুনো টার্কি উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে বসবাস করে। গৃহপালিত টার্কি এই প্রজাতি থেকে ভিন্নতর। অন্য জীবিত প্রজাতির মধ্যে মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা বা চক্ষু আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কি আবাসস্থল হচ্ছে ইউকাতান উপ-দ্বীপের বনাঞ্চলে। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখি রূপে লালন-পালন করা হয়।

কোথা হতে টার্কি আসল

যখন ইউরোপীয়রা প্রথমবারের মতো টার্কিকে আমেরিকায় দেখতে পেয়েছিল, তখন তারা ভুলবশতঃ ভাবল যে পাখিটি এক ধরণের গিনিয়া মুরগি (নুমিডা মেলিয়াগ্রিস)। পরবর্তীকালে তারা তুরস্ক দেশ থেকে মধ্য ইউরোপে পাখিটিকে নিয়ে আসে। গিনিয়া মুরগি বা গিনিয়া ফাউলকে টার্কি ফাউল নামেও ডাকা হয়। তাই, তুরস্ক দেশের নামানুসারে উত্তর আমেরিকার পাখিটির নামকরণ করা হয় টার্কি। ১৫৫০ সালে ইংরেজ নাবিক উইলিয়ামাম স্ট্রিকল্যান্ড টার্কি পাখিকে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন।

পৃথিবীর কোন কোন দেশে টার্কি পাওয়া যায়

এটি সর্বপ্রতশ গৃহে পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায় । কিন্তু বর্তমানে ইউরোপ সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এই পাখী কম- বেশি পালন করা হয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কি পাখির মাংস বেশ জনপ্রিয়। টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে । এর মাংসে প্রোটিন বেশি , চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখীর মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশসমূহে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয় । তাই সবচেয়ে বেশি টার্কি পালন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ডে, ব্রাজিলে । তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যাক্তি উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে । তৈরি হয়েছে ছোট-মাঝারি অনেক খামার। ইলেকট্রনিক মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে বেকার যুবকদের অনেকেই টার্কি পালনে আহগ্রী হয়ে উঠেছেন। কিছু কিছু খামার থেকে টার্কির মাংস বিদেশে রপ্তানীর চেষ্টা চলছে। অচিরেই এ পাখির মাংশ রপ্তানী অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন টার্কি পাখি পালন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে

১। টার্কির মাংস সুস্বাদু এবং মাংস উৎপাদন ক্ষমতাও ব্যাপক ।
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় ।
৩। টার্কি পাখি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে ।
৪। টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারণ এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি শাক, ঘাস,লতাপাতা খেতেও পছন্দ করে ।
৫। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, চর্বি কম । তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে এ পাখির মাংস।
৬। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ ও ফসফরাস থাকে । এ উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায় ।
৭। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলে শরীওে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
৮। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিক পরিমাণে থাকে ।
৯। টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে ।

এক নজরে টার্কি

১। ডিম দেয়া শুরুর বয়স ৩০ সপ্তাহ ।
২। পুরুষ ও স্ত্রীর অনুপাত ১ :৪ অথবা ১:৫ থাকলেই চলে।
৩। বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়।
৪। ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হয় ২৮ দিনে ।
৫। ২০ সপ্তাহে পুরুষ পাখীর গড় ওজন হয় ৬-৭ কেজি এবং স্ত্রী পাখীর ৩-৪ কেজি ।
৬। ১৪ থেকে ১৫ সপ্তাহই পুরুষ পাখির বাজারজাত করনের সঠিক সময়। আর স্ত্রী পাখীর ১৭-১৮ সপ্তাহ ।
পূর্ণাঙ্গ পুরুষ জাতীয় টার্কির মাথা ন্যাড়া থাকে। সাধারণতঃ এর মাথা উজ্জ্বল লাল রঙের হয়। কখনো কখনো সাদা কিংবা উজ্জ্বল নীলাভ রঙেরও হয়ে থাকে থাকে। পুরুষ টার্কি পাখি গবলার বা টম নামেও পরিচিত। এগুলো গড়ে লম্বায় ১৩০ সে.মি. বা ৫০ ইঞ্চি হয়। গড়পড়তা ওজন ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড হতে পারে। কিন্তু স্ত্রী জাতীয় টার্কি সাধারণতঃ পুরুষ পাখির তুলনায় ওজনে অর্ধেক হয়। বন্য টার্কি আত্মরক্ষার্থে দ্রুত দৌড়িয়ে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু এটি স্বল্প দূরত্বে উড়তে পারে।

ডিম উৎপাদন

সাধারণত ৩০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে । প্রতিটি স্ত্রী জাতীয় টার্কি প্রতিবাওে ৮ থেকে ১৫টি ছোট ছোট দাগের বাদামী বর্ণাকৃতির ডিম পাড়ে। ডিমের আকার আমাদের দেশের হাঁসের ডিমের আকৃতির হয়ে থাকে। ২৮ দিন অন্তর ডিম ফুটে বাচ্চা টার্কি জন্মায়।
প্রয়োজনীয় আলো বাতাস, পরিষ্কার পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হলে বছরে ৮০-১০০ ডিম দিয়ে থাকে । ৬০-৭০ শতাংশ টার্কি মুরগী বিকেল বেলায় ডিম দেয় ।

টার্কি লালন পালন

শেড
টিন, ছন, খড়ের ছাদ দেয়া ঘর বা কনক্রিট দালানে টার্কি পাখি পালন করা যায়। টার্কি পাখি মুক্ত অবস্থায় ও আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা যায় ।
একটি টার্কির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার তালিকা নিচে দেয়া হলো
বয়স জায়গা (ব.ফু) খাদ্যের পাত্র (সে.মি.) পানির পাত্র (সে.মি.)
০-৪ সপ্তাহ ১.২৫ ব.ফু ২.৫ সে.মি. ১.৫ সে.মি.
৫-১৬ সপ্তাহ ২.৫ ব.ফু ৫.০সে.মি. ২.৫ সে.মি.
১৬-১৯ সপ্তাহ ৪.০ ব.ফু ৬.৫ সে.মি. ২.৫ সে.মি.
প্রজননক্ষম ৫.০ ব.ফু ৭.৫ সে.মি. ২.৫ সে.মি.
লিটার ব্যবস্থাপনা
এই পদ্ধতিতে টার্কির জন্য সহজলভ্য দ্রব্য ব্যাবহার করা যায় । যেমন নারিকেলের ছোবড়া, পূর্ণ তুষ (কেনো ভাবেই ধানের কুড়া নয়) । প্রথমে ২-৩ ইঞ্চি পুরু লিটার তৈরি করতে হয় । পরে আস্তে আস্তে আরো উপাদান যোগ করে ৩ – ৪ ইঞ্চি করলে ভালো হয় । লিটারে সব সময় শুকনো দ্রব্য ব্যবহার করতে হবে । ভিজা লিটার তুলে সেখানে আবার শুকনো লিটার দিয়ে পূর্ণ করতে হবে ।
টার্কি পাখির কি খায়
বন্য টার্কি সাধারণতঃ বনভূমিতে পানির কাছাকাছি এলাকায় থাকতেই বেশি পছন্দ করে। ফসলের বীজ, পোকামাকড় এবং মাঝেমাঝে ব্যাঙ কিংবা টিকটিকি খেয়েও এরা জীবনধারণ করেন।
গৃহপালিত বা খামারে যারা টার্কি পালন করছেন তারা মোট খাবারের ৫০ ভাগ সবুজ ঘাস, শাক (পালং, সরিষা, কলমি, হেলেঞ্চা, সবুজ ডাটা, কচুরিপানা দিবেন। একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০- ১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০- ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে । এছাড়া বয়লার বা লেয়ার মুরগীর খাবারও এরা খেয়ে থাকে।
সতর্কতা: শাকে অনেক সময় কীটনাশক থাকে। তাই শাক দেয়ার আগে এগুলো এক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর তা কেটে খাওয়াতে হবে।
টার্কির খাবার সরবরাহের জন্য দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় । যেমন ম্যাশ ফিডিং ও পিলেট ফিডিং ।
একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো:
ধান ২০%
গম ২০%
ভুট্টা ২৫%
সয়াবিন মিল ১০%
ঘাসের বীজ ৮%
সূর্যমুখী বীজ ১০%
ঝিনুক গুড়া ৭%
মোট ১০০%

সতর্কতা

অন্যান্য পাখির তুলনায় টার্কির জন্য বেশি ভিটামিন, প্রোটিন, আমিষ, মিনারেলস দিতে হয়। কোন ভাবেই মাটিতে খাবার সরবরাহ করা যাবে না । সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে ।
প্রজনন ব্যবস্থা
একটি বড় টার্কি পাখির জন্য ৪- ৫ বর্গ ফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে । ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে । ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । একটি মোরগের সঙ্গে ৩ বা ৪ টি মুরগী রাখা যেতে পারে । ডিম সংগ্রহ করে আলাদা জায়গায় রখতে হবে । ডিম প্রদানকালীন সময়ে টার্কিকে আদর্শ খাবার এবং বেশি পানি দিতে হবে ।
বাচ্চা ফুটানো
টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশি করে ।
রোগ বালাই
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা , রানিক্ষেত মাইটস ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি দেখা যায় । পরিবেশ ও খামার অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে ।
টিকা প্রদান
১ম দিন এন ডি ( বি১ স্টেরেইন )
৪ ও ৫ সপ্তাহে ফাউল পক্স
৬ সপ্তাহে এন ডি
৮-১০ সপ্তাহে ফাউল কলেরা
সতর্কতা
কোন অবস্থায় রোগাক্রান্ত পাখিকে টিকা দেয়া যাবে না। টিকা প্রয়োগ করার পূর্বে টিকার গায়ে দেয়া তারিখ দেখে নিবেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ টিকা প্রয়োগ করবেন না ।
এছাড়া নিয়ম মাফিক, পরিচ্ছন্ন খাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক রোগ বালাই এড়িয়ে চলা সম্ভব ।

বাজার সম্ভাবনা

আমাদের দেশে
টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু/ খাসীর মাংস খায়না, টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ-ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার। এবং গরু/ খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।
বাণিজ্যিক খামার করলে এবং মাংস হিসেবে উৎপাদন করতে চাইলে ১৪/১৫ সপ্তাহে একটি টার্কির গড় ওজন হবে ৫/৬ কেজি । ৪০০ টাকা কেজি দর হিসেব করলে একটি টার্কির বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে ২০০০/২৫০০ টাকা। ১৪/১৫ সপ্তাহ পালন করতে সর্বোচ্চ খরচ পরবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা । তাহলে কমপক্ষে একটি টার্কি থেকে ৫০০ টাকা লাভ করা সম্ভব।
বর্তমানে ছোট আকারের খামার করার যে চাহিদা দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী ৩/৪ বছরে কয়েক লাখ টার্কির প্রয়োজন হবে। এবং সে ক্ষেত্রে দাম ও বেশি পাওয়া যাচ্ছে । ৩০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বয়স ও রং ভেদে টার্কির জোড়া কেনা বেচা চলছে ।
টার্কির মাংস রপ্তানী
পৃথিবী বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস রপ্তানী সেই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্রাজিল ২০১৫ সালে ১৩২৯০০ টন টার্কির মাংশ বিদেশে রপ্তানী করে। (সূত্র: ব্রাজিল এসোসিয়েশন অব এনিম্যাল প্রোটিন) । টার্কি পাখির খাদ্য সবুজ ঘাস, শাক লতাপাতা বাংলাদেশে সহজলভ্য। দেশে গড়ে উঠছে অসংখ্য ছোটবড় খামার। তাই বাংলাদেশও টার্কির মাংশ রপ্তানীতে অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন। এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


টার্কি বাচ্চার দাম,
টার্কি মুরগির খাবার, 
টার্কি মুরগির দাম, 
টার্কি মুরগির খামার,
টার্কি মুরগির রোগ,



টার্কি কি?

টার্কি মেলিয়াগ্রিস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের বড় পাখি। এক সময়ের টার্কি বন্য পাখী হলেও এখন তা গৃহে বা ফার্মে পালিত বড় আকারের পাখী । বাচ্চা অবস্থায় এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো। মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো প্রজাতির বুনো টার্কি উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে বসবাস করে। গৃহপালিত টার্কি এই প্রজাতি থেকে ভিন্নতর। অন্য জীবিত প্রজাতির মধ্যে মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা বা চক্ষু আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কি আবাসস্থল হচ্ছে ইউকাতান উপ-দ্বীপের বনাঞ্চলে। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখি রূপে লালন-পালন করা হয়।

কোথা হতে টার্কি আসল

যখন ইউরোপীয়রা প্রথমবারের মতো টার্কিকে আমেরিকায় দেখতে পেয়েছিল, তখন তারা ভুলবশতঃ ভাবল যে পাখিটি এক ধরণের গিনিয়া মুরগি (নুমিডা মেলিয়াগ্রিস)। পরবর্তীকালে তারা তুরস্ক দেশ থেকে মধ্য ইউরোপে পাখিটিকে নিয়ে আসে। গিনিয়া মুরগি বা গিনিয়া ফাউলকে টার্কি ফাউল নামেও ডাকা হয়। তাই, তুরস্ক দেশের নামানুসারে উত্তর আমেরিকার পাখিটির নামকরণ করা হয় টার্কি। ১৫৫০ সালে ইংরেজ নাবিক উইলিয়ামাম স্ট্রিকল্যান্ড টার্কি পাখিকে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন।

পৃথিবীর কোন কোন দেশে টার্কি পাওয়া যায়

এটি সর্বপ্রতশ গৃহে পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায় । কিন্তু বর্তমানে ইউরোপ সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এই পাখী কম- বেশি পালন করা হয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কি পাখির মাংস বেশ জনপ্রিয়। টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে । এর মাংসে প্রোটিন বেশি , চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখীর মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশসমূহে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয় । তাই সবচেয়ে বেশি টার্কি পালন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ডে, ব্রাজিলে । তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যাক্তি উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে । তৈরি হয়েছে ছোট-মাঝারি অনেক খামার। ইলেকট্রনিক মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে বেকার যুবকদের অনেকেই টার্কি পালনে আহগ্রী হয়ে উঠেছেন। কিছু কিছু খামার থেকে টার্কির মাংস বিদেশে রপ্তানীর চেষ্টা চলছে। অচিরেই এ পাখির মাংশ রপ্তানী অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন টার্কি পাখি পালন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে

১। টার্কির মাংস সুস্বাদু এবং মাংস উৎপাদন ক্ষমতাও ব্যাপক ।
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় ।
৩। টার্কি পাখি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে ।
৪। টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারণ এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি শাক, ঘাস,লতাপাতা খেতেও পছন্দ করে ।
৫। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, চর্বি কম । তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে এ পাখির মাংস।
৬। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ ও ফসফরাস থাকে । এ উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায় ।
৭। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলে শরীওে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
৮। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিক পরিমাণে থাকে ।
৯। টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে ।

এক নজরে টার্কি

১। ডিম দেয়া শুরুর বয়স ৩০ সপ্তাহ ।
২। পুরুষ ও স্ত্রীর অনুপাত ১ :৪ অথবা ১:৫ থাকলেই চলে।
৩। বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়।
৪। ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হয় ২৮ দিনে ।
৫। ২০ সপ্তাহে পুরুষ পাখীর গড় ওজন হয় ৬-৭ কেজি এবং স্ত্রী পাখীর ৩-৪ কেজি ।
৬। ১৪ থেকে ১৫ সপ্তাহই পুরুষ পাখির বাজারজাত করনের সঠিক সময়। আর স্ত্রী পাখীর ১৭-১৮ সপ্তাহ ।
পূর্ণাঙ্গ পুরুষ জাতীয় টার্কির মাথা ন্যাড়া থাকে। সাধারণতঃ এর মাথা উজ্জ্বল লাল রঙের হয়। কখনো কখনো সাদা কিংবা উজ্জ্বল নীলাভ রঙেরও হয়ে থাকে থাকে। পুরুষ টার্কি পাখি গবলার বা টম নামেও পরিচিত। এগুলো গড়ে লম্বায় ১৩০ সে.মি. বা ৫০ ইঞ্চি হয়। গড়পড়তা ওজন ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড হতে পারে। কিন্তু স্ত্রী জাতীয় টার্কি সাধারণতঃ পুরুষ পাখির তুলনায় ওজনে অর্ধেক হয়। বন্য টার্কি আত্মরক্ষার্থে দ্রুত দৌড়িয়ে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু এটি স্বল্প দূরত্বে উড়তে পারে।

ডিম উৎপাদন

সাধারণত ৩০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে । প্রতিটি স্ত্রী জাতীয় টার্কি প্রতিবাওে ৮ থেকে ১৫টি ছোট ছোট দাগের বাদামী বর্ণাকৃতির ডিম পাড়ে। ডিমের আকার আমাদের দেশের হাঁসের ডিমের আকৃতির হয়ে থাকে। ২৮ দিন অন্তর ডিম ফুটে বাচ্চা টার্কি জন্মায়।
প্রয়োজনীয় আলো বাতাস, পরিষ্কার পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হলে বছরে ৮০-১০০ ডিম দিয়ে থাকে । ৬০-৭০ শতাংশ টার্কি মুরগী বিকেল বেলায় ডিম দেয় ।

টার্কি লালন পালন

শেড
টিন, ছন, খড়ের ছাদ দেয়া ঘর বা কনক্রিট দালানে টার্কি পাখি পালন করা যায়। টার্কি পাখি মুক্ত অবস্থায় ও আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা যায় ।
একটি টার্কির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার তালিকা নিচে দেয়া হলো
বয়স জায়গা (ব.ফু) খাদ্যের পাত্র (সে.মি.) পানির পাত্র (সে.মি.)
০-৪ সপ্তাহ ১.২৫ ব.ফু ২.৫ সে.মি. ১.৫ সে.মি.
৫-১৬ সপ্তাহ ২.৫ ব.ফু ৫.০সে.মি. ২.৫ সে.মি.
১৬-১৯ সপ্তাহ ৪.০ ব.ফু ৬.৫ সে.মি. ২.৫ সে.মি.
প্রজননক্ষম ৫.০ ব.ফু ৭.৫ সে.মি. ২.৫ সে.মি.
লিটার ব্যবস্থাপনা
এই পদ্ধতিতে টার্কির জন্য সহজলভ্য দ্রব্য ব্যাবহার করা যায় । যেমন নারিকেলের ছোবড়া, পূর্ণ তুষ (কেনো ভাবেই ধানের কুড়া নয়) । প্রথমে ২-৩ ইঞ্চি পুরু লিটার তৈরি করতে হয় । পরে আস্তে আস্তে আরো উপাদান যোগ করে ৩ – ৪ ইঞ্চি করলে ভালো হয় । লিটারে সব সময় শুকনো দ্রব্য ব্যবহার করতে হবে । ভিজা লিটার তুলে সেখানে আবার শুকনো লিটার দিয়ে পূর্ণ করতে হবে ।
টার্কি পাখির কি খায়
বন্য টার্কি সাধারণতঃ বনভূমিতে পানির কাছাকাছি এলাকায় থাকতেই বেশি পছন্দ করে। ফসলের বীজ, পোকামাকড় এবং মাঝেমাঝে ব্যাঙ কিংবা টিকটিকি খেয়েও এরা জীবনধারণ করেন।
গৃহপালিত বা খামারে যারা টার্কি পালন করছেন তারা মোট খাবারের ৫০ ভাগ সবুজ ঘাস, শাক (পালং, সরিষা, কলমি, হেলেঞ্চা, সবুজ ডাটা, কচুরিপানা দিবেন। একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০- ১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০- ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে । এছাড়া বয়লার বা লেয়ার মুরগীর খাবারও এরা খেয়ে থাকে।
সতর্কতা: শাকে অনেক সময় কীটনাশক থাকে। তাই শাক দেয়ার আগে এগুলো এক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর তা কেটে খাওয়াতে হবে।
টার্কির খাবার সরবরাহের জন্য দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় । যেমন ম্যাশ ফিডিং ও পিলেট ফিডিং ।
একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো:
ধান ২০%
গম ২০%
ভুট্টা ২৫%
সয়াবিন মিল ১০%
ঘাসের বীজ ৮%
সূর্যমুখী বীজ ১০%
ঝিনুক গুড়া ৭%
মোট ১০০%

সতর্কতা

অন্যান্য পাখির তুলনায় টার্কির জন্য বেশি ভিটামিন, প্রোটিন, আমিষ, মিনারেলস দিতে হয়। কোন ভাবেই মাটিতে খাবার সরবরাহ করা যাবে না । সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে ।
প্রজনন ব্যবস্থা
একটি বড় টার্কি পাখির জন্য ৪- ৫ বর্গ ফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে । ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে । ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । একটি মোরগের সঙ্গে ৩ বা ৪ টি মুরগী রাখা যেতে পারে । ডিম সংগ্রহ করে আলাদা জায়গায় রখতে হবে । ডিম প্রদানকালীন সময়ে টার্কিকে আদর্শ খাবার এবং বেশি পানি দিতে হবে ।
বাচ্চা ফুটানো
টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশি করে ।
রোগ বালাই
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা , রানিক্ষেত মাইটস ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি দেখা যায় । পরিবেশ ও খামার অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে ।
টিকা প্রদান
১ম দিন এন ডি ( বি১ স্টেরেইন )
৪ ও ৫ সপ্তাহে ফাউল পক্স
৬ সপ্তাহে এন ডি
৮-১০ সপ্তাহে ফাউল কলেরা
সতর্কতা
কোন অবস্থায় রোগাক্রান্ত পাখিকে টিকা দেয়া যাবে না। টিকা প্রয়োগ করার পূর্বে টিকার গায়ে দেয়া তারিখ দেখে নিবেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ টিকা প্রয়োগ করবেন না ।
এছাড়া নিয়ম মাফিক, পরিচ্ছন্ন খাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক রোগ বালাই এড়িয়ে চলা সম্ভব ।

বাজার সম্ভাবনা

আমাদের দেশে
টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু/ খাসীর মাংস খায়না, টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ-ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার। এবং গরু/ খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।
বাণিজ্যিক খামার করলে এবং মাংস হিসেবে উৎপাদন করতে চাইলে ১৪/১৫ সপ্তাহে একটি টার্কির গড় ওজন হবে ৫/৬ কেজি । ৪০০ টাকা কেজি দর হিসেব করলে একটি টার্কির বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে ২০০০/২৫০০ টাকা। ১৪/১৫ সপ্তাহ পালন করতে সর্বোচ্চ খরচ পরবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা । তাহলে কমপক্ষে একটি টার্কি থেকে ৫০০ টাকা লাভ করা সম্ভব।
বর্তমানে ছোট আকারের খামার করার যে চাহিদা দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী ৩/৪ বছরে কয়েক লাখ টার্কির প্রয়োজন হবে। এবং সে ক্ষেত্রে দাম ও বেশি পাওয়া যাচ্ছে । ৩০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বয়স ও রং ভেদে টার্কির জোড়া কেনা বেচা চলছে ।
টার্কির মাংস রপ্তানী
পৃথিবী বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস রপ্তানী সেই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্রাজিল ২০১৫ সালে ১৩২৯০০ টন টার্কির মাংশ বিদেশে রপ্তানী করে। (সূত্র: ব্রাজিল এসোসিয়েশন অব এনিম্যাল প্রোটিন) । টার্কি পাখির খাদ্য সবুজ ঘাস, শাক লতাপাতা বাংলাদেশে সহজলভ্য। দেশে গড়ে উঠছে অসংখ্য ছোটবড় খামার। তাই বাংলাদেশও টার্কির মাংশ রপ্তানীতে অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন। এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


টার্কি বাচ্চার দাম,
টার্কি মুরগির খাবার, 
টার্কি মুরগির দাম, 
টার্কি মুরগির খামার,
টার্কি মুরগির রোগ,



আরো পড়ুন>

সৌখিনতা বশত টার্কি পালন করুন | Pet Turkey Hen For Amateur


আদিব সাহেবের ছেলেবেলা থেকেই পশু পাখীর প্রতি অদম্য ঝোঁক। এটা সে পেয়েছে জিন এবং ডিএনএ এর কল্যাণে বংশগত ভাবে। কারন তার দাদা একসময় শখের বশে কবুতর পালতেন। তার বাবা শৈশবে গ্রামের হেন কোন বন-বাদার নেই যেখানে পাখীর ছানা সংগ্রহের চেষ্টায় ধাপিয়ে বেড়াননি।নিজের বাবাকে দেখে কৈশরে এসে কবুতরের প্রেমে পরে যান তার বাবা। কিন্তু পারিবারের সদস্যদের চাপে তা আর বেশী দূর এগোতে পারেনি।
আদিব সাহেবের বাবার মুখে শুনা ছেলেবেলায় যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১.৫ বছর, সেই সময়ই সে মুরগী, কবুতর দেখলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। পাড়ার কেউ যদি কোলে নিয়ে আদর করতে চাইত খুব সহজে সে তার কোলে যেতনা। কিন্তু কেউ যদি মুরগীর ছোট ছানা নিয়ে আসতো অমনি সে ধরতে যেত এবং কোলে যেত। বাল্যকালে সব বাবা-মারা যখন তাদের বাচ্চাদের “টম এন্ড জেরী” দেখিয়ে খাবার খাওয়াত, আদিব সাহেব তখন ডিসকভারী বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেল ছাড়লে হা করে তাকিয়ে দেখত।
আদিব সাহেব যখন কৈশোরে পৌছল তখন পরিবারের শত অনিচ্ছা সত্যেও সে কিছু কবুতর কিনেই ফেলল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারের তীব্র বাঁধায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে এই অজুহাতে সবকিছু পন্ড হয়ে যায়। বাধ্য হন তিনি সব কবুতর বিক্রি করে দিতে।
কিন্তু আদিব সাহেবের অবস্থা হচ্ছে সেই চিরচেনা গানের লিরিক-“মানুষ আমি আমার কেন পাখীর মত মন, তাইরে নাইরে করে কাটে সারাটি জীবন”। বিশ্ববিদ্যালয়েই যাক আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায়ই যাক তার নজর থাকে আকাশের দিকে। কোথায় একটি কবুতর উড়ছে, কোন বাসার ছাদে একটি সুদৃশ্য বাম আছে, কোন মহল্লার কোন বাসা থেকে পাখীর কিচির মিচির শব্দ ভেসে আসে।
বিভিন্ন চ্যানেলের কৃষিভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো তার খুব ভাল লাগতো। এক শীতের অলস দুপুরে ভাত ঘুমের প্রস্তুতি নিতে নিতে টিভির রিমোট ঘুরাতে ঘুরাতে হঠাৎ তার চোখে পরল অদ্ভূত সুন্দর এক ভীনদেশী পাখী যা বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সারা ফেলছে। ফ্রেন্সকাট দাড়ি, মাথার মধ্যভাগ দিয়ে সিথী এক নওজোয়ান নাম তার টার্কি মিরাজ, সে টার্কি পালণ সম্পর্কে কথা বলছে। আদিব সাহেব ভাবতে থাকে টার্কি মিরাজ সেটা আবার কেমন নাম ? কৌতুহল মেটাতে গিয়ে সে জানতে পারল ভিনদেশী পাখী টার্কিকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি এনে দেয়ায় তার নামের টাইটেল হয়ে গেছে টার্কি মিরাজ।
আদিব সাহেবের অসম্ভব ভাল লেগে যায় এই টার্কি নামক পাখীটাকে। যেমনি বাহারী দেখতে, তেমনি তার আকার। আদিব সাহেবের তখন অবস্থা এমন হল যে- “তোরা যে যাই বলিস ভাই, আমার কিন্তু টার্কি এখন চাই”। সৌখিনতা যার রক্তে মিশে আছে তাকে আর কতদিন ঠেকিয়ে রাখবে পরিবার। সৌখিনতার তীব্র মানসিকতা নিয়ে জন্ম নেয়া আদিব সাহেব জীবনে কোনদিনও কোন প্রাণী লালণ পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র শখের বসে হুট করে একদিন ফেসবুকের কল্যাণে অল্পকিছু টার্কি জোগাড় করেই ফেলল।
কিন্তু হায় সে টার্কিগুলো রাখবে কোথায় ? বাড়ির ছাদে নাকি চিলে কোঠায় ? ভেবে দেখে সিড়ির নিচেও কিছু জায়গা আছে। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিল চিলে কোঠার ফ্লোরে একটি খাচায় রাখবে টার্কির বাচ্চা গুলো। কিন্তু আবার চিন্তা বাচ্চা পাখীর জন্য কি ধরনের খাবার উপযোগী সেটা নিয়েও ভাবনার শেষ নেই।পরিবারের সদস্যরা এবং কৌতুহল বশত প্রতিবেশীরা তার আজব পাখী দেখতে ভীড় করল। এবং দিন দিন ভীড় বাড়তেই লাগল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই টার্কি গুলোর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে লাগল।
• ঝিম ধরে বসে থাকে খাবার খায়না।
• নাক মুখ ফুলে গেল।
• চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।
• তীব্র শ্বাস কষ্ট হতে লাগল।
আদিব সাহেব অবস্থা সংকটময় দেখে ফেসবুকে টার্কির কিছু গ্রুপে টার্কির ছবিসহ হেল্প পোষ্ট দিল।
কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কমেন্টের পর কমেন্টে বিভিন্ন মেডিসিন আর ব্যবস্থাপত্রের হিড়িক পরে গেল। এ বলে এটা খাওয়ালে ভাল হবে ও বলে ওটা খাওয়ালে ভাল হবে। আদিব সাহেব কোনকিছু না বুঝেই কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় সকলের দেয়া ব্যবস্থাপত্র গুলো প্রয়োগ করে ফেলল। অবস্থা দিন দিন আরো গুরুতর হতে লাগল। অবশেষে টার্কিগুলো একটার পর একটা মরতে লাগল।
আদিব সাহেব শখের অকাল মৃত্যু হওয়ায় দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে একটি স্যাড পোষ্ট দিল। আর এক শ্রেণীর স্বার্থলোভী অতিউৎসাহী ব্যক্তিবর্গ আদিব সাহেবের ভুল গুলো খুজে বের না করে তার শখের অকাল মৃত্যকে উপজীব্য করে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক স্বার্থে গলাবাজী, চাপাবাজী, দলবাজী আর নোংরা প্রতিযোগীতায় নেমে পরল।
----
আসুন আমরা এখন দেখে নেই আদিব সাহেবের ভুল গুলো কি ছিলঃ
• তীব্র সৌখিনতার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও কোন প্রাণী, বিশেষ করে পাখী জাতীয় প্রাণী পালণের কোন অভিজ্ঞতাই তার ছিলনা।
• পাখীর বাসস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারনা তার ছিলনা।
• পাখীর খাবার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও তার স্বচ্ছ ধারনা ছিলনা।
• জৈব নিরাপত্তা সম্পর্কে তার কোন ধারনা ছিলনা। বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশিরা কোনরকম জীবানুনাশক স্প্রে না করেই তার পাখী গুলোর কাছে আসে যা রোগ ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট উপযোগী।
• আদিব সাহেব টার্কি কিনেছিল শীতকালে তার উপর আবার রেখে ছিল চিলে কোঠায়। বাচ্চাকে কৃত্রিম তাপ কিভাবে কতটুকু দিতে হয় সেটা সে জানতনা।
• শীতকালে চিলে কোঠায় রাতে তাপমাত্রা একদম কমে যায় ফলে তীব্র শীতে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যায়।
• ফ্লোর ছিল স্যাতস্যাতে আর ফ্লোর থেকেও ঠান্ডা উঠত।
• সে ফেসবুকে হেল্প পোষ্ট দিলে অনেকে অনেক রকম মেডিসিনের নাম বলে আর আদিব সাহেব কিছু না বুঝেই সেগুলো তার পাখীর উপর প্রয়োগ করেন। ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় ও অতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগের ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বাচ্চাগুলো নির্জীব হয়ে পরে।
শিক্ষাঃ
(১) শখের বশে কোন কিছু পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া টার্কি কিনলে আপনার অবস্থাও আদিব সাহেবের মত হতে পারে।
(২) টার্কির বাচ্চা ক্রয়ের পূর্বে এর খাবার ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান, জৈব নিরাপত্তা, রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নিন।
(৩) ছোট বাচ্চার ব্রুডিং সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করুন।
(৪) জৈব নিরাপত্তার উপর স্টাডি করুন ও প্রয়োগ করুন।
(৫) কথায় আছে নানা ঋষির নানা মত। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করা কিছুতেই ঠিক নয়।
(৬) অধিক সন্নাসীতে গাজন নষ্ট। আপনি ভিন্ন জনের পরামর্শ গ্রহণ না করে পশু চিকিৎসক অথবা কোন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করুন।
(৭) টার্কি পালণের আগে অভিজ্ঞ ভাইদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের ফার্ম ভিজিট করুন।
(৮) ভার্চুয়াল মাধ্যম হোক আর ম্যানুয়ালই হোক জ্ঞানার্জন করুন।
(৯) কোন কারনে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগে খুজে বের করুন কেন এমন হল ? নিজের দোষ অন্যের ঘারে চাপিয়ে দেয়ার মনোভাব পরিহার করুন।
(১০) সর্বোপরি মনে রাখবেন অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু নেই।

আদিব সাহেবের ছেলেবেলা থেকেই পশু পাখীর প্রতি অদম্য ঝোঁক। এটা সে পেয়েছে জিন এবং ডিএনএ এর কল্যাণে বংশগত ভাবে। কারন তার দাদা একসময় শখের বশে কবুতর পালতেন। তার বাবা শৈশবে গ্রামের হেন কোন বন-বাদার নেই যেখানে পাখীর ছানা সংগ্রহের চেষ্টায় ধাপিয়ে বেড়াননি।নিজের বাবাকে দেখে কৈশরে এসে কবুতরের প্রেমে পরে যান তার বাবা। কিন্তু পারিবারের সদস্যদের চাপে তা আর বেশী দূর এগোতে পারেনি।
আদিব সাহেবের বাবার মুখে শুনা ছেলেবেলায় যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১.৫ বছর, সেই সময়ই সে মুরগী, কবুতর দেখলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। পাড়ার কেউ যদি কোলে নিয়ে আদর করতে চাইত খুব সহজে সে তার কোলে যেতনা। কিন্তু কেউ যদি মুরগীর ছোট ছানা নিয়ে আসতো অমনি সে ধরতে যেত এবং কোলে যেত। বাল্যকালে সব বাবা-মারা যখন তাদের বাচ্চাদের “টম এন্ড জেরী” দেখিয়ে খাবার খাওয়াত, আদিব সাহেব তখন ডিসকভারী বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেল ছাড়লে হা করে তাকিয়ে দেখত।
আদিব সাহেব যখন কৈশোরে পৌছল তখন পরিবারের শত অনিচ্ছা সত্যেও সে কিছু কবুতর কিনেই ফেলল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারের তীব্র বাঁধায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে এই অজুহাতে সবকিছু পন্ড হয়ে যায়। বাধ্য হন তিনি সব কবুতর বিক্রি করে দিতে।
কিন্তু আদিব সাহেবের অবস্থা হচ্ছে সেই চিরচেনা গানের লিরিক-“মানুষ আমি আমার কেন পাখীর মত মন, তাইরে নাইরে করে কাটে সারাটি জীবন”। বিশ্ববিদ্যালয়েই যাক আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায়ই যাক তার নজর থাকে আকাশের দিকে। কোথায় একটি কবুতর উড়ছে, কোন বাসার ছাদে একটি সুদৃশ্য বাম আছে, কোন মহল্লার কোন বাসা থেকে পাখীর কিচির মিচির শব্দ ভেসে আসে।
বিভিন্ন চ্যানেলের কৃষিভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো তার খুব ভাল লাগতো। এক শীতের অলস দুপুরে ভাত ঘুমের প্রস্তুতি নিতে নিতে টিভির রিমোট ঘুরাতে ঘুরাতে হঠাৎ তার চোখে পরল অদ্ভূত সুন্দর এক ভীনদেশী পাখী যা বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সারা ফেলছে। ফ্রেন্সকাট দাড়ি, মাথার মধ্যভাগ দিয়ে সিথী এক নওজোয়ান নাম তার টার্কি মিরাজ, সে টার্কি পালণ সম্পর্কে কথা বলছে। আদিব সাহেব ভাবতে থাকে টার্কি মিরাজ সেটা আবার কেমন নাম ? কৌতুহল মেটাতে গিয়ে সে জানতে পারল ভিনদেশী পাখী টার্কিকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি এনে দেয়ায় তার নামের টাইটেল হয়ে গেছে টার্কি মিরাজ।
আদিব সাহেবের অসম্ভব ভাল লেগে যায় এই টার্কি নামক পাখীটাকে। যেমনি বাহারী দেখতে, তেমনি তার আকার। আদিব সাহেবের তখন অবস্থা এমন হল যে- “তোরা যে যাই বলিস ভাই, আমার কিন্তু টার্কি এখন চাই”। সৌখিনতা যার রক্তে মিশে আছে তাকে আর কতদিন ঠেকিয়ে রাখবে পরিবার। সৌখিনতার তীব্র মানসিকতা নিয়ে জন্ম নেয়া আদিব সাহেব জীবনে কোনদিনও কোন প্রাণী লালণ পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র শখের বসে হুট করে একদিন ফেসবুকের কল্যাণে অল্পকিছু টার্কি জোগাড় করেই ফেলল।
কিন্তু হায় সে টার্কিগুলো রাখবে কোথায় ? বাড়ির ছাদে নাকি চিলে কোঠায় ? ভেবে দেখে সিড়ির নিচেও কিছু জায়গা আছে। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিল চিলে কোঠার ফ্লোরে একটি খাচায় রাখবে টার্কির বাচ্চা গুলো। কিন্তু আবার চিন্তা বাচ্চা পাখীর জন্য কি ধরনের খাবার উপযোগী সেটা নিয়েও ভাবনার শেষ নেই।পরিবারের সদস্যরা এবং কৌতুহল বশত প্রতিবেশীরা তার আজব পাখী দেখতে ভীড় করল। এবং দিন দিন ভীড় বাড়তেই লাগল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই টার্কি গুলোর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে লাগল।
• ঝিম ধরে বসে থাকে খাবার খায়না।
• নাক মুখ ফুলে গেল।
• চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।
• তীব্র শ্বাস কষ্ট হতে লাগল।
আদিব সাহেব অবস্থা সংকটময় দেখে ফেসবুকে টার্কির কিছু গ্রুপে টার্কির ছবিসহ হেল্প পোষ্ট দিল।
কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কমেন্টের পর কমেন্টে বিভিন্ন মেডিসিন আর ব্যবস্থাপত্রের হিড়িক পরে গেল। এ বলে এটা খাওয়ালে ভাল হবে ও বলে ওটা খাওয়ালে ভাল হবে। আদিব সাহেব কোনকিছু না বুঝেই কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় সকলের দেয়া ব্যবস্থাপত্র গুলো প্রয়োগ করে ফেলল। অবস্থা দিন দিন আরো গুরুতর হতে লাগল। অবশেষে টার্কিগুলো একটার পর একটা মরতে লাগল।
আদিব সাহেব শখের অকাল মৃত্যু হওয়ায় দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে একটি স্যাড পোষ্ট দিল। আর এক শ্রেণীর স্বার্থলোভী অতিউৎসাহী ব্যক্তিবর্গ আদিব সাহেবের ভুল গুলো খুজে বের না করে তার শখের অকাল মৃত্যকে উপজীব্য করে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক স্বার্থে গলাবাজী, চাপাবাজী, দলবাজী আর নোংরা প্রতিযোগীতায় নেমে পরল।
----
আসুন আমরা এখন দেখে নেই আদিব সাহেবের ভুল গুলো কি ছিলঃ
• তীব্র সৌখিনতার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও কোন প্রাণী, বিশেষ করে পাখী জাতীয় প্রাণী পালণের কোন অভিজ্ঞতাই তার ছিলনা।
• পাখীর বাসস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারনা তার ছিলনা।
• পাখীর খাবার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও তার স্বচ্ছ ধারনা ছিলনা।
• জৈব নিরাপত্তা সম্পর্কে তার কোন ধারনা ছিলনা। বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশিরা কোনরকম জীবানুনাশক স্প্রে না করেই তার পাখী গুলোর কাছে আসে যা রোগ ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট উপযোগী।
• আদিব সাহেব টার্কি কিনেছিল শীতকালে তার উপর আবার রেখে ছিল চিলে কোঠায়। বাচ্চাকে কৃত্রিম তাপ কিভাবে কতটুকু দিতে হয় সেটা সে জানতনা।
• শীতকালে চিলে কোঠায় রাতে তাপমাত্রা একদম কমে যায় ফলে তীব্র শীতে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যায়।
• ফ্লোর ছিল স্যাতস্যাতে আর ফ্লোর থেকেও ঠান্ডা উঠত।
• সে ফেসবুকে হেল্প পোষ্ট দিলে অনেকে অনেক রকম মেডিসিনের নাম বলে আর আদিব সাহেব কিছু না বুঝেই সেগুলো তার পাখীর উপর প্রয়োগ করেন। ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় ও অতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগের ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বাচ্চাগুলো নির্জীব হয়ে পরে।
শিক্ষাঃ
(১) শখের বশে কোন কিছু পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া টার্কি কিনলে আপনার অবস্থাও আদিব সাহেবের মত হতে পারে।
(২) টার্কির বাচ্চা ক্রয়ের পূর্বে এর খাবার ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান, জৈব নিরাপত্তা, রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নিন।
(৩) ছোট বাচ্চার ব্রুডিং সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করুন।
(৪) জৈব নিরাপত্তার উপর স্টাডি করুন ও প্রয়োগ করুন।
(৫) কথায় আছে নানা ঋষির নানা মত। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করা কিছুতেই ঠিক নয়।
(৬) অধিক সন্নাসীতে গাজন নষ্ট। আপনি ভিন্ন জনের পরামর্শ গ্রহণ না করে পশু চিকিৎসক অথবা কোন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করুন।
(৭) টার্কি পালণের আগে অভিজ্ঞ ভাইদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের ফার্ম ভিজিট করুন।
(৮) ভার্চুয়াল মাধ্যম হোক আর ম্যানুয়ালই হোক জ্ঞানার্জন করুন।
(৯) কোন কারনে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগে খুজে বের করুন কেন এমন হল ? নিজের দোষ অন্যের ঘারে চাপিয়ে দেয়ার মনোভাব পরিহার করুন।
(১০) সর্বোপরি মনে রাখবেন অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু নেই।
আরো পড়ুন>