Latest Products
Showing posts with label টার্কি খামার. Show all posts
Showing posts with label টার্কি খামার. Show all posts

টার্কি পালন: অধিক লাভের হাতছানি | Turkey Murgi rearing In less time More profits


দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।
অংশীদারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেন সেলিম মিয়া। খামারের নাম দেন কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। সেলিমের পাশাপাশি আছেন আরও তিনজন অংশীদার। জমি নির্ধারণ, টার্কি বাচ্চা কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বমোট বিনিয়োগ করছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই খামারে এখন টার্কি মুরগির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সপ্তাহজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।
কথা হয় কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেনের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা গত বছর ভারত থেকে মাত্র ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলি। এরপর এই বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০টি। তবে এখন পর্যন্ত ফার্মের মুরগির মতো একসঙ্গে দুই হাজার বা তার থেকেও বেশি বাচ্চা ফুটানোর মতো অবস্থা হয়নি টার্কির। আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’
টার্কির দরদাম
দামের ব্যাপারে আকরাম হোসেন  বলেন, ‘আমরা যখন গত বছর কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম তিন হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ১০ হাজার টাকা।’
টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। এই ব্যাপারে ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’
আকরাম জানান, তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।
বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।
অদুর ভবিষ্যতে বয়লার মোরুগের স্হান দখল করবে টার্কি, কিভাবে?
আমাদের দেশি ব্রিড টার্কি ৬ মাসে প্রায় ৬/৭ কেজি ওজন হয়। ৬ কেজি ৩৫০ টাকা দরে= ২১০০/- টাকা।
খরচঃ- বাচ্চা ক্রয় করেঃ
প্রথম তিন মাস খাবার কম খায়,
দ্বিতীয় তিন মাস বেশি খায়।
গড় হিসেবে দৈনিক ৩.৫০ টাকা,
খাবার -----৩.৫০*১৮০=৬৩০/-
ঔষধ------------------------=১৫০/-
বাচ্চা ১৫ দিন-- ---------=৩০০/-
লেবার ---------------------=১০০/-
----------------------------------------------
মোট------------------------=১১৮০/-
বাচ্চা না কিনলে=৮৮০/-
২১০০-১১৮০=৯২০/- লাভ।
কোন অনুষ্ঠানে বয়লার মোরুগ অনেকেই খেতে চাইনা, সেখানে টার্কি পারফেক্ট।
এখন দরকার প্রচার ও সচেতনতা।

দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।
অংশীদারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেন সেলিম মিয়া। খামারের নাম দেন কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। সেলিমের পাশাপাশি আছেন আরও তিনজন অংশীদার। জমি নির্ধারণ, টার্কি বাচ্চা কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বমোট বিনিয়োগ করছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই খামারে এখন টার্কি মুরগির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সপ্তাহজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।
কথা হয় কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেনের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা গত বছর ভারত থেকে মাত্র ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলি। এরপর এই বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০টি। তবে এখন পর্যন্ত ফার্মের মুরগির মতো একসঙ্গে দুই হাজার বা তার থেকেও বেশি বাচ্চা ফুটানোর মতো অবস্থা হয়নি টার্কির। আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’
টার্কির দরদাম
দামের ব্যাপারে আকরাম হোসেন  বলেন, ‘আমরা যখন গত বছর কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম তিন হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ১০ হাজার টাকা।’
টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। এই ব্যাপারে ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’
আকরাম জানান, তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।
বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।
অদুর ভবিষ্যতে বয়লার মোরুগের স্হান দখল করবে টার্কি, কিভাবে?
আমাদের দেশি ব্রিড টার্কি ৬ মাসে প্রায় ৬/৭ কেজি ওজন হয়। ৬ কেজি ৩৫০ টাকা দরে= ২১০০/- টাকা।
খরচঃ- বাচ্চা ক্রয় করেঃ
প্রথম তিন মাস খাবার কম খায়,
দ্বিতীয় তিন মাস বেশি খায়।
গড় হিসেবে দৈনিক ৩.৫০ টাকা,
খাবার -----৩.৫০*১৮০=৬৩০/-
ঔষধ------------------------=১৫০/-
বাচ্চা ১৫ দিন-- ---------=৩০০/-
লেবার ---------------------=১০০/-
----------------------------------------------
মোট------------------------=১১৮০/-
বাচ্চা না কিনলে=৮৮০/-
২১০০-১১৮০=৯২০/- লাভ।
কোন অনুষ্ঠানে বয়লার মোরুগ অনেকেই খেতে চাইনা, সেখানে টার্কি পারফেক্ট।
এখন দরকার প্রচার ও সচেতনতা।
আরো পড়ুন>

টার্কি এবং কপিতয় মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী সিন্ডিকেট | Turkey Bird And false information provider Syndicate


ফেসবুকের সর্বত্র ইদানিং দেখা যাচ্ছে টার্কির ওজন নিয়ে বেশ কিছু লোক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।
টার্কি নাকি ৩০-৩৫ কেজী হয়?
আসলে ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় বন্য টার্কি টি ৩৭.৬ পাউন্ড যা কেজীতে রুপান্তরিত করলে হবে ১৭ কেজী ২০০ গ্রাম।
(1Poung = 0.453592 Kg,
37.6 Pound = 17.200 kg)
(নিচে ছবি দেখুন।
প্রয়োজনে ওয়ার্ল্ড বিগ টার্কি
লিখে সার্চ দিন)
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বানিজ্যিক খামার গুলোতে তারা সঠিক খাদ্য ব্যবস্থা, আবহাওয়া ও বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০-২২ কেজি পর্যন্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও টার্কি আমাদের দেশের পাখি না তবুও সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক লালন পালনের মাধ্যমে টার্কিকে আমাদের আবহাওয়ায় সর্বোচ্চ ১৬-১৮ কেজী করা সম্ভব।
হাইব্রীড, হাইব্রীড করে মুখে ফেনা তোলা চতুর মানুষগুলো আমাদের দেশের বেকার ও দরিদ্র মানুষ গুলোকে ভূল তথ্য প্রদান করে তাদের থেকে মোটা অক্ঙের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।
দীর্ঘ প্ররিশ্রম, শ্রম এবং মেধা দিয়ে এদেশের সৎ এবং সত্যিকার খামারিগন যখন পযার্প্ত টার্কি উৎপাদনের মাধ্যমে টার্কির দাম সহনশীল পর্যায় নিয়ে এসে বাজার তৈরী করতে সফল হচ্ছে ঠিক তখনই মুষ্ঠিময় সিন্ডিকেট বিভিন্ন দেশ থেকে টার্কি কালেক্ট করে ৩০-৩৫ কেজী হবে বলে চড়া দামে টার্কি বিক্রি করে যাচ্ছে।
তাদের কাছ থেকে ক্রেতা হিসাবে যারা কিনছে তারা কি আদৌ কোন খামারী?? বা টার্কি খামার করে লাভবান হবে???
আগুন দেখলে যেভাবে কিছু উই পোকা না বুঝেই আগুনে ঝাপ দেয় ঠিক সেভাবেই এসব ক্রেতারা চড়া দামে এসব নিয়ে যাচ্ছে।
একজন খামারীর আসল চরিত্র হচ্ছে নিজের যতটুকু আছে তা দিয়েই সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাবে।
বিদেশ থেকে আমদানি করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা কোন খামারীর চরিত্র না।
প্রয়োজনে যদি জাত উন্নয়ন করতে হয় তা নিজের জন্য এনে তা থেকে উৎপাদন করা যায় মাত্র।
টার্কি আমাদের দেশের জন্য সত্যিই আশির্বাদ।
আমি নিজে একজন বেকার থেকে কিছুটা আত্নকর্মসংস্থান করতে পেরেছি। তাহলে নিশ্চয় শিক্ষিত বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সামান্য পুজি ও সঠিক প্রশিক্ষন নিয়ে এ সেক্টরে আসলে সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য ভাল কিছু করা সম্ভব।
একজনকে মক্কেল বানিয়ে সবাইকে ট্যাগ করে তার ছবি সহ পোষ্ট করে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?? আমাদের মত ছোট খামারীদের নিকট ভালোবেসে যে পরিমান টার্কি খামারী এবং টার্কি পালন ইচ্ছুকরা এসে ভিড় জমায় তা তো কখনো ফেবুতে পোষ্ট করে কাউকে ট্যাগাইতে যাই না।
টার্কি পালুন, নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরী করুন।
পোষ্টটি শেয়ারের মাধ্যমে সকল টার্কি প্রেমীদের সতর্ক করে দিন।

ফেসবুকের সর্বত্র ইদানিং দেখা যাচ্ছে টার্কির ওজন নিয়ে বেশ কিছু লোক মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।
টার্কি নাকি ৩০-৩৫ কেজী হয়?
আসলে ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বড় বন্য টার্কি টি ৩৭.৬ পাউন্ড যা কেজীতে রুপান্তরিত করলে হবে ১৭ কেজী ২০০ গ্রাম।
(1Poung = 0.453592 Kg,
37.6 Pound = 17.200 kg)
(নিচে ছবি দেখুন।
প্রয়োজনে ওয়ার্ল্ড বিগ টার্কি
লিখে সার্চ দিন)
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বানিজ্যিক খামার গুলোতে তারা সঠিক খাদ্য ব্যবস্থা, আবহাওয়া ও বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০-২২ কেজি পর্যন্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও টার্কি আমাদের দেশের পাখি না তবুও সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক লালন পালনের মাধ্যমে টার্কিকে আমাদের আবহাওয়ায় সর্বোচ্চ ১৬-১৮ কেজী করা সম্ভব।
হাইব্রীড, হাইব্রীড করে মুখে ফেনা তোলা চতুর মানুষগুলো আমাদের দেশের বেকার ও দরিদ্র মানুষ গুলোকে ভূল তথ্য প্রদান করে তাদের থেকে মোটা অক্ঙের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।
দীর্ঘ প্ররিশ্রম, শ্রম এবং মেধা দিয়ে এদেশের সৎ এবং সত্যিকার খামারিগন যখন পযার্প্ত টার্কি উৎপাদনের মাধ্যমে টার্কির দাম সহনশীল পর্যায় নিয়ে এসে বাজার তৈরী করতে সফল হচ্ছে ঠিক তখনই মুষ্ঠিময় সিন্ডিকেট বিভিন্ন দেশ থেকে টার্কি কালেক্ট করে ৩০-৩৫ কেজী হবে বলে চড়া দামে টার্কি বিক্রি করে যাচ্ছে।
তাদের কাছ থেকে ক্রেতা হিসাবে যারা কিনছে তারা কি আদৌ কোন খামারী?? বা টার্কি খামার করে লাভবান হবে???
আগুন দেখলে যেভাবে কিছু উই পোকা না বুঝেই আগুনে ঝাপ দেয় ঠিক সেভাবেই এসব ক্রেতারা চড়া দামে এসব নিয়ে যাচ্ছে।
একজন খামারীর আসল চরিত্র হচ্ছে নিজের যতটুকু আছে তা দিয়েই সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাবে।
বিদেশ থেকে আমদানি করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা কোন খামারীর চরিত্র না।
প্রয়োজনে যদি জাত উন্নয়ন করতে হয় তা নিজের জন্য এনে তা থেকে উৎপাদন করা যায় মাত্র।
টার্কি আমাদের দেশের জন্য সত্যিই আশির্বাদ।
আমি নিজে একজন বেকার থেকে কিছুটা আত্নকর্মসংস্থান করতে পেরেছি। তাহলে নিশ্চয় শিক্ষিত বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সামান্য পুজি ও সঠিক প্রশিক্ষন নিয়ে এ সেক্টরে আসলে সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য ভাল কিছু করা সম্ভব।
একজনকে মক্কেল বানিয়ে সবাইকে ট্যাগ করে তার ছবি সহ পোষ্ট করে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?? আমাদের মত ছোট খামারীদের নিকট ভালোবেসে যে পরিমান টার্কি খামারী এবং টার্কি পালন ইচ্ছুকরা এসে ভিড় জমায় তা তো কখনো ফেবুতে পোষ্ট করে কাউকে ট্যাগাইতে যাই না।
টার্কি পালুন, নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরী করুন।
পোষ্টটি শেয়ারের মাধ্যমে সকল টার্কি প্রেমীদের সতর্ক করে দিন।
আরো পড়ুন>

টার্কি খামারের জৈব নিরাপত্তা Organic safety of turkey farms


আদিব সাহেবের শখের অকালমৃত্যুতে যখন মুষড়ে পরেছিল, ঠিক তখনই এক বন্ধু তাকে একটি ছোট্ট চটি আকারের বই উপহার দেয়। বই পড়ার প্রতি তীব্র আকর্ষণ থকা সত্ত্বেও আদিব সাহেব সেদিন বইটি র্স্পশ করেও দেখেনি।আদিব সাহেবের মন খুবই বিষন্ন। বন্ধুদের আড্ডায়, ঘরে-বাইরে কোথাও তার মন টিকেনা। সারাক্ষণ শুধু চোখে ভেসে উঠে মৃত প্রায় কিছু টার্কির বাচ্চার ছবি। বাচ্চা গুলোর সেই নিঃশ্বাস না নিতে পারার কষ্ট তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, তাহলে কি বাচ্চা গুলোর মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী ? তার লালণ পালনের অদক্ষতার কারনেইতো বাচ্চা গুলো এভাবে চোখের সামনে মরে গেল।
বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। আদিব সাহেব নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়েছে। একদিন হঠাৎ করেই চোখে পরে তার বন্ধুর উপহার দেয়া সেই বইটি।পড়ার টেবিলের এককোনে রাখা বইটিতে ধুলোর স্তর পরে আছে। আদিব সাহেব একটি নেকড়া দিয়ে বইটি মুছে ফেলল। বইটির উপর বড় করে লেখা “তুমিও জিতবে” লেখক শিব খেরা।
অনেকটা কৌতুহল নিয়ে সে বইটি পড়া শুরু করল। কয়েক পৃষ্ঠা পড়তেই তার খুব ভাল লাগতে লাগল। শিব খেরার অসাধারন উপস্থাপনা নেতিবাচক মনোভাবকে ইতিবাচক করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাল তাকে। বইটি পড়ে সে একটি দির্ঘশ্বাস ছাড়ল। Failure of the pillar of success মন্ত্রে দিক্ষীত হয়ে সে আবার শুরু করতে চাইল।
আদিব সাহেব সিদ্ধান্ত নিল একটি খামার করবে। তার স্বপ্নের খামার, ছোট বেলা থেকে লালিত সেই শখের খামার। যেই ভাবা সেই কাজ। আদিব সাহেব খামার করার উপযুক্ত একটি রেডী শেড খুজতে লাগল। কিন্তু ঢাকা শহরে যেখানে মানুষ থাকার মত পর্যাপ্ত জায়গা নেই সেখানে খামার করার মত রেডী শেড সে কোথায় পাবে ? অবশেষে এক বন্ধুর পরামর্শে ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা গাজীপুরে খোঁজ নিতে লাগল এবং খুব সহজেই মাসিক ৭,০০০/- ভাড়ায় (বিদ্যুৎ বিল নিজের) একটি পছন্দসই রেডী শেড পেয়ে গেল। পাবারই কথা কারণ বাংলাদেশের মধ্যে হয়তো গাজীপুরই একমাত্র জেলা যেখানে বড় বড় শেড তৈরী করে জমির মালিক অন্যান্য শহরের বাড়িওয়ালারা যেমন বাড়ি ভাড়া দেয় এখানে তেমন শেড ভাড়া দেয়। শেডটি ছিল আবাসিক এলাকায় এবং চারিদিকে কোন সীমানা প্রাচীর ছিলনা। আদিব সাহেব প্রথম দিনেই দেখল তার ফার্মের আশেপাশে অনেক দেশীয় মুরগী বিচরণ করছে। আদিব সাহেবের মনটা প্রফুল্ল হয়ে উঠল। আহ্ এই না হলে খামার ! একবারে মোক্ষম জায়গা।
এবার তার স্বপ্নের খামারের যাত্রা শুরু। কিন্তু সে আবারো বিপাকে পরে গেল।খামারতো ভাড়া নেয়া হল এখন সে কাজ করার মত দক্ষ লোক পাবে কোথায় ? লোক অনেক পাওয়া যায় কিন্তু খামারে কাজ করার কথা বললেই পিছটান দেয়। অবশেষে একজন লোক চাকরী করতে রাজী হল মাসিক বেতন ১০,০০০/-। আদিব সাহেবের কাজের লোক তার খামারের অতি নিকটেই একটি ভাড়াবাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তিনবেলা বাড়ি থেকেই খেয়ে আসে।
আদিব সাহেব বিভিন্ন জায়গা হতে খুঁজে পেতে তার খামারের জন্য ছোট বড় মিলিয়ে বেশ কিছু টার্কি ও তিতির ক্রয় করে নিয়ে আসল। দেখা যাক এবার কি হয় ?
আদিব সাহেবের খামার কিছুদিন ভালই চলছিল। কিন্তু যখন খামারে আশেপাশের লোকজন জানতে পারল এখানে একটি অদ্ভূত পাখীর খামার গড়ে উঠেছে তখন উৎসুক জনতা ভীড় করতে লাগল। ভীড় দিন দিন বাড়তেই লাগল। এমনকি স্কুলগামী ছেলে মেয়েরাও স্কুলে যাওয়া আসার পথে তার খামার দেখতে ভীড় করতে লাগল। এ যেন একটি মিনি চিড়িয়াখানা। মানুষের পাশাপাশি সেখানে পাক্ষীকুলের সমাগমও বেড়ে গেল। খাবারের লোভে আশেপাশেল গৃহস্থদের হাঁস-মুরগী, কবুতরের সমাগম কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই আদিব সাহেবের টার্কি খামারের পাখী গুলো আবার পূর্বের ন্যায় একটার পর একটা অসুস্থ হতে লাগল। পশু ‍চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ঔষধ প্রয়োগ করে একটা অসুখ সারাতে না সারাতেই আরেক অসুখের আবির্ভাব ঘটতে লাগল। আদিব সাহেব দিশেহারা হয়ে গেল। তবে কি এবারও আদিব সাহেব সফলতার মুখ দেখতে পারবেনা ??
মাস শেষে আদিব সাহেব হিসেব করে দেখল ঔষধ খরচ, খাবার খরচ, কর্মচারীর বেতন, শেড ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল মিলে এক বিশাল খরচের অংক। অপরদিকে তার আউটপুট শূণ্য। প্রতিমাসে সে এক বিরাট অংকের টাকা তার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার করতে লাগল। খুব অল্প দিনের মধ্যেই সে দেনার দায়ে জর্জড়িত হয়ে পরল।
আসুন আমরা এখন দেখে নেই আদিব সাহেবের ভুল গুলো কি কি ছিলঃ
• আদিব সাহেব সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল প্রথমেই মাসিক ৭,০০০/- ভাড়ায় একটি শেড নিয়ে। প্রথম অবস্থায় খামার শুরু করার জন্য মাসিক এত পরিমাণ ভাড়া একটু বেশীই।
• খামারে কাজ করার জন্য আদিব সাহেব একজন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়েছিল। এটি একটা বড় ভুল কারণ খামার কোন মেশিন নয় যে সুইচ টিপলেই প্রোডাকশন হবে। এখানে নিবিড় পরিচর্যা ও দক্ষ লোকের কোন বিকল্প নেই।
• আদিব সাহেবের খামারের কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় বাহিরের হাঁস-মুরগী ও পাখী খাবারের লোভে খামার এলাকায় ভীড় করত ফলে এদের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ সহজেই ছড়িয়ে পরত।
• দর্শনার্থীদের ভীড়ের কারনে খামারের টার্কি পাখীগুলো সবসময় আতংকে থাকত আর তাছাড়া মানুষের অবাদ চলাচল রোগ ছড়ানোর অন্যতম বাহণ।
• আদিব সাহেবের কর্মচারী খামারকে অরক্ষিত রেখেই ৩ বেলা বাড়িতে খেতে যেত ও দির্ঘ সময় খামারের বাহিরে থাকায় টার্কি পাখীগুলোর পরিচর্যা ও অসুস্থ পাখীর সেবায় ঘাটতি হত।
• খামারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদিব সাহেব তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হাত পেতেছিল যা কখনই কাম্য নয়। কারণ এতে আত্মীয়তার সম্পর্কের অবনতি হয়।
শিক্ষাঃ
(১) নতুন অবস্থায় খামার করতে চাইলে প্রথমে ছোট্ট পরিসরে চেষ্টা করতে হবে নিজের জমিতে যতটা সম্ভব খরচ কমিয়ে শেড তৈরী করা যাতে মাসিক ভাড়া দিতে না হয়।
(২)টার্কি খামার কখনই আবাসিক এলাকায় করা ঠিক নয়।
(৩) টার্কি খামারে কাজ করার জন্য অদক্ষ লোক কখনই নিয়োগ দেয়া যাবেনা।
(৪) খামারের চারপাশে বিচরণের জায়গার বাহিরাংশে প্রাচীর অথবা লোহার তারের বেড়া দিতে হবে যাতে বাহিরের লোকজন ও পশু পাখী খামার এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।
(৫) টার্কি খামারের বাহির প্রাচীরের গেট সবসময় বন্ধ রাখতে হবে।
(৬)টার্কি খামারে নিবিড় পরিচর্যার বিকল্প কিছু নেই। এজন্য খামার কর্মচারীর সার্বক্ষণিক খামার এলাকায় থাকতে হবে। নিতান্ত বাহিরে যেতেই হলে বিকল্প কোন লোক রেখে যেতে হবে।
(৭) দর্শনার্থীদের অবাদ প্রবেশের সুযোগ দেয়া যাবেনা। নিতান্তই যদি দিতে হয় তাহলে জীবানুনাশক স্প্রে করে ও খামারের নির্ধারিত এ্যাপ্রোন, জুতা ব্যবহার করতে হবে।
(৮) খামার এলাকা প্রতিদিন জীবানুনাশক স্প্রে করতে হবে।
(৯) খামারের মুল ফটকের সামনে জীবানুনাশক ফুট টাব তৈরী করতে হবে।
(১০) কোন টার্কি খামার হতে বা হাট হতে টার্কি পাখী সংগ্রহ করলে প্রথমে অন্য জায়গায় রেখে কিছুদিন অবজার্ভ করে পরে খামারে ডুকাতে হবে।



আদিব সাহেবের শখের অকালমৃত্যুতে যখন মুষড়ে পরেছিল, ঠিক তখনই এক বন্ধু তাকে একটি ছোট্ট চটি আকারের বই উপহার দেয়। বই পড়ার প্রতি তীব্র আকর্ষণ থকা সত্ত্বেও আদিব সাহেব সেদিন বইটি র্স্পশ করেও দেখেনি।আদিব সাহেবের মন খুবই বিষন্ন। বন্ধুদের আড্ডায়, ঘরে-বাইরে কোথাও তার মন টিকেনা। সারাক্ষণ শুধু চোখে ভেসে উঠে মৃত প্রায় কিছু টার্কির বাচ্চার ছবি। বাচ্চা গুলোর সেই নিঃশ্বাস না নিতে পারার কষ্ট তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, তাহলে কি বাচ্চা গুলোর মৃত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী ? তার লালণ পালনের অদক্ষতার কারনেইতো বাচ্চা গুলো এভাবে চোখের সামনে মরে গেল।
বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। আদিব সাহেব নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়েছে। একদিন হঠাৎ করেই চোখে পরে তার বন্ধুর উপহার দেয়া সেই বইটি।পড়ার টেবিলের এককোনে রাখা বইটিতে ধুলোর স্তর পরে আছে। আদিব সাহেব একটি নেকড়া দিয়ে বইটি মুছে ফেলল। বইটির উপর বড় করে লেখা “তুমিও জিতবে” লেখক শিব খেরা।
অনেকটা কৌতুহল নিয়ে সে বইটি পড়া শুরু করল। কয়েক পৃষ্ঠা পড়তেই তার খুব ভাল লাগতে লাগল। শিব খেরার অসাধারন উপস্থাপনা নেতিবাচক মনোভাবকে ইতিবাচক করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাল তাকে। বইটি পড়ে সে একটি দির্ঘশ্বাস ছাড়ল। Failure of the pillar of success মন্ত্রে দিক্ষীত হয়ে সে আবার শুরু করতে চাইল।
আদিব সাহেব সিদ্ধান্ত নিল একটি খামার করবে। তার স্বপ্নের খামার, ছোট বেলা থেকে লালিত সেই শখের খামার। যেই ভাবা সেই কাজ। আদিব সাহেব খামার করার উপযুক্ত একটি রেডী শেড খুজতে লাগল। কিন্তু ঢাকা শহরে যেখানে মানুষ থাকার মত পর্যাপ্ত জায়গা নেই সেখানে খামার করার মত রেডী শেড সে কোথায় পাবে ? অবশেষে এক বন্ধুর পরামর্শে ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা গাজীপুরে খোঁজ নিতে লাগল এবং খুব সহজেই মাসিক ৭,০০০/- ভাড়ায় (বিদ্যুৎ বিল নিজের) একটি পছন্দসই রেডী শেড পেয়ে গেল। পাবারই কথা কারণ বাংলাদেশের মধ্যে হয়তো গাজীপুরই একমাত্র জেলা যেখানে বড় বড় শেড তৈরী করে জমির মালিক অন্যান্য শহরের বাড়িওয়ালারা যেমন বাড়ি ভাড়া দেয় এখানে তেমন শেড ভাড়া দেয়। শেডটি ছিল আবাসিক এলাকায় এবং চারিদিকে কোন সীমানা প্রাচীর ছিলনা। আদিব সাহেব প্রথম দিনেই দেখল তার ফার্মের আশেপাশে অনেক দেশীয় মুরগী বিচরণ করছে। আদিব সাহেবের মনটা প্রফুল্ল হয়ে উঠল। আহ্ এই না হলে খামার ! একবারে মোক্ষম জায়গা।
এবার তার স্বপ্নের খামারের যাত্রা শুরু। কিন্তু সে আবারো বিপাকে পরে গেল।খামারতো ভাড়া নেয়া হল এখন সে কাজ করার মত দক্ষ লোক পাবে কোথায় ? লোক অনেক পাওয়া যায় কিন্তু খামারে কাজ করার কথা বললেই পিছটান দেয়। অবশেষে একজন লোক চাকরী করতে রাজী হল মাসিক বেতন ১০,০০০/-। আদিব সাহেবের কাজের লোক তার খামারের অতি নিকটেই একটি ভাড়াবাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তিনবেলা বাড়ি থেকেই খেয়ে আসে।
আদিব সাহেব বিভিন্ন জায়গা হতে খুঁজে পেতে তার খামারের জন্য ছোট বড় মিলিয়ে বেশ কিছু টার্কি ও তিতির ক্রয় করে নিয়ে আসল। দেখা যাক এবার কি হয় ?
আদিব সাহেবের খামার কিছুদিন ভালই চলছিল। কিন্তু যখন খামারে আশেপাশের লোকজন জানতে পারল এখানে একটি অদ্ভূত পাখীর খামার গড়ে উঠেছে তখন উৎসুক জনতা ভীড় করতে লাগল। ভীড় দিন দিন বাড়তেই লাগল। এমনকি স্কুলগামী ছেলে মেয়েরাও স্কুলে যাওয়া আসার পথে তার খামার দেখতে ভীড় করতে লাগল। এ যেন একটি মিনি চিড়িয়াখানা। মানুষের পাশাপাশি সেখানে পাক্ষীকুলের সমাগমও বেড়ে গেল। খাবারের লোভে আশেপাশেল গৃহস্থদের হাঁস-মুরগী, কবুতরের সমাগম কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই আদিব সাহেবের টার্কি খামারের পাখী গুলো আবার পূর্বের ন্যায় একটার পর একটা অসুস্থ হতে লাগল। পশু ‍চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ঔষধ প্রয়োগ করে একটা অসুখ সারাতে না সারাতেই আরেক অসুখের আবির্ভাব ঘটতে লাগল। আদিব সাহেব দিশেহারা হয়ে গেল। তবে কি এবারও আদিব সাহেব সফলতার মুখ দেখতে পারবেনা ??
মাস শেষে আদিব সাহেব হিসেব করে দেখল ঔষধ খরচ, খাবার খরচ, কর্মচারীর বেতন, শেড ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল মিলে এক বিশাল খরচের অংক। অপরদিকে তার আউটপুট শূণ্য। প্রতিমাসে সে এক বিরাট অংকের টাকা তার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার করতে লাগল। খুব অল্প দিনের মধ্যেই সে দেনার দায়ে জর্জড়িত হয়ে পরল।
আসুন আমরা এখন দেখে নেই আদিব সাহেবের ভুল গুলো কি কি ছিলঃ
• আদিব সাহেব সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল প্রথমেই মাসিক ৭,০০০/- ভাড়ায় একটি শেড নিয়ে। প্রথম অবস্থায় খামার শুরু করার জন্য মাসিক এত পরিমাণ ভাড়া একটু বেশীই।
• খামারে কাজ করার জন্য আদিব সাহেব একজন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়েছিল। এটি একটা বড় ভুল কারণ খামার কোন মেশিন নয় যে সুইচ টিপলেই প্রোডাকশন হবে। এখানে নিবিড় পরিচর্যা ও দক্ষ লোকের কোন বিকল্প নেই।
• আদিব সাহেবের খামারের কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় বাহিরের হাঁস-মুরগী ও পাখী খাবারের লোভে খামার এলাকায় ভীড় করত ফলে এদের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ সহজেই ছড়িয়ে পরত।
• দর্শনার্থীদের ভীড়ের কারনে খামারের টার্কি পাখীগুলো সবসময় আতংকে থাকত আর তাছাড়া মানুষের অবাদ চলাচল রোগ ছড়ানোর অন্যতম বাহণ।
• আদিব সাহেবের কর্মচারী খামারকে অরক্ষিত রেখেই ৩ বেলা বাড়িতে খেতে যেত ও দির্ঘ সময় খামারের বাহিরে থাকায় টার্কি পাখীগুলোর পরিচর্যা ও অসুস্থ পাখীর সেবায় ঘাটতি হত।
• খামারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদিব সাহেব তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হাত পেতেছিল যা কখনই কাম্য নয়। কারণ এতে আত্মীয়তার সম্পর্কের অবনতি হয়।
শিক্ষাঃ
(১) নতুন অবস্থায় খামার করতে চাইলে প্রথমে ছোট্ট পরিসরে চেষ্টা করতে হবে নিজের জমিতে যতটা সম্ভব খরচ কমিয়ে শেড তৈরী করা যাতে মাসিক ভাড়া দিতে না হয়।
(২)টার্কি খামার কখনই আবাসিক এলাকায় করা ঠিক নয়।
(৩) টার্কি খামারে কাজ করার জন্য অদক্ষ লোক কখনই নিয়োগ দেয়া যাবেনা।
(৪) খামারের চারপাশে বিচরণের জায়গার বাহিরাংশে প্রাচীর অথবা লোহার তারের বেড়া দিতে হবে যাতে বাহিরের লোকজন ও পশু পাখী খামার এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।
(৫) টার্কি খামারের বাহির প্রাচীরের গেট সবসময় বন্ধ রাখতে হবে।
(৬)টার্কি খামারে নিবিড় পরিচর্যার বিকল্প কিছু নেই। এজন্য খামার কর্মচারীর সার্বক্ষণিক খামার এলাকায় থাকতে হবে। নিতান্ত বাহিরে যেতেই হলে বিকল্প কোন লোক রেখে যেতে হবে।
(৭) দর্শনার্থীদের অবাদ প্রবেশের সুযোগ দেয়া যাবেনা। নিতান্তই যদি দিতে হয় তাহলে জীবানুনাশক স্প্রে করে ও খামারের নির্ধারিত এ্যাপ্রোন, জুতা ব্যবহার করতে হবে।
(৮) খামার এলাকা প্রতিদিন জীবানুনাশক স্প্রে করতে হবে।
(৯) খামারের মুল ফটকের সামনে জীবানুনাশক ফুট টাব তৈরী করতে হবে।
(১০) কোন টার্কি খামার হতে বা হাট হতে টার্কি পাখী সংগ্রহ করলে প্রথমে অন্য জায়গায় রেখে কিছুদিন অবজার্ভ করে পরে খামারে ডুকাতে হবে।


আরো পড়ুন>

সৌখিনতা বশত টার্কি পালন করুন | Pet Turkey Hen For Amateur


আদিব সাহেবের ছেলেবেলা থেকেই পশু পাখীর প্রতি অদম্য ঝোঁক। এটা সে পেয়েছে জিন এবং ডিএনএ এর কল্যাণে বংশগত ভাবে। কারন তার দাদা একসময় শখের বশে কবুতর পালতেন। তার বাবা শৈশবে গ্রামের হেন কোন বন-বাদার নেই যেখানে পাখীর ছানা সংগ্রহের চেষ্টায় ধাপিয়ে বেড়াননি।নিজের বাবাকে দেখে কৈশরে এসে কবুতরের প্রেমে পরে যান তার বাবা। কিন্তু পারিবারের সদস্যদের চাপে তা আর বেশী দূর এগোতে পারেনি।
আদিব সাহেবের বাবার মুখে শুনা ছেলেবেলায় যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১.৫ বছর, সেই সময়ই সে মুরগী, কবুতর দেখলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। পাড়ার কেউ যদি কোলে নিয়ে আদর করতে চাইত খুব সহজে সে তার কোলে যেতনা। কিন্তু কেউ যদি মুরগীর ছোট ছানা নিয়ে আসতো অমনি সে ধরতে যেত এবং কোলে যেত। বাল্যকালে সব বাবা-মারা যখন তাদের বাচ্চাদের “টম এন্ড জেরী” দেখিয়ে খাবার খাওয়াত, আদিব সাহেব তখন ডিসকভারী বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেল ছাড়লে হা করে তাকিয়ে দেখত।
আদিব সাহেব যখন কৈশোরে পৌছল তখন পরিবারের শত অনিচ্ছা সত্যেও সে কিছু কবুতর কিনেই ফেলল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারের তীব্র বাঁধায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে এই অজুহাতে সবকিছু পন্ড হয়ে যায়। বাধ্য হন তিনি সব কবুতর বিক্রি করে দিতে।
কিন্তু আদিব সাহেবের অবস্থা হচ্ছে সেই চিরচেনা গানের লিরিক-“মানুষ আমি আমার কেন পাখীর মত মন, তাইরে নাইরে করে কাটে সারাটি জীবন”। বিশ্ববিদ্যালয়েই যাক আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায়ই যাক তার নজর থাকে আকাশের দিকে। কোথায় একটি কবুতর উড়ছে, কোন বাসার ছাদে একটি সুদৃশ্য বাম আছে, কোন মহল্লার কোন বাসা থেকে পাখীর কিচির মিচির শব্দ ভেসে আসে।
বিভিন্ন চ্যানেলের কৃষিভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো তার খুব ভাল লাগতো। এক শীতের অলস দুপুরে ভাত ঘুমের প্রস্তুতি নিতে নিতে টিভির রিমোট ঘুরাতে ঘুরাতে হঠাৎ তার চোখে পরল অদ্ভূত সুন্দর এক ভীনদেশী পাখী যা বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সারা ফেলছে। ফ্রেন্সকাট দাড়ি, মাথার মধ্যভাগ দিয়ে সিথী এক নওজোয়ান নাম তার টার্কি মিরাজ, সে টার্কি পালণ সম্পর্কে কথা বলছে। আদিব সাহেব ভাবতে থাকে টার্কি মিরাজ সেটা আবার কেমন নাম ? কৌতুহল মেটাতে গিয়ে সে জানতে পারল ভিনদেশী পাখী টার্কিকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি এনে দেয়ায় তার নামের টাইটেল হয়ে গেছে টার্কি মিরাজ।
আদিব সাহেবের অসম্ভব ভাল লেগে যায় এই টার্কি নামক পাখীটাকে। যেমনি বাহারী দেখতে, তেমনি তার আকার। আদিব সাহেবের তখন অবস্থা এমন হল যে- “তোরা যে যাই বলিস ভাই, আমার কিন্তু টার্কি এখন চাই”। সৌখিনতা যার রক্তে মিশে আছে তাকে আর কতদিন ঠেকিয়ে রাখবে পরিবার। সৌখিনতার তীব্র মানসিকতা নিয়ে জন্ম নেয়া আদিব সাহেব জীবনে কোনদিনও কোন প্রাণী লালণ পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র শখের বসে হুট করে একদিন ফেসবুকের কল্যাণে অল্পকিছু টার্কি জোগাড় করেই ফেলল।
কিন্তু হায় সে টার্কিগুলো রাখবে কোথায় ? বাড়ির ছাদে নাকি চিলে কোঠায় ? ভেবে দেখে সিড়ির নিচেও কিছু জায়গা আছে। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিল চিলে কোঠার ফ্লোরে একটি খাচায় রাখবে টার্কির বাচ্চা গুলো। কিন্তু আবার চিন্তা বাচ্চা পাখীর জন্য কি ধরনের খাবার উপযোগী সেটা নিয়েও ভাবনার শেষ নেই।পরিবারের সদস্যরা এবং কৌতুহল বশত প্রতিবেশীরা তার আজব পাখী দেখতে ভীড় করল। এবং দিন দিন ভীড় বাড়তেই লাগল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই টার্কি গুলোর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে লাগল।
• ঝিম ধরে বসে থাকে খাবার খায়না।
• নাক মুখ ফুলে গেল।
• চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।
• তীব্র শ্বাস কষ্ট হতে লাগল।
আদিব সাহেব অবস্থা সংকটময় দেখে ফেসবুকে টার্কির কিছু গ্রুপে টার্কির ছবিসহ হেল্প পোষ্ট দিল।
কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কমেন্টের পর কমেন্টে বিভিন্ন মেডিসিন আর ব্যবস্থাপত্রের হিড়িক পরে গেল। এ বলে এটা খাওয়ালে ভাল হবে ও বলে ওটা খাওয়ালে ভাল হবে। আদিব সাহেব কোনকিছু না বুঝেই কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় সকলের দেয়া ব্যবস্থাপত্র গুলো প্রয়োগ করে ফেলল। অবস্থা দিন দিন আরো গুরুতর হতে লাগল। অবশেষে টার্কিগুলো একটার পর একটা মরতে লাগল।
আদিব সাহেব শখের অকাল মৃত্যু হওয়ায় দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে একটি স্যাড পোষ্ট দিল। আর এক শ্রেণীর স্বার্থলোভী অতিউৎসাহী ব্যক্তিবর্গ আদিব সাহেবের ভুল গুলো খুজে বের না করে তার শখের অকাল মৃত্যকে উপজীব্য করে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক স্বার্থে গলাবাজী, চাপাবাজী, দলবাজী আর নোংরা প্রতিযোগীতায় নেমে পরল।
----
আসুন আমরা এখন দেখে নেই আদিব সাহেবের ভুল গুলো কি ছিলঃ
• তীব্র সৌখিনতার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও কোন প্রাণী, বিশেষ করে পাখী জাতীয় প্রাণী পালণের কোন অভিজ্ঞতাই তার ছিলনা।
• পাখীর বাসস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারনা তার ছিলনা।
• পাখীর খাবার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও তার স্বচ্ছ ধারনা ছিলনা।
• জৈব নিরাপত্তা সম্পর্কে তার কোন ধারনা ছিলনা। বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশিরা কোনরকম জীবানুনাশক স্প্রে না করেই তার পাখী গুলোর কাছে আসে যা রোগ ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট উপযোগী।
• আদিব সাহেব টার্কি কিনেছিল শীতকালে তার উপর আবার রেখে ছিল চিলে কোঠায়। বাচ্চাকে কৃত্রিম তাপ কিভাবে কতটুকু দিতে হয় সেটা সে জানতনা।
• শীতকালে চিলে কোঠায় রাতে তাপমাত্রা একদম কমে যায় ফলে তীব্র শীতে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যায়।
• ফ্লোর ছিল স্যাতস্যাতে আর ফ্লোর থেকেও ঠান্ডা উঠত।
• সে ফেসবুকে হেল্প পোষ্ট দিলে অনেকে অনেক রকম মেডিসিনের নাম বলে আর আদিব সাহেব কিছু না বুঝেই সেগুলো তার পাখীর উপর প্রয়োগ করেন। ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় ও অতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগের ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বাচ্চাগুলো নির্জীব হয়ে পরে।
শিক্ষাঃ
(১) শখের বশে কোন কিছু পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া টার্কি কিনলে আপনার অবস্থাও আদিব সাহেবের মত হতে পারে।
(২) টার্কির বাচ্চা ক্রয়ের পূর্বে এর খাবার ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান, জৈব নিরাপত্তা, রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নিন।
(৩) ছোট বাচ্চার ব্রুডিং সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করুন।
(৪) জৈব নিরাপত্তার উপর স্টাডি করুন ও প্রয়োগ করুন।
(৫) কথায় আছে নানা ঋষির নানা মত। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করা কিছুতেই ঠিক নয়।
(৬) অধিক সন্নাসীতে গাজন নষ্ট। আপনি ভিন্ন জনের পরামর্শ গ্রহণ না করে পশু চিকিৎসক অথবা কোন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করুন।
(৭) টার্কি পালণের আগে অভিজ্ঞ ভাইদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের ফার্ম ভিজিট করুন।
(৮) ভার্চুয়াল মাধ্যম হোক আর ম্যানুয়ালই হোক জ্ঞানার্জন করুন।
(৯) কোন কারনে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগে খুজে বের করুন কেন এমন হল ? নিজের দোষ অন্যের ঘারে চাপিয়ে দেয়ার মনোভাব পরিহার করুন।
(১০) সর্বোপরি মনে রাখবেন অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু নেই।

আদিব সাহেবের ছেলেবেলা থেকেই পশু পাখীর প্রতি অদম্য ঝোঁক। এটা সে পেয়েছে জিন এবং ডিএনএ এর কল্যাণে বংশগত ভাবে। কারন তার দাদা একসময় শখের বশে কবুতর পালতেন। তার বাবা শৈশবে গ্রামের হেন কোন বন-বাদার নেই যেখানে পাখীর ছানা সংগ্রহের চেষ্টায় ধাপিয়ে বেড়াননি।নিজের বাবাকে দেখে কৈশরে এসে কবুতরের প্রেমে পরে যান তার বাবা। কিন্তু পারিবারের সদস্যদের চাপে তা আর বেশী দূর এগোতে পারেনি।
আদিব সাহেবের বাবার মুখে শুনা ছেলেবেলায় যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১.৫ বছর, সেই সময়ই সে মুরগী, কবুতর দেখলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। পাড়ার কেউ যদি কোলে নিয়ে আদর করতে চাইত খুব সহজে সে তার কোলে যেতনা। কিন্তু কেউ যদি মুরগীর ছোট ছানা নিয়ে আসতো অমনি সে ধরতে যেত এবং কোলে যেত। বাল্যকালে সব বাবা-মারা যখন তাদের বাচ্চাদের “টম এন্ড জেরী” দেখিয়ে খাবার খাওয়াত, আদিব সাহেব তখন ডিসকভারী বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেল ছাড়লে হা করে তাকিয়ে দেখত।
আদিব সাহেব যখন কৈশোরে পৌছল তখন পরিবারের শত অনিচ্ছা সত্যেও সে কিছু কবুতর কিনেই ফেলল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারের তীব্র বাঁধায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে এই অজুহাতে সবকিছু পন্ড হয়ে যায়। বাধ্য হন তিনি সব কবুতর বিক্রি করে দিতে।
কিন্তু আদিব সাহেবের অবস্থা হচ্ছে সেই চিরচেনা গানের লিরিক-“মানুষ আমি আমার কেন পাখীর মত মন, তাইরে নাইরে করে কাটে সারাটি জীবন”। বিশ্ববিদ্যালয়েই যাক আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায়ই যাক তার নজর থাকে আকাশের দিকে। কোথায় একটি কবুতর উড়ছে, কোন বাসার ছাদে একটি সুদৃশ্য বাম আছে, কোন মহল্লার কোন বাসা থেকে পাখীর কিচির মিচির শব্দ ভেসে আসে।
বিভিন্ন চ্যানেলের কৃষিভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো তার খুব ভাল লাগতো। এক শীতের অলস দুপুরে ভাত ঘুমের প্রস্তুতি নিতে নিতে টিভির রিমোট ঘুরাতে ঘুরাতে হঠাৎ তার চোখে পরল অদ্ভূত সুন্দর এক ভীনদেশী পাখী যা বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সারা ফেলছে। ফ্রেন্সকাট দাড়ি, মাথার মধ্যভাগ দিয়ে সিথী এক নওজোয়ান নাম তার টার্কি মিরাজ, সে টার্কি পালণ সম্পর্কে কথা বলছে। আদিব সাহেব ভাবতে থাকে টার্কি মিরাজ সেটা আবার কেমন নাম ? কৌতুহল মেটাতে গিয়ে সে জানতে পারল ভিনদেশী পাখী টার্কিকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি এনে দেয়ায় তার নামের টাইটেল হয়ে গেছে টার্কি মিরাজ।
আদিব সাহেবের অসম্ভব ভাল লেগে যায় এই টার্কি নামক পাখীটাকে। যেমনি বাহারী দেখতে, তেমনি তার আকার। আদিব সাহেবের তখন অবস্থা এমন হল যে- “তোরা যে যাই বলিস ভাই, আমার কিন্তু টার্কি এখন চাই”। সৌখিনতা যার রক্তে মিশে আছে তাকে আর কতদিন ঠেকিয়ে রাখবে পরিবার। সৌখিনতার তীব্র মানসিকতা নিয়ে জন্ম নেয়া আদিব সাহেব জীবনে কোনদিনও কোন প্রাণী লালণ পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র শখের বসে হুট করে একদিন ফেসবুকের কল্যাণে অল্পকিছু টার্কি জোগাড় করেই ফেলল।
কিন্তু হায় সে টার্কিগুলো রাখবে কোথায় ? বাড়ির ছাদে নাকি চিলে কোঠায় ? ভেবে দেখে সিড়ির নিচেও কিছু জায়গা আছে। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিল চিলে কোঠার ফ্লোরে একটি খাচায় রাখবে টার্কির বাচ্চা গুলো। কিন্তু আবার চিন্তা বাচ্চা পাখীর জন্য কি ধরনের খাবার উপযোগী সেটা নিয়েও ভাবনার শেষ নেই।পরিবারের সদস্যরা এবং কৌতুহল বশত প্রতিবেশীরা তার আজব পাখী দেখতে ভীড় করল। এবং দিন দিন ভীড় বাড়তেই লাগল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই টার্কি গুলোর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে লাগল।
• ঝিম ধরে বসে থাকে খাবার খায়না।
• নাক মুখ ফুলে গেল।
• চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।
• তীব্র শ্বাস কষ্ট হতে লাগল।
আদিব সাহেব অবস্থা সংকটময় দেখে ফেসবুকে টার্কির কিছু গ্রুপে টার্কির ছবিসহ হেল্প পোষ্ট দিল।
কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কমেন্টের পর কমেন্টে বিভিন্ন মেডিসিন আর ব্যবস্থাপত্রের হিড়িক পরে গেল। এ বলে এটা খাওয়ালে ভাল হবে ও বলে ওটা খাওয়ালে ভাল হবে। আদিব সাহেব কোনকিছু না বুঝেই কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় সকলের দেয়া ব্যবস্থাপত্র গুলো প্রয়োগ করে ফেলল। অবস্থা দিন দিন আরো গুরুতর হতে লাগল। অবশেষে টার্কিগুলো একটার পর একটা মরতে লাগল।
আদিব সাহেব শখের অকাল মৃত্যু হওয়ায় দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে একটি স্যাড পোষ্ট দিল। আর এক শ্রেণীর স্বার্থলোভী অতিউৎসাহী ব্যক্তিবর্গ আদিব সাহেবের ভুল গুলো খুজে বের না করে তার শখের অকাল মৃত্যকে উপজীব্য করে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক স্বার্থে গলাবাজী, চাপাবাজী, দলবাজী আর নোংরা প্রতিযোগীতায় নেমে পরল।
----
আসুন আমরা এখন দেখে নেই আদিব সাহেবের ভুল গুলো কি ছিলঃ
• তীব্র সৌখিনতার মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও কোন প্রাণী, বিশেষ করে পাখী জাতীয় প্রাণী পালণের কোন অভিজ্ঞতাই তার ছিলনা।
• পাখীর বাসস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারনা তার ছিলনা।
• পাখীর খাবার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও তার স্বচ্ছ ধারনা ছিলনা।
• জৈব নিরাপত্তা সম্পর্কে তার কোন ধারনা ছিলনা। বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশিরা কোনরকম জীবানুনাশক স্প্রে না করেই তার পাখী গুলোর কাছে আসে যা রোগ ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট উপযোগী।
• আদিব সাহেব টার্কি কিনেছিল শীতকালে তার উপর আবার রেখে ছিল চিলে কোঠায়। বাচ্চাকে কৃত্রিম তাপ কিভাবে কতটুকু দিতে হয় সেটা সে জানতনা।
• শীতকালে চিলে কোঠায় রাতে তাপমাত্রা একদম কমে যায় ফলে তীব্র শীতে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যায়।
• ফ্লোর ছিল স্যাতস্যাতে আর ফ্লোর থেকেও ঠান্ডা উঠত।
• সে ফেসবুকে হেল্প পোষ্ট দিলে অনেকে অনেক রকম মেডিসিনের নাম বলে আর আদিব সাহেব কিছু না বুঝেই সেগুলো তার পাখীর উপর প্রয়োগ করেন। ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় ও অতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগের ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বাচ্চাগুলো নির্জীব হয়ে পরে।
শিক্ষাঃ
(১) শখের বশে কোন কিছু পালণের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া টার্কি কিনলে আপনার অবস্থাও আদিব সাহেবের মত হতে পারে।
(২) টার্কির বাচ্চা ক্রয়ের পূর্বে এর খাবার ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান, জৈব নিরাপত্তা, রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে ভাল করে জেনে নিন।
(৩) ছোট বাচ্চার ব্রুডিং সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করুন।
(৪) জৈব নিরাপত্তার উপর স্টাডি করুন ও প্রয়োগ করুন।
(৫) কথায় আছে নানা ঋষির নানা মত। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করা কিছুতেই ঠিক নয়।
(৬) অধিক সন্নাসীতে গাজন নষ্ট। আপনি ভিন্ন জনের পরামর্শ গ্রহণ না করে পশু চিকিৎসক অথবা কোন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মত ঔষধ প্রয়োগ করুন।
(৭) টার্কি পালণের আগে অভিজ্ঞ ভাইদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের ফার্ম ভিজিট করুন।
(৮) ভার্চুয়াল মাধ্যম হোক আর ম্যানুয়ালই হোক জ্ঞানার্জন করুন।
(৯) কোন কারনে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগে খুজে বের করুন কেন এমন হল ? নিজের দোষ অন্যের ঘারে চাপিয়ে দেয়ার মনোভাব পরিহার করুন।
(১০) সর্বোপরি মনে রাখবেন অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু নেই।
আরো পড়ুন>