Latest Products
Showing posts with label টার্কি পালন. Show all posts
Showing posts with label টার্কি পালন. Show all posts

টার্কি পালন নতুন সম্ভাবনার হাতছানিঃ (টার্কির সংক্রামক রোগ ও প্রতিকার) Turkey Hen infectious diseases



টার্কির ফাউল পক্স একটি উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ যা পক্স ভাইরাসের সংক্রমনে হয়ে থাকে।সাধারণত টার্কির শরীরের পালক বিহীন জায়গায় সাধারণত শক্ত গোটা উঠে এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
পক্স সচরাচর দুই রকমের হয়:-
১। শুকনা পক্স
২। ভিজা পক্স।
সংক্রমনের কারণ এবং স্থানান্থরঃ
• শুষ্ক পক্স একটি ভাইরাস জনিত রোগ যা টার্কির পালকবিহীন অংশে হয়,সাধারণত ঝুটি এং চোখের পাতায় এটি হয়।
• ভেজা পক্স টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে হয়, এটি প্রাণঘাতী।
• মুরগীতে পক্সের সংক্রমণ সাধারণত পোকার কামড়ের মাধ্যমে হয় (যেমন:- মশা)।
• আক্রান্ত টার্কির পালক, পালকের অংশবিশেষ, চামড়ার অংশ, লালা এবং রক্তের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
• পক্স উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ এবং আস্তে আস্তে ফ্লকের মধ্যে ছড়াতে থাকে। এটি সুপ্তাবস্থায় ফ্লকের মধ্যে সপ্তাহ, মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
• সংবেদনশীল মুরগী সাধারনত নাক এবং মুখ দিয়ে অক্রান্ত হয়।
লক্ষনঃ
• শুষ্ক পক্সে প্রাথমিক অবস্থায় ঝুটি এং চোখের পাতায় ছাই রংয়ের হালকা উচু ফোস্কার মত গুটি উঠে । এই ফোস্কাগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, বড় হয়ে হলুদ রং ধারণ করে এবং চুড়ান্ত অবস্থায় কালো আচিলের মত হয়ে যায়।
• ভেজা পক্সে টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে লক্ষণ পাওয়া যায়।
• মুরগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।
• লেয়ার টার্কির প্রোডাকশন কমে যায়।
• টার্কির ওজন কমে যায়।
• মুরগী খাদ্য এবং পানি খাওয়া কমিয়ে দেয়।
প্রতিরোধঃ
১. আক্রান্ত ফ্লক থেকে যেন পক্স না ছড়ায় তার জন্য সঠিকভাবে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. নতুন ফ্লককে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করতে হবে।
৩. মশক নিধন করতে হবে।
৪. দশনার্থী প্রবেশ সীমাবদ্ধ করতে হবে।
৫. নিয়মিত রেজিস্ট্যার্ড ভেটেরিনারিয়ান এর পরামর্শ মোতাবেক ভ্যাকসিনেশন করতে হবে।
চিকিৎসাঃ
ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এর কোন সঠিক চিকিৎসা নেই, তবে পরবর্তী ব্যাকটেরয়িার সংক্রমণ রোধে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো যেতে পারে।
খাদ্যের সাথে কালোজিরা খাওয়ানো যেতে পারে।
ব্যাচের মধ্যে পক্স দেখা গেলে আক্রান্ত মুরগী সরিয়ে সুস্থগুলোকে ভ্যাকসিনেশন করাতে হবে।
ফাউল পক্স ভ্যাকসিন (F P V)
এই ভ্যাকসিন টার্কির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এটি ২০০ মাত্রায় কঠিন অবস্থায় বায়ুশুন্য বোতলে সংরক্ষিত থাকে। এটার রং গোলাপি, ১০ মি: লি: বিশুদ্ধ পানিতে পুরাটা মিশিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করতে হয়। তৈরির পরে কবুতর ও মুরগী যাদের বয়স ২৮-৩২ দিন সেগুলো কে পাখনার নিচে, যেখানে কোন পালক নেই, সেখানে ৪-৫ টি খোটা দিয়ে এই ভ্যাকসিন লাগিয়ে দিতে হবে, খোচা দেওয়া জায়গা যদি ৪-৫ দিনের মধ্যে ফুলে উঠে তাহলে বুঝতে হবে ভ্যাকসিন টি কাজ করছে,আর যদি ফুলে না ওঠে বুঝতে হবে কাজ করেনি। পুনরায় আবার আগের নিয়মে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এই ভ্যাকসিন প্রতি বছর ১ বার দিতে হবে।
ফাউল কলেরাঃ
ফাউল কলেরা মুরগির একটি ছোয়াচে রোগ । এটি এ্কটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ।এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০-৭৫% পযন্ত হতে পারে। এতে খামার বেশ আথিক ক্ষতি সম্মুখীন হয়।
ফাউল কলেরা কেন হয়?
ফাউল কলেরা Pasteurella matocida নামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে ।
ফাউল কলেরা সম্পকে কিছু তথ্যঃ
১। ২-৪ মাস বয়সের মুরগিতে এই রোগ দেখা যায়।
২। অতিরিক্ত গরম পড়লে মুরগি এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
৩। এছাড়া পরিবেশে বেশি পরিমান আদ্রতা থাকলে ও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
ফাউল কলেরা রোগের লক্ষণঃ
১। জ্বর থাকবে।
২। খাদ্য গ্রহনে অনিহা থাকবে।
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট হবে।
৪। ডিম উৎপাদন কমে যাবে।
৫। মাথার ঝুটি ও গলার ফুল ফুলে যাবে।
৬। মুরগী দুবল হয়ে যাবে।
৭। সভুজাভ,বা হলুদাভ ডায়রিয়া হতে পারে,
৮। মুখ দিয়ে লালা পড়বে
৯। মাথা নিচের দিকে দিয়ে ঝিমাবে।
চিকিৎসাঃ
১। যেহেতু ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ তাই যে কোন একটি ভালো এন্টিবায়োটিক দিতে হবে, সে হিসাবে , ciprofloxacin, gentamycin, doxacycline ৩-৫ দিন দেয়া যেতে পারে।
২। এছাড়া যেহেতু পায়খানার সমস্যা আছে তাই একটি সালফার গ্রুপের ঔষধ দিতে হবে।এ ক্ষেত্রে Ati vet suspension/ Sulphatrim powder/S-trim vet ৩-৫ দিন এন্টিবায়োটিক এর সাথে দিতে হবে,
৩। গরম বেশি পড়লে ভিটামিন সি / লেবুর রস দেয়া যেতে পারে।
ফাউল কলেরা কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
১। ফাউল কলেরা ভ্যাক্সিন দিতে হবে।
২। খামারে জৈব নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
৩। খামারে ইদুরের উপদ্রুপ সম্পুনরুপে বন্ধ করতে হবে।
৪। সব সময় একজন ভাল রেজিস্টাড ভেটরিনারিয়ানের পরামশ নিতে হবে।
সালমোনেলোসিস
সালমোনেলোসিস পোল্ট্রির ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি প্রাণঘাতী রোগ।এটি পুলোরাম এবং ফাউল টাইফয়েড নামে পরিচিত।পুলোরাম রোগ বাচ্চা মুরগিতে এবং ফাউল টাইফয়েড পরিণত বয়সে দেখা দেয়।সালমোনেলোসিস পৃথিবীব্যাপী একটি সমস্যা এবং এটি পোল্ট্রিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।


টার্কির ফাউল পক্স একটি উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ যা পক্স ভাইরাসের সংক্রমনে হয়ে থাকে।সাধারণত টার্কির শরীরের পালক বিহীন জায়গায় সাধারণত শক্ত গোটা উঠে এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
পক্স সচরাচর দুই রকমের হয়:-
১। শুকনা পক্স
২। ভিজা পক্স।
সংক্রমনের কারণ এবং স্থানান্থরঃ
• শুষ্ক পক্স একটি ভাইরাস জনিত রোগ যা টার্কির পালকবিহীন অংশে হয়,সাধারণত ঝুটি এং চোখের পাতায় এটি হয়।
• ভেজা পক্স টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে হয়, এটি প্রাণঘাতী।
• মুরগীতে পক্সের সংক্রমণ সাধারণত পোকার কামড়ের মাধ্যমে হয় (যেমন:- মশা)।
• আক্রান্ত টার্কির পালক, পালকের অংশবিশেষ, চামড়ার অংশ, লালা এবং রক্তের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
• পক্স উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ এবং আস্তে আস্তে ফ্লকের মধ্যে ছড়াতে থাকে। এটি সুপ্তাবস্থায় ফ্লকের মধ্যে সপ্তাহ, মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
• সংবেদনশীল মুরগী সাধারনত নাক এবং মুখ দিয়ে অক্রান্ত হয়।
লক্ষনঃ
• শুষ্ক পক্সে প্রাথমিক অবস্থায় ঝুটি এং চোখের পাতায় ছাই রংয়ের হালকা উচু ফোস্কার মত গুটি উঠে । এই ফোস্কাগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, বড় হয়ে হলুদ রং ধারণ করে এবং চুড়ান্ত অবস্থায় কালো আচিলের মত হয়ে যায়।
• ভেজা পক্সে টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে লক্ষণ পাওয়া যায়।
• মুরগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।
• লেয়ার টার্কির প্রোডাকশন কমে যায়।
• টার্কির ওজন কমে যায়।
• মুরগী খাদ্য এবং পানি খাওয়া কমিয়ে দেয়।
প্রতিরোধঃ
১. আক্রান্ত ফ্লক থেকে যেন পক্স না ছড়ায় তার জন্য সঠিকভাবে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. নতুন ফ্লককে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করতে হবে।
৩. মশক নিধন করতে হবে।
৪. দশনার্থী প্রবেশ সীমাবদ্ধ করতে হবে।
৫. নিয়মিত রেজিস্ট্যার্ড ভেটেরিনারিয়ান এর পরামর্শ মোতাবেক ভ্যাকসিনেশন করতে হবে।
চিকিৎসাঃ
ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এর কোন সঠিক চিকিৎসা নেই, তবে পরবর্তী ব্যাকটেরয়িার সংক্রমণ রোধে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো যেতে পারে।
খাদ্যের সাথে কালোজিরা খাওয়ানো যেতে পারে।
ব্যাচের মধ্যে পক্স দেখা গেলে আক্রান্ত মুরগী সরিয়ে সুস্থগুলোকে ভ্যাকসিনেশন করাতে হবে।
ফাউল পক্স ভ্যাকসিন (F P V)
এই ভ্যাকসিন টার্কির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এটি ২০০ মাত্রায় কঠিন অবস্থায় বায়ুশুন্য বোতলে সংরক্ষিত থাকে। এটার রং গোলাপি, ১০ মি: লি: বিশুদ্ধ পানিতে পুরাটা মিশিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করতে হয়। তৈরির পরে কবুতর ও মুরগী যাদের বয়স ২৮-৩২ দিন সেগুলো কে পাখনার নিচে, যেখানে কোন পালক নেই, সেখানে ৪-৫ টি খোটা দিয়ে এই ভ্যাকসিন লাগিয়ে দিতে হবে, খোচা দেওয়া জায়গা যদি ৪-৫ দিনের মধ্যে ফুলে উঠে তাহলে বুঝতে হবে ভ্যাকসিন টি কাজ করছে,আর যদি ফুলে না ওঠে বুঝতে হবে কাজ করেনি। পুনরায় আবার আগের নিয়মে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এই ভ্যাকসিন প্রতি বছর ১ বার দিতে হবে।
ফাউল কলেরাঃ
ফাউল কলেরা মুরগির একটি ছোয়াচে রোগ । এটি এ্কটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ।এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০-৭৫% পযন্ত হতে পারে। এতে খামার বেশ আথিক ক্ষতি সম্মুখীন হয়।
ফাউল কলেরা কেন হয়?
ফাউল কলেরা Pasteurella matocida নামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে ।
ফাউল কলেরা সম্পকে কিছু তথ্যঃ
১। ২-৪ মাস বয়সের মুরগিতে এই রোগ দেখা যায়।
২। অতিরিক্ত গরম পড়লে মুরগি এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
৩। এছাড়া পরিবেশে বেশি পরিমান আদ্রতা থাকলে ও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
ফাউল কলেরা রোগের লক্ষণঃ
১। জ্বর থাকবে।
২। খাদ্য গ্রহনে অনিহা থাকবে।
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট হবে।
৪। ডিম উৎপাদন কমে যাবে।
৫। মাথার ঝুটি ও গলার ফুল ফুলে যাবে।
৬। মুরগী দুবল হয়ে যাবে।
৭। সভুজাভ,বা হলুদাভ ডায়রিয়া হতে পারে,
৮। মুখ দিয়ে লালা পড়বে
৯। মাথা নিচের দিকে দিয়ে ঝিমাবে।
চিকিৎসাঃ
১। যেহেতু ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ তাই যে কোন একটি ভালো এন্টিবায়োটিক দিতে হবে, সে হিসাবে , ciprofloxacin, gentamycin, doxacycline ৩-৫ দিন দেয়া যেতে পারে।
২। এছাড়া যেহেতু পায়খানার সমস্যা আছে তাই একটি সালফার গ্রুপের ঔষধ দিতে হবে।এ ক্ষেত্রে Ati vet suspension/ Sulphatrim powder/S-trim vet ৩-৫ দিন এন্টিবায়োটিক এর সাথে দিতে হবে,
৩। গরম বেশি পড়লে ভিটামিন সি / লেবুর রস দেয়া যেতে পারে।
ফাউল কলেরা কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
১। ফাউল কলেরা ভ্যাক্সিন দিতে হবে।
২। খামারে জৈব নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
৩। খামারে ইদুরের উপদ্রুপ সম্পুনরুপে বন্ধ করতে হবে।
৪। সব সময় একজন ভাল রেজিস্টাড ভেটরিনারিয়ানের পরামশ নিতে হবে।
সালমোনেলোসিস
সালমোনেলোসিস পোল্ট্রির ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি প্রাণঘাতী রোগ।এটি পুলোরাম এবং ফাউল টাইফয়েড নামে পরিচিত।পুলোরাম রোগ বাচ্চা মুরগিতে এবং ফাউল টাইফয়েড পরিণত বয়সে দেখা দেয়।সালমোনেলোসিস পৃথিবীব্যাপী একটি সমস্যা এবং এটি পোল্ট্রিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।
আরো পড়ুন>

টার্কি পালন নতুন সম্ভাবনার হাতছানিঃ পর্ব-০৩ (রোগ বালাই ও জৈব নিরাপত্তা) Tarki Murgi Palon Korte Chaile


প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোক সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি না পেয়ে  কাজের সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। এই তরুণদের চোখের সামনে নেই কোনো স্বপ্ন, নেই জীবনের অনাগত দিনগুলো সাজানোর কোনো সুন্দর পরিকল্পনা। কিন্তু এই ক্রান্তিকাল শুরুর আগে, কারো মনেই এমন প্রত্যাশা ও ছিল না। সবার মনেই ছিল একটা সুন্দর স্বপ্ন! সমাজের মানুষের কাছে দিন দিন নিজেদের নেতিবাচক অবস্থান দেখে তাদের অনেকেই আজ বিপর্যস্ত। যদি এই সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা না করা যায়, তাহলে এটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখা দিবে।”
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে ও শহরে ছাদ সহ অনেক জায়গা অনাবাদি/পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে নানা ধরনের ঘাস লতা। এ রকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশি উপযোগী। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে এক  বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী। তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান পোলট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোনো কাজে আসছে না, যারা কম ঝামেলাপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুঁজছেন, যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুঁজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের হতে পারে।”
টার্কি পালনের সুবিধা সমুহঃ
১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়
৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে
৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে
৫।  টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে
৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে
৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে।এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়
৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে
১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না
১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম
১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম
১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর
১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয়  অনেক বেশী
টার্কি পালনের অর্থনৈতিক স্থিতিমাপ সমূহ:
•    পুরুষ – মাদী অনুপাত- ১:৫
•    গড় ডিমের ওজন -৬৫ গ্রা.
•    গড় এক দিনের বাচ্চার ওজন-৫০ গ্রা.
•    যৌন পরিপক্কতার বয়স-৩০ সপ্তাহ
•    গড় ডিমের সংখ্যা-৮০-১০০
•    ইনকিউবেশন বা ডিমে তা দেওয়ার সময়সীমা-২৮ দিন
•    ২০ সপ্তাহে গড় ওজন-৪.৫-৫ কিগ্রা (মাদী) ৬-৭ কিগ্রা (পুরুষ)
•    ডিম দেওয়ার সময়সীমা-৩০ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স-পুরুষ-১৪-১৫ সপ্তাহ ,মাদী-১৭-১৮ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত ওজন-পুরুষ-৭.৫ কিগ্রা,মাদী-৫.৫ কিগ্রা
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত গড় খাবার গ্রহণ-পুরুষ-২৪-২৬ কিগ্রা,মাদী-১৭-১৯ কিগ্রা
* রোগ বালাইঃ
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায়। পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে।
টার্কির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার :
ক্রমরোগকারনলক্ষনপ্রতিরোধ
অ্যারিজানোসিসস্যালমোনেলা অ্যারিজানাছানারা বাড়ে না এবং চোখের অস্বচ্ছতা ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত হবার সম্ভাব্য বয়স ২৫-৩০ দিনসংক্রামিত ব্রীজারের পালকে বর্জন করা ও হ্যাচারি ফিউমিগেশন (জীবাণুনাশক ধোঁয়া প্রয়োগ) করা এবং জীবাণুমুক্ত করা৷
ব্লু-কোম রোগকরোনা ভাইরাসওজন হ্রাস,ফেনাফেনা বা জলের মত মল,মাথা ও চর্মের রং গাঢ় হওয়া৷খামারের পাখির সংখ্যা কমান ও সংক্রমণমুক্ত করা৷ কিছুটা সময় বিরতি দিন৷
শ্বাসনালীর রোগমাইকোপ্লাজ়মা গ্যালিসেপটিকামকাশি, গড়গড় শব্দ, হাঁচি, নাক দিয়ে রস গড়ান৷মাইকোপ্লাজমা বিহীন স্টক কিনুন
এরিসিপেলাসএরিসিপেলোথ্রিক্সরুসিওপ্যাথিডিআকস্মিক মৃত্যু,ফোলা স্নুড,মুখের নে স্থানে রং পরিবর্তন,ঝুঁকে পড়া ভাবটিকাকরণ
ফাউল কলেরাপ্যাস্চুরেলামাল্টো সিডাবেগুনি মাথা,সবজেটে হলুদ মল, আকস্মিক মৃত্যুজীবাণুনাশ ও মৃত পাখি যথাযথ ভাবে নষ্ট করা৷
ফাউল পক্সপক্স ভাইরাসঝুঁটি ও গলকম্বলে (ওয়াট্ল) ছোট ছোট হলুদ ফোসকা ও মামড়ি পড়াটিকাকরণ
রক্তস্রাবী আন্ত্রিক প্রদাহভাইরাসএক বা একাধিক মৃত পাখিটিকাকরণ
সংক্রামক সাইনোভাইটিসমাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকামপায়ের সন্ধি ও প্যাড ফোলা,খঞ্জত্ব, বুকে ফোসকাপরিষ্কার স্টক কিনুন
সাইনাসাইটিসব্যাকটিরিয়ানাক দিয়ে রস গড়ান,সাইনাস ও কাশিনীরোগ ব্রীডারদের কাছ থেকে শাবক কিনুন
১০মাইকোটক্সিকোসিসছত্রাক ঘটিতরক্তস্রাব,চর্বিযুক্ত লিভার ও কিডনিখাবার নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না
১১প্যারাটাইফয়েডস্যালমোনেলাপুলোরামছানাদের ডায়রিয়াপ্রতিরোধ ও পালের জীবাণুনাশ
১২টার্কি করাইজাবর্ডেটেল্লা এভিয়ামনাকে চাপা শব্দ, ফুসফুসে ঘড়ঘড় শব্দ ও নাক থেকে অত্যধিক শ্লেষ্মা পড়াটিকাকরণ
১৩কক্সিডিওসিসকক্সিডিয়াপ্ররক্তযুক্ত ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসযথাযথ জীবাণুনাশ ও লিটার পরিচালন
১৪টার্কি যৌন রোগমাইকোপ্লাজমা মেলিয়াগ্রিসউর্বরতা ও ফোটার যোগ্য ডিমের পরিমাণ হ্রাসকঠোর জীবাণুনাশ
টার্কি খামার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তাঃ
টার্কির খামারে যেন কোন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রতিরোধমূলক জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা জোড়দার করা উচিত। এ ছাড়াও রাণীক্ষেত, গামবোরো, বসন্ত ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ বেশি হয়। এসব রোগের প্রতিকার নেই বলে প্রতিরোধব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। কোনোভাবেই যাতে জীবাণু খামারের ভেতর প্রবেশ না করে এ জন্য জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
▪ খামারের প্রধান গেট তালা দিয়ে রাখতে হবে। ‘জৈব নিরাপত্তা চালু আছে, প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে
▪ খামারের চার পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
▪ খামারের শেডের পাশে খাদ্যদ্রব্য ফেলা যাবে না, এতে বন্যপাখি আসবে। বন্যপাখি বার্ড ফ্লুর ভাইরাস বহন করে
▪ দর্শনার্থীদের এবং অন্য খামারের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না
▪ খামারের ভেতরে নিয়োজিত কর্মীদের খামার কর্র্তৃক প্রদত্ত জীবাণুমুক্ত পোশাক, জুতা, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে
▪ খামারের ভেতর প্রবেশের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে। এসব কিছুতে জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
▪ খামারের ভেতর যারা থাকবে বা প্রবেশ করবে তাদের পরিধেয় সবকিছু জীবাণুমুক্ত হতে হবে
▪ টার্কির ঘরের দরজ বìধ রাখতে হবে; যাতে বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর, সাপ, বেজি ইত্যাদি প্রবেশ করতে না পারে
▪ এক খামারের লোক অন্য খামারে গোসল করতে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। জীবাণু এক খামার থেকে অন্য খামারে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে
▪ খামারের কর্মীদের বন্যপাখির দোকানে খাওয়া যাবে না
▪ খামার পরিত্যাগের সময় খামারের বস্ত্রাদি পরিবর্তন করে হাত-পা ভালোভাবে ধুতে হবে
▪ প্রতিটি শেডের সামনে পা ধোয়ার জীবাণুমুক্তকরণ তরল পদার্থ রাখতে হবে
▪ শেডে প্রবেশের সময় পা জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে
▪ দেশের ভেতর থেকে বাচ্চা সংগ্রহের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খামারের গত এক বছরে কোনো রোগ দেখা দিয়েছে কি না
▪ অতিথি পাখি খামারের আশপাশে বা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। খামারের কর্মীদেরও অতিথি পাখির কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ শীতকালে বিভিন্ন দেশে থেকে এ দেশে অতিথি পাখি আসে। পাখিগুলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে
▪ কোনো হাঁস-টার্কি অসুস্খ হলে বা মারা গেলে সাথে সাথে জেলা বা উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে হবে
▪ মৃত টার্কি মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ খামারে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র পথ চালু থাকবে
▪ টার্কি ও ডিম বিক্রি করে খাঁচা, সরঞ্জামাদি ও যানবাহন পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে খামারে প্রবেশ করতে হবে। কারণ যেখানে টার্কি ও ডিম বিক্রি করা হবে, সেখানে অন্য টার্কি থেকে জীবাণু আসতে পারে
▪ অবিক্রীত টার্কি ও ডিম খামারের ভেতর নেয়া যাবে না
▪ হাঁস-টার্কিকে সময়মতো সব রোগের টিকা দিতে হবে
▪ টার্কি, হাঁস, কবুতর ও অন্যান্য পাখি একত্রে পালন করা যাবে না
▪ অতিথি পাখি শিকার বìধ করা, বিক্রি বìধ করা এবং অতিথি পাখির কাছে যাওয়া নিষেধ
▪ বাড়িতে পালার জন্য বাজার থেকে কেনা টার্কি অন্তত ১৫ দিন আলাদা রেখে তারপর বাড়িতে টার্কির সাথে রাখতে হবে
▪ খামারের ভেতরে প্রবেশের সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক, টুপি ও এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে
▪ এক শেডের যন্ত্রপাতি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য শেডে ব্যবহার করা যাবে না
▪ রোগাক্রান্ত হাঁস-টার্কির বিষ্ঠা, ময়লা, বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ শেডের লিটার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে এবং শুকনা রাখার ব্যবস্খা করতে হবে
▪ টার্কির ঘরে কাজ করার সময় ভেতর থেকে দরজা বìধ রাখতে হবে
▪ টার্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পশু হাসপাতালে জানাতে হবে। অস্বাভাবিক আচরণের মধ্যে রয়েছে টার্কি পরপর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে পানি ও খাদ্য কম খেলে এবং ডিম উৎপাদন পর পর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে কমলে।
▪ লেয়ার টার্কির বিষ্ঠা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে
▪ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম ও টাটকা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
▪ জীবাণুনাশক হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ভিরকন, ফার্ম ফ্লুইড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে
টার্কি খামারে করণীয়ঃ
১) টার্কি শেডের চারপাশে ৫ মিটার জায়গা অতিরিক্ত বাড়াতে হবে;
২) বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে; বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে;
৩) ছাদের যেকোনো ছিদ্র পূর্বেই সারিয়ে নিতে হবে;
৪) প্রয়োজনীয় পলিথিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে যদি অতিরিক্ত ছাউনি দেওয়া না হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সামনে ও পেছনে যেন চটের তৈরি আচ্ছাদন থাকে। বড় টার্কির ক্ষেত্রে বৃষ্টি না থাকলে তা উঠিয়ে রাখতে হবে যাতে ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে;
৫) বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালমত রিপিয়ারিং করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে;
৬) খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে;
৭) লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে। শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ভেজা লিটার কক্সিডিওসিস, এন্টারইটিস, কৃমি সংক্রমণের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হবে যা টার্কির জন্য ক্ষতিকর;
৮) যারা আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করেন তাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।
৯) টার্কি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন রোগ-বালাই শেডে প্রবেশ করতে পারে।

প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোক সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি না পেয়ে  কাজের সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। এই তরুণদের চোখের সামনে নেই কোনো স্বপ্ন, নেই জীবনের অনাগত দিনগুলো সাজানোর কোনো সুন্দর পরিকল্পনা। কিন্তু এই ক্রান্তিকাল শুরুর আগে, কারো মনেই এমন প্রত্যাশা ও ছিল না। সবার মনেই ছিল একটা সুন্দর স্বপ্ন! সমাজের মানুষের কাছে দিন দিন নিজেদের নেতিবাচক অবস্থান দেখে তাদের অনেকেই আজ বিপর্যস্ত। যদি এই সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা না করা যায়, তাহলে এটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখা দিবে।”
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে ও শহরে ছাদ সহ অনেক জায়গা অনাবাদি/পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে নানা ধরনের ঘাস লতা। এ রকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশি উপযোগী। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে এক  বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী। তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান পোলট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোনো কাজে আসছে না, যারা কম ঝামেলাপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুঁজছেন, যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুঁজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের হতে পারে।”
টার্কি পালনের সুবিধা সমুহঃ
১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়
৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে
৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে
৫।  টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে
৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে
৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে।এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়
৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে
১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না
১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম
১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম
১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর
১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয়  অনেক বেশী
টার্কি পালনের অর্থনৈতিক স্থিতিমাপ সমূহ:
•    পুরুষ – মাদী অনুপাত- ১:৫
•    গড় ডিমের ওজন -৬৫ গ্রা.
•    গড় এক দিনের বাচ্চার ওজন-৫০ গ্রা.
•    যৌন পরিপক্কতার বয়স-৩০ সপ্তাহ
•    গড় ডিমের সংখ্যা-৮০-১০০
•    ইনকিউবেশন বা ডিমে তা দেওয়ার সময়সীমা-২৮ দিন
•    ২০ সপ্তাহে গড় ওজন-৪.৫-৫ কিগ্রা (মাদী) ৬-৭ কিগ্রা (পুরুষ)
•    ডিম দেওয়ার সময়সীমা-৩০ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স-পুরুষ-১৪-১৫ সপ্তাহ ,মাদী-১৭-১৮ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত ওজন-পুরুষ-৭.৫ কিগ্রা,মাদী-৫.৫ কিগ্রা
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত গড় খাবার গ্রহণ-পুরুষ-২৪-২৬ কিগ্রা,মাদী-১৭-১৯ কিগ্রা
* রোগ বালাইঃ
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায়। পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে।
টার্কির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার :
ক্রমরোগকারনলক্ষনপ্রতিরোধ
অ্যারিজানোসিসস্যালমোনেলা অ্যারিজানাছানারা বাড়ে না এবং চোখের অস্বচ্ছতা ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত হবার সম্ভাব্য বয়স ২৫-৩০ দিনসংক্রামিত ব্রীজারের পালকে বর্জন করা ও হ্যাচারি ফিউমিগেশন (জীবাণুনাশক ধোঁয়া প্রয়োগ) করা এবং জীবাণুমুক্ত করা৷
ব্লু-কোম রোগকরোনা ভাইরাসওজন হ্রাস,ফেনাফেনা বা জলের মত মল,মাথা ও চর্মের রং গাঢ় হওয়া৷খামারের পাখির সংখ্যা কমান ও সংক্রমণমুক্ত করা৷ কিছুটা সময় বিরতি দিন৷
শ্বাসনালীর রোগমাইকোপ্লাজ়মা গ্যালিসেপটিকামকাশি, গড়গড় শব্দ, হাঁচি, নাক দিয়ে রস গড়ান৷মাইকোপ্লাজমা বিহীন স্টক কিনুন
এরিসিপেলাসএরিসিপেলোথ্রিক্সরুসিওপ্যাথিডিআকস্মিক মৃত্যু,ফোলা স্নুড,মুখের নে স্থানে রং পরিবর্তন,ঝুঁকে পড়া ভাবটিকাকরণ
ফাউল কলেরাপ্যাস্চুরেলামাল্টো সিডাবেগুনি মাথা,সবজেটে হলুদ মল, আকস্মিক মৃত্যুজীবাণুনাশ ও মৃত পাখি যথাযথ ভাবে নষ্ট করা৷
ফাউল পক্সপক্স ভাইরাসঝুঁটি ও গলকম্বলে (ওয়াট্ল) ছোট ছোট হলুদ ফোসকা ও মামড়ি পড়াটিকাকরণ
রক্তস্রাবী আন্ত্রিক প্রদাহভাইরাসএক বা একাধিক মৃত পাখিটিকাকরণ
সংক্রামক সাইনোভাইটিসমাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকামপায়ের সন্ধি ও প্যাড ফোলা,খঞ্জত্ব, বুকে ফোসকাপরিষ্কার স্টক কিনুন
সাইনাসাইটিসব্যাকটিরিয়ানাক দিয়ে রস গড়ান,সাইনাস ও কাশিনীরোগ ব্রীডারদের কাছ থেকে শাবক কিনুন
১০মাইকোটক্সিকোসিসছত্রাক ঘটিতরক্তস্রাব,চর্বিযুক্ত লিভার ও কিডনিখাবার নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না
১১প্যারাটাইফয়েডস্যালমোনেলাপুলোরামছানাদের ডায়রিয়াপ্রতিরোধ ও পালের জীবাণুনাশ
১২টার্কি করাইজাবর্ডেটেল্লা এভিয়ামনাকে চাপা শব্দ, ফুসফুসে ঘড়ঘড় শব্দ ও নাক থেকে অত্যধিক শ্লেষ্মা পড়াটিকাকরণ
১৩কক্সিডিওসিসকক্সিডিয়াপ্ররক্তযুক্ত ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসযথাযথ জীবাণুনাশ ও লিটার পরিচালন
১৪টার্কি যৌন রোগমাইকোপ্লাজমা মেলিয়াগ্রিসউর্বরতা ও ফোটার যোগ্য ডিমের পরিমাণ হ্রাসকঠোর জীবাণুনাশ
টার্কি খামার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তাঃ
টার্কির খামারে যেন কোন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রতিরোধমূলক জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা জোড়দার করা উচিত। এ ছাড়াও রাণীক্ষেত, গামবোরো, বসন্ত ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ বেশি হয়। এসব রোগের প্রতিকার নেই বলে প্রতিরোধব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। কোনোভাবেই যাতে জীবাণু খামারের ভেতর প্রবেশ না করে এ জন্য জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
▪ খামারের প্রধান গেট তালা দিয়ে রাখতে হবে। ‘জৈব নিরাপত্তা চালু আছে, প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে
▪ খামারের চার পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
▪ খামারের শেডের পাশে খাদ্যদ্রব্য ফেলা যাবে না, এতে বন্যপাখি আসবে। বন্যপাখি বার্ড ফ্লুর ভাইরাস বহন করে
▪ দর্শনার্থীদের এবং অন্য খামারের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না
▪ খামারের ভেতরে নিয়োজিত কর্মীদের খামার কর্র্তৃক প্রদত্ত জীবাণুমুক্ত পোশাক, জুতা, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে
▪ খামারের ভেতর প্রবেশের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে। এসব কিছুতে জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
▪ খামারের ভেতর যারা থাকবে বা প্রবেশ করবে তাদের পরিধেয় সবকিছু জীবাণুমুক্ত হতে হবে
▪ টার্কির ঘরের দরজ বìধ রাখতে হবে; যাতে বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর, সাপ, বেজি ইত্যাদি প্রবেশ করতে না পারে
▪ এক খামারের লোক অন্য খামারে গোসল করতে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। জীবাণু এক খামার থেকে অন্য খামারে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে
▪ খামারের কর্মীদের বন্যপাখির দোকানে খাওয়া যাবে না
▪ খামার পরিত্যাগের সময় খামারের বস্ত্রাদি পরিবর্তন করে হাত-পা ভালোভাবে ধুতে হবে
▪ প্রতিটি শেডের সামনে পা ধোয়ার জীবাণুমুক্তকরণ তরল পদার্থ রাখতে হবে
▪ শেডে প্রবেশের সময় পা জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে
▪ দেশের ভেতর থেকে বাচ্চা সংগ্রহের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খামারের গত এক বছরে কোনো রোগ দেখা দিয়েছে কি না
▪ অতিথি পাখি খামারের আশপাশে বা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। খামারের কর্মীদেরও অতিথি পাখির কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ শীতকালে বিভিন্ন দেশে থেকে এ দেশে অতিথি পাখি আসে। পাখিগুলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে
▪ কোনো হাঁস-টার্কি অসুস্খ হলে বা মারা গেলে সাথে সাথে জেলা বা উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে হবে
▪ মৃত টার্কি মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ খামারে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র পথ চালু থাকবে
▪ টার্কি ও ডিম বিক্রি করে খাঁচা, সরঞ্জামাদি ও যানবাহন পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে খামারে প্রবেশ করতে হবে। কারণ যেখানে টার্কি ও ডিম বিক্রি করা হবে, সেখানে অন্য টার্কি থেকে জীবাণু আসতে পারে
▪ অবিক্রীত টার্কি ও ডিম খামারের ভেতর নেয়া যাবে না
▪ হাঁস-টার্কিকে সময়মতো সব রোগের টিকা দিতে হবে
▪ টার্কি, হাঁস, কবুতর ও অন্যান্য পাখি একত্রে পালন করা যাবে না
▪ অতিথি পাখি শিকার বìধ করা, বিক্রি বìধ করা এবং অতিথি পাখির কাছে যাওয়া নিষেধ
▪ বাড়িতে পালার জন্য বাজার থেকে কেনা টার্কি অন্তত ১৫ দিন আলাদা রেখে তারপর বাড়িতে টার্কির সাথে রাখতে হবে
▪ খামারের ভেতরে প্রবেশের সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক, টুপি ও এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে
▪ এক শেডের যন্ত্রপাতি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য শেডে ব্যবহার করা যাবে না
▪ রোগাক্রান্ত হাঁস-টার্কির বিষ্ঠা, ময়লা, বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ শেডের লিটার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে এবং শুকনা রাখার ব্যবস্খা করতে হবে
▪ টার্কির ঘরে কাজ করার সময় ভেতর থেকে দরজা বìধ রাখতে হবে
▪ টার্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পশু হাসপাতালে জানাতে হবে। অস্বাভাবিক আচরণের মধ্যে রয়েছে টার্কি পরপর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে পানি ও খাদ্য কম খেলে এবং ডিম উৎপাদন পর পর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে কমলে।
▪ লেয়ার টার্কির বিষ্ঠা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে
▪ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম ও টাটকা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
▪ জীবাণুনাশক হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ভিরকন, ফার্ম ফ্লুইড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে
টার্কি খামারে করণীয়ঃ
১) টার্কি শেডের চারপাশে ৫ মিটার জায়গা অতিরিক্ত বাড়াতে হবে;
২) বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে; বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে;
৩) ছাদের যেকোনো ছিদ্র পূর্বেই সারিয়ে নিতে হবে;
৪) প্রয়োজনীয় পলিথিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে যদি অতিরিক্ত ছাউনি দেওয়া না হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সামনে ও পেছনে যেন চটের তৈরি আচ্ছাদন থাকে। বড় টার্কির ক্ষেত্রে বৃষ্টি না থাকলে তা উঠিয়ে রাখতে হবে যাতে ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে;
৫) বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালমত রিপিয়ারিং করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে;
৬) খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে;
৭) লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে। শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ভেজা লিটার কক্সিডিওসিস, এন্টারইটিস, কৃমি সংক্রমণের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হবে যা টার্কির জন্য ক্ষতিকর;
৮) যারা আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করেন তাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।
৯) টার্কি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন রোগ-বালাই শেডে প্রবেশ করতে পারে।
আরো পড়ুন>

টার্কি পালন: অধিক লাভের হাতছানি | Turkey Murgi rearing In less time More profits


দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।
অংশীদারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেন সেলিম মিয়া। খামারের নাম দেন কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। সেলিমের পাশাপাশি আছেন আরও তিনজন অংশীদার। জমি নির্ধারণ, টার্কি বাচ্চা কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বমোট বিনিয়োগ করছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই খামারে এখন টার্কি মুরগির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সপ্তাহজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।
কথা হয় কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেনের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা গত বছর ভারত থেকে মাত্র ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলি। এরপর এই বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০টি। তবে এখন পর্যন্ত ফার্মের মুরগির মতো একসঙ্গে দুই হাজার বা তার থেকেও বেশি বাচ্চা ফুটানোর মতো অবস্থা হয়নি টার্কির। আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’
টার্কির দরদাম
দামের ব্যাপারে আকরাম হোসেন  বলেন, ‘আমরা যখন গত বছর কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম তিন হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ১০ হাজার টাকা।’
টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। এই ব্যাপারে ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’
আকরাম জানান, তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।
বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।
অদুর ভবিষ্যতে বয়লার মোরুগের স্হান দখল করবে টার্কি, কিভাবে?
আমাদের দেশি ব্রিড টার্কি ৬ মাসে প্রায় ৬/৭ কেজি ওজন হয়। ৬ কেজি ৩৫০ টাকা দরে= ২১০০/- টাকা।
খরচঃ- বাচ্চা ক্রয় করেঃ
প্রথম তিন মাস খাবার কম খায়,
দ্বিতীয় তিন মাস বেশি খায়।
গড় হিসেবে দৈনিক ৩.৫০ টাকা,
খাবার -----৩.৫০*১৮০=৬৩০/-
ঔষধ------------------------=১৫০/-
বাচ্চা ১৫ দিন-- ---------=৩০০/-
লেবার ---------------------=১০০/-
----------------------------------------------
মোট------------------------=১১৮০/-
বাচ্চা না কিনলে=৮৮০/-
২১০০-১১৮০=৯২০/- লাভ।
কোন অনুষ্ঠানে বয়লার মোরুগ অনেকেই খেতে চাইনা, সেখানে টার্কি পারফেক্ট।
এখন দরকার প্রচার ও সচেতনতা।

দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।
অংশীদারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেন সেলিম মিয়া। খামারের নাম দেন কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। সেলিমের পাশাপাশি আছেন আরও তিনজন অংশীদার। জমি নির্ধারণ, টার্কি বাচ্চা কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বমোট বিনিয়োগ করছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই খামারে এখন টার্কি মুরগির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সপ্তাহজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।
কথা হয় কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেনের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা গত বছর ভারত থেকে মাত্র ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলি। এরপর এই বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০টি। তবে এখন পর্যন্ত ফার্মের মুরগির মতো একসঙ্গে দুই হাজার বা তার থেকেও বেশি বাচ্চা ফুটানোর মতো অবস্থা হয়নি টার্কির। আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’
টার্কির দরদাম
দামের ব্যাপারে আকরাম হোসেন  বলেন, ‘আমরা যখন গত বছর কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম তিন হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ১০ হাজার টাকা।’
টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। এই ব্যাপারে ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’
আকরাম জানান, তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।
বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।
অদুর ভবিষ্যতে বয়লার মোরুগের স্হান দখল করবে টার্কি, কিভাবে?
আমাদের দেশি ব্রিড টার্কি ৬ মাসে প্রায় ৬/৭ কেজি ওজন হয়। ৬ কেজি ৩৫০ টাকা দরে= ২১০০/- টাকা।
খরচঃ- বাচ্চা ক্রয় করেঃ
প্রথম তিন মাস খাবার কম খায়,
দ্বিতীয় তিন মাস বেশি খায়।
গড় হিসেবে দৈনিক ৩.৫০ টাকা,
খাবার -----৩.৫০*১৮০=৬৩০/-
ঔষধ------------------------=১৫০/-
বাচ্চা ১৫ দিন-- ---------=৩০০/-
লেবার ---------------------=১০০/-
----------------------------------------------
মোট------------------------=১১৮০/-
বাচ্চা না কিনলে=৮৮০/-
২১০০-১১৮০=৯২০/- লাভ।
কোন অনুষ্ঠানে বয়লার মোরুগ অনেকেই খেতে চাইনা, সেখানে টার্কি পারফেক্ট।
এখন দরকার প্রচার ও সচেতনতা।
আরো পড়ুন>

বেকারত্ব বনাম টার্কি মুরগী খামার | Unemployment vs Turkey Hen farm



যারা বেকার বসে আছেন আপনাদেরকেই বলছি প্রতিদিন কোনোনা কোনো ভাবে আপনি সমাজের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছেন..
এই দেশের সমাজ ব্যাবস্থা এমন যে কাওকে ভালো পরামর্শ তো দুরের কথা ভালো কাজে উতসাহ দিতেও পারেনা.।
এই ধরুন আপনি একটা টার্কি খামার করতে চান তখন আপনার আসে পাসের লোকজন আপনাকে বিভিন্ন ভাবে নিরুতসাহিত করবে।
লান্সনার সিকাড় হতেও হবে আপনাকে আবার বেকার বসে আছেন তখনো আপনাকে অবজ্ঞা করবেই।
বাংগালীরা আর কিছু না পারলেও আপনি জত্তদিন বেকার থাকবেন ততদিন আপনার সমাজে দাম কানাকড়ি ও দিবেনা, আবার সোনার হরীণ হাতে পেয়ে গেলে আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে এটাই স্বভাব। পিছু লোকে কিছু বলে।
"টার্কি খামার এবং মানুষের তাচ্ছিল্যতা"
টার্কি খামার যখন থেকে শুরু করব ভাবলাম, তখন থেকেই মনে প্রানে একটাই, চাওয়া টার্কি খামার করব।
শুরু হল টার্কি খামারীদের বাড়িতে বাড়িতে রাত বিরাত ছুটাছুটি, তবে হা বুকে হাত রেখে বলছি টার্কি পেলে কখনো কোটিপতি বা লাখ পতি হবার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম না।
তবে বুঝতে পারতাম যে এটার বাজার সম্ভবনা।
স্বপ্নের খামার গড়ার জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য জমাকরা টাকা থেকেই বানালাম সেড কিনলাম ১মাসের ১০০পিস বাচ্চা।
মনে হয়েছিলো বিদেশে গিয়ে কি হবে কি কাজ করবো আমি? তাহলে কি দেশের প্রতি কোনদিন কোন দায় নিতে পারব না??
বহু কাঠ খড় পেরিয়ে তৈরী করে ফেললাম স্বপ্নের টার্কি খামর।
( তবে হুজুগে নয়,, সব ব্যাপারে নিজের সাধ্যমত জেনে, নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা নিয়ে ) কিন্তু পতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলাম সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিব, এবং ভালোবেসে টার্কির খামার করে নিজেকে খামারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব।সব ত্যাগ করে নিজেকে খামারী হিসেবে স্টাবলিশ করব মনস্থির করলাম।
খামার প্রতিস্থাপন করার পর,
গ্রামের পাড়ায়, পাড়ায় আনাচে কানাচে, চায়ের দোকানে কানাঘুচা চলতে থাকল
অমুকের ছেলে দেখি, লেখা পড়া করল
এখন চাকুরী না নিয়া, গ্রামে মুরগী পালে? তাও জংলী মুরগী।
মহিলারা বলতে শুরু করল, এই মুরগী না আইনা ফারমের মুরগী (ব্রয়লার) পাললে ও আমরা নিয়া দু একটা কিনে খাইতাম।
এত্ত ট্যাকা দিয়া কি মানুষ এমুন জংলী মুরগী খাইবো??? গ্রামের অধিকাংশ মুরুব্বিদের মুখে জখন শুনতাম এগুলো শকুন/শকুনের সাথে ক্রস করা তখনো একেকবার বুকটা হু হু করে কেঁদেছে বহুবার..
এভাবে নানা ভাবে নানা জনের তাচ্ছিল্য সহ্য করতাম।
এক সময় শুরু হল নিজের ভালবাসার টার্কি গুলার পোডাক্শান।
যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাচ্চা, টার্কির মাংশের জন্য মোরগ নিতে ঝাকে ঝাকে মানুষ এসে আমাকে ভালোবাসা দিতে শুরু করল
তখন সেদিনের সেই তাচ্ছিল্য করা মানুষ গুলাই এখন প্রতিনিয়ত জানতে চায়
কবে তার ছেলে, জামাই, এবং তাদের বাড়িতে একটা টার্কি ফার্ম গড়ে তুলতে কবে সাহায্য করব?
এভাবেই শত ব্যস্ততার মধ্যেই খামরীদের ভালোবাসা নিয়ে যতটুকু পারি গড়িয়ে দিচ্ছি তাদের স্বপ্নের টার্কি ফার্ম।
গড়িয়ে উঠছে অসংখ্য টার্কি খামার।
>>টার্কি শুধু একটা পাখি ই না
>> টার্কি খামার বাংলাদের মানুষের স্বপ্ন এবং ভালোবাসার জায়গা।
বিঃদ্রঃ ( টার্কি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়
দেখি এখনও প্রায় তাচ্ছিল্য করে
বেড়ায় কিছু অতি নগন্য আর কিছু
নিচুশ্রেনীর মানুষ।
ব্যাপার না সব ভালোবাসার বিপরীতে
কিছু ভিলেন থাকে, তবে জয় হয়
শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই।
"আমরা শুরু করেছি আপনিও এগিয়ে আসুন। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান, পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না?
প্রবাসী ভাইয়েরা দেশে ফিরে লাভজনক কিছু একটা করবেন ভাবছেন?
যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন। যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের।"
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন / ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে।
একটুখানি সচেতনতা, সরকারী সদিচ্ছা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক অংশ গ্রহনে এই টার্কিই হয়ে উঠতে পারে আত্নকর্মসংস্থানের মাধ্যম, নিরাপদ ও সহজলভ্য মাংসের যোগান, সর্বোপরি ব্যপক উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপযোগী সব বয়সী বাচ্চা ও এডাল টার্কি বিক্রয় চলছে।


যারা বেকার বসে আছেন আপনাদেরকেই বলছি প্রতিদিন কোনোনা কোনো ভাবে আপনি সমাজের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছেন..
এই দেশের সমাজ ব্যাবস্থা এমন যে কাওকে ভালো পরামর্শ তো দুরের কথা ভালো কাজে উতসাহ দিতেও পারেনা.।
এই ধরুন আপনি একটা টার্কি খামার করতে চান তখন আপনার আসে পাসের লোকজন আপনাকে বিভিন্ন ভাবে নিরুতসাহিত করবে।
লান্সনার সিকাড় হতেও হবে আপনাকে আবার বেকার বসে আছেন তখনো আপনাকে অবজ্ঞা করবেই।
বাংগালীরা আর কিছু না পারলেও আপনি জত্তদিন বেকার থাকবেন ততদিন আপনার সমাজে দাম কানাকড়ি ও দিবেনা, আবার সোনার হরীণ হাতে পেয়ে গেলে আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে এটাই স্বভাব। পিছু লোকে কিছু বলে।
"টার্কি খামার এবং মানুষের তাচ্ছিল্যতা"
টার্কি খামার যখন থেকে শুরু করব ভাবলাম, তখন থেকেই মনে প্রানে একটাই, চাওয়া টার্কি খামার করব।
শুরু হল টার্কি খামারীদের বাড়িতে বাড়িতে রাত বিরাত ছুটাছুটি, তবে হা বুকে হাত রেখে বলছি টার্কি পেলে কখনো কোটিপতি বা লাখ পতি হবার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম না।
তবে বুঝতে পারতাম যে এটার বাজার সম্ভবনা।
স্বপ্নের খামার গড়ার জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য জমাকরা টাকা থেকেই বানালাম সেড কিনলাম ১মাসের ১০০পিস বাচ্চা।
মনে হয়েছিলো বিদেশে গিয়ে কি হবে কি কাজ করবো আমি? তাহলে কি দেশের প্রতি কোনদিন কোন দায় নিতে পারব না??
বহু কাঠ খড় পেরিয়ে তৈরী করে ফেললাম স্বপ্নের টার্কি খামর।
( তবে হুজুগে নয়,, সব ব্যাপারে নিজের সাধ্যমত জেনে, নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা নিয়ে ) কিন্তু পতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলাম সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিব, এবং ভালোবেসে টার্কির খামার করে নিজেকে খামারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব।সব ত্যাগ করে নিজেকে খামারী হিসেবে স্টাবলিশ করব মনস্থির করলাম।
খামার প্রতিস্থাপন করার পর,
গ্রামের পাড়ায়, পাড়ায় আনাচে কানাচে, চায়ের দোকানে কানাঘুচা চলতে থাকল
অমুকের ছেলে দেখি, লেখা পড়া করল
এখন চাকুরী না নিয়া, গ্রামে মুরগী পালে? তাও জংলী মুরগী।
মহিলারা বলতে শুরু করল, এই মুরগী না আইনা ফারমের মুরগী (ব্রয়লার) পাললে ও আমরা নিয়া দু একটা কিনে খাইতাম।
এত্ত ট্যাকা দিয়া কি মানুষ এমুন জংলী মুরগী খাইবো??? গ্রামের অধিকাংশ মুরুব্বিদের মুখে জখন শুনতাম এগুলো শকুন/শকুনের সাথে ক্রস করা তখনো একেকবার বুকটা হু হু করে কেঁদেছে বহুবার..
এভাবে নানা ভাবে নানা জনের তাচ্ছিল্য সহ্য করতাম।
এক সময় শুরু হল নিজের ভালবাসার টার্কি গুলার পোডাক্শান।
যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাচ্চা, টার্কির মাংশের জন্য মোরগ নিতে ঝাকে ঝাকে মানুষ এসে আমাকে ভালোবাসা দিতে শুরু করল
তখন সেদিনের সেই তাচ্ছিল্য করা মানুষ গুলাই এখন প্রতিনিয়ত জানতে চায়
কবে তার ছেলে, জামাই, এবং তাদের বাড়িতে একটা টার্কি ফার্ম গড়ে তুলতে কবে সাহায্য করব?
এভাবেই শত ব্যস্ততার মধ্যেই খামরীদের ভালোবাসা নিয়ে যতটুকু পারি গড়িয়ে দিচ্ছি তাদের স্বপ্নের টার্কি ফার্ম।
গড়িয়ে উঠছে অসংখ্য টার্কি খামার।
>>টার্কি শুধু একটা পাখি ই না
>> টার্কি খামার বাংলাদের মানুষের স্বপ্ন এবং ভালোবাসার জায়গা।
বিঃদ্রঃ ( টার্কি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়
দেখি এখনও প্রায় তাচ্ছিল্য করে
বেড়ায় কিছু অতি নগন্য আর কিছু
নিচুশ্রেনীর মানুষ।
ব্যাপার না সব ভালোবাসার বিপরীতে
কিছু ভিলেন থাকে, তবে জয় হয়
শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই।
"আমরা শুরু করেছি আপনিও এগিয়ে আসুন। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান, পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না?
প্রবাসী ভাইয়েরা দেশে ফিরে লাভজনক কিছু একটা করবেন ভাবছেন?
যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন। যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের।"
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন / ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে।
একটুখানি সচেতনতা, সরকারী সদিচ্ছা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক অংশ গ্রহনে এই টার্কিই হয়ে উঠতে পারে আত্নকর্মসংস্থানের মাধ্যম, নিরাপদ ও সহজলভ্য মাংসের যোগান, সর্বোপরি ব্যপক উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপযোগী সব বয়সী বাচ্চা ও এডাল টার্কি বিক্রয় চলছে।
আরো পড়ুন>