Latest Products
Showing posts with label tarki hen price. Show all posts
Showing posts with label tarki hen price. Show all posts

টার্কি পালন নতুন সম্ভাবনার হাতছানিঃ পর্ব-০৩ (রোগ বালাই ও জৈব নিরাপত্তা) Tarki Murgi Palon Korte Chaile


প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোক সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি না পেয়ে  কাজের সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। এই তরুণদের চোখের সামনে নেই কোনো স্বপ্ন, নেই জীবনের অনাগত দিনগুলো সাজানোর কোনো সুন্দর পরিকল্পনা। কিন্তু এই ক্রান্তিকাল শুরুর আগে, কারো মনেই এমন প্রত্যাশা ও ছিল না। সবার মনেই ছিল একটা সুন্দর স্বপ্ন! সমাজের মানুষের কাছে দিন দিন নিজেদের নেতিবাচক অবস্থান দেখে তাদের অনেকেই আজ বিপর্যস্ত। যদি এই সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা না করা যায়, তাহলে এটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখা দিবে।”
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে ও শহরে ছাদ সহ অনেক জায়গা অনাবাদি/পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে নানা ধরনের ঘাস লতা। এ রকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশি উপযোগী। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে এক  বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী। তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান পোলট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোনো কাজে আসছে না, যারা কম ঝামেলাপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুঁজছেন, যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুঁজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের হতে পারে।”
টার্কি পালনের সুবিধা সমুহঃ
১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়
৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে
৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে
৫।  টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে
৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে
৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে।এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়
৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে
১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না
১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম
১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম
১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর
১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয়  অনেক বেশী
টার্কি পালনের অর্থনৈতিক স্থিতিমাপ সমূহ:
•    পুরুষ – মাদী অনুপাত- ১:৫
•    গড় ডিমের ওজন -৬৫ গ্রা.
•    গড় এক দিনের বাচ্চার ওজন-৫০ গ্রা.
•    যৌন পরিপক্কতার বয়স-৩০ সপ্তাহ
•    গড় ডিমের সংখ্যা-৮০-১০০
•    ইনকিউবেশন বা ডিমে তা দেওয়ার সময়সীমা-২৮ দিন
•    ২০ সপ্তাহে গড় ওজন-৪.৫-৫ কিগ্রা (মাদী) ৬-৭ কিগ্রা (পুরুষ)
•    ডিম দেওয়ার সময়সীমা-৩০ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স-পুরুষ-১৪-১৫ সপ্তাহ ,মাদী-১৭-১৮ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত ওজন-পুরুষ-৭.৫ কিগ্রা,মাদী-৫.৫ কিগ্রা
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত গড় খাবার গ্রহণ-পুরুষ-২৪-২৬ কিগ্রা,মাদী-১৭-১৯ কিগ্রা
* রোগ বালাইঃ
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায়। পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে।
টার্কির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার :
ক্রমরোগকারনলক্ষনপ্রতিরোধ
অ্যারিজানোসিসস্যালমোনেলা অ্যারিজানাছানারা বাড়ে না এবং চোখের অস্বচ্ছতা ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত হবার সম্ভাব্য বয়স ২৫-৩০ দিনসংক্রামিত ব্রীজারের পালকে বর্জন করা ও হ্যাচারি ফিউমিগেশন (জীবাণুনাশক ধোঁয়া প্রয়োগ) করা এবং জীবাণুমুক্ত করা৷
ব্লু-কোম রোগকরোনা ভাইরাসওজন হ্রাস,ফেনাফেনা বা জলের মত মল,মাথা ও চর্মের রং গাঢ় হওয়া৷খামারের পাখির সংখ্যা কমান ও সংক্রমণমুক্ত করা৷ কিছুটা সময় বিরতি দিন৷
শ্বাসনালীর রোগমাইকোপ্লাজ়মা গ্যালিসেপটিকামকাশি, গড়গড় শব্দ, হাঁচি, নাক দিয়ে রস গড়ান৷মাইকোপ্লাজমা বিহীন স্টক কিনুন
এরিসিপেলাসএরিসিপেলোথ্রিক্সরুসিওপ্যাথিডিআকস্মিক মৃত্যু,ফোলা স্নুড,মুখের নে স্থানে রং পরিবর্তন,ঝুঁকে পড়া ভাবটিকাকরণ
ফাউল কলেরাপ্যাস্চুরেলামাল্টো সিডাবেগুনি মাথা,সবজেটে হলুদ মল, আকস্মিক মৃত্যুজীবাণুনাশ ও মৃত পাখি যথাযথ ভাবে নষ্ট করা৷
ফাউল পক্সপক্স ভাইরাসঝুঁটি ও গলকম্বলে (ওয়াট্ল) ছোট ছোট হলুদ ফোসকা ও মামড়ি পড়াটিকাকরণ
রক্তস্রাবী আন্ত্রিক প্রদাহভাইরাসএক বা একাধিক মৃত পাখিটিকাকরণ
সংক্রামক সাইনোভাইটিসমাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকামপায়ের সন্ধি ও প্যাড ফোলা,খঞ্জত্ব, বুকে ফোসকাপরিষ্কার স্টক কিনুন
সাইনাসাইটিসব্যাকটিরিয়ানাক দিয়ে রস গড়ান,সাইনাস ও কাশিনীরোগ ব্রীডারদের কাছ থেকে শাবক কিনুন
১০মাইকোটক্সিকোসিসছত্রাক ঘটিতরক্তস্রাব,চর্বিযুক্ত লিভার ও কিডনিখাবার নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না
১১প্যারাটাইফয়েডস্যালমোনেলাপুলোরামছানাদের ডায়রিয়াপ্রতিরোধ ও পালের জীবাণুনাশ
১২টার্কি করাইজাবর্ডেটেল্লা এভিয়ামনাকে চাপা শব্দ, ফুসফুসে ঘড়ঘড় শব্দ ও নাক থেকে অত্যধিক শ্লেষ্মা পড়াটিকাকরণ
১৩কক্সিডিওসিসকক্সিডিয়াপ্ররক্তযুক্ত ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসযথাযথ জীবাণুনাশ ও লিটার পরিচালন
১৪টার্কি যৌন রোগমাইকোপ্লাজমা মেলিয়াগ্রিসউর্বরতা ও ফোটার যোগ্য ডিমের পরিমাণ হ্রাসকঠোর জীবাণুনাশ
টার্কি খামার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তাঃ
টার্কির খামারে যেন কোন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রতিরোধমূলক জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা জোড়দার করা উচিত। এ ছাড়াও রাণীক্ষেত, গামবোরো, বসন্ত ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ বেশি হয়। এসব রোগের প্রতিকার নেই বলে প্রতিরোধব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। কোনোভাবেই যাতে জীবাণু খামারের ভেতর প্রবেশ না করে এ জন্য জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
▪ খামারের প্রধান গেট তালা দিয়ে রাখতে হবে। ‘জৈব নিরাপত্তা চালু আছে, প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে
▪ খামারের চার পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
▪ খামারের শেডের পাশে খাদ্যদ্রব্য ফেলা যাবে না, এতে বন্যপাখি আসবে। বন্যপাখি বার্ড ফ্লুর ভাইরাস বহন করে
▪ দর্শনার্থীদের এবং অন্য খামারের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না
▪ খামারের ভেতরে নিয়োজিত কর্মীদের খামার কর্র্তৃক প্রদত্ত জীবাণুমুক্ত পোশাক, জুতা, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে
▪ খামারের ভেতর প্রবেশের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে। এসব কিছুতে জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
▪ খামারের ভেতর যারা থাকবে বা প্রবেশ করবে তাদের পরিধেয় সবকিছু জীবাণুমুক্ত হতে হবে
▪ টার্কির ঘরের দরজ বìধ রাখতে হবে; যাতে বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর, সাপ, বেজি ইত্যাদি প্রবেশ করতে না পারে
▪ এক খামারের লোক অন্য খামারে গোসল করতে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। জীবাণু এক খামার থেকে অন্য খামারে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে
▪ খামারের কর্মীদের বন্যপাখির দোকানে খাওয়া যাবে না
▪ খামার পরিত্যাগের সময় খামারের বস্ত্রাদি পরিবর্তন করে হাত-পা ভালোভাবে ধুতে হবে
▪ প্রতিটি শেডের সামনে পা ধোয়ার জীবাণুমুক্তকরণ তরল পদার্থ রাখতে হবে
▪ শেডে প্রবেশের সময় পা জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে
▪ দেশের ভেতর থেকে বাচ্চা সংগ্রহের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খামারের গত এক বছরে কোনো রোগ দেখা দিয়েছে কি না
▪ অতিথি পাখি খামারের আশপাশে বা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। খামারের কর্মীদেরও অতিথি পাখির কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ শীতকালে বিভিন্ন দেশে থেকে এ দেশে অতিথি পাখি আসে। পাখিগুলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে
▪ কোনো হাঁস-টার্কি অসুস্খ হলে বা মারা গেলে সাথে সাথে জেলা বা উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে হবে
▪ মৃত টার্কি মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ খামারে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র পথ চালু থাকবে
▪ টার্কি ও ডিম বিক্রি করে খাঁচা, সরঞ্জামাদি ও যানবাহন পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে খামারে প্রবেশ করতে হবে। কারণ যেখানে টার্কি ও ডিম বিক্রি করা হবে, সেখানে অন্য টার্কি থেকে জীবাণু আসতে পারে
▪ অবিক্রীত টার্কি ও ডিম খামারের ভেতর নেয়া যাবে না
▪ হাঁস-টার্কিকে সময়মতো সব রোগের টিকা দিতে হবে
▪ টার্কি, হাঁস, কবুতর ও অন্যান্য পাখি একত্রে পালন করা যাবে না
▪ অতিথি পাখি শিকার বìধ করা, বিক্রি বìধ করা এবং অতিথি পাখির কাছে যাওয়া নিষেধ
▪ বাড়িতে পালার জন্য বাজার থেকে কেনা টার্কি অন্তত ১৫ দিন আলাদা রেখে তারপর বাড়িতে টার্কির সাথে রাখতে হবে
▪ খামারের ভেতরে প্রবেশের সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক, টুপি ও এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে
▪ এক শেডের যন্ত্রপাতি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য শেডে ব্যবহার করা যাবে না
▪ রোগাক্রান্ত হাঁস-টার্কির বিষ্ঠা, ময়লা, বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ শেডের লিটার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে এবং শুকনা রাখার ব্যবস্খা করতে হবে
▪ টার্কির ঘরে কাজ করার সময় ভেতর থেকে দরজা বìধ রাখতে হবে
▪ টার্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পশু হাসপাতালে জানাতে হবে। অস্বাভাবিক আচরণের মধ্যে রয়েছে টার্কি পরপর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে পানি ও খাদ্য কম খেলে এবং ডিম উৎপাদন পর পর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে কমলে।
▪ লেয়ার টার্কির বিষ্ঠা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে
▪ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম ও টাটকা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
▪ জীবাণুনাশক হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ভিরকন, ফার্ম ফ্লুইড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে
টার্কি খামারে করণীয়ঃ
১) টার্কি শেডের চারপাশে ৫ মিটার জায়গা অতিরিক্ত বাড়াতে হবে;
২) বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে; বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে;
৩) ছাদের যেকোনো ছিদ্র পূর্বেই সারিয়ে নিতে হবে;
৪) প্রয়োজনীয় পলিথিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে যদি অতিরিক্ত ছাউনি দেওয়া না হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সামনে ও পেছনে যেন চটের তৈরি আচ্ছাদন থাকে। বড় টার্কির ক্ষেত্রে বৃষ্টি না থাকলে তা উঠিয়ে রাখতে হবে যাতে ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে;
৫) বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালমত রিপিয়ারিং করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে;
৬) খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে;
৭) লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে। শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ভেজা লিটার কক্সিডিওসিস, এন্টারইটিস, কৃমি সংক্রমণের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হবে যা টার্কির জন্য ক্ষতিকর;
৮) যারা আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করেন তাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।
৯) টার্কি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন রোগ-বালাই শেডে প্রবেশ করতে পারে।

প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোক সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি না পেয়ে  কাজের সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। এই তরুণদের চোখের সামনে নেই কোনো স্বপ্ন, নেই জীবনের অনাগত দিনগুলো সাজানোর কোনো সুন্দর পরিকল্পনা। কিন্তু এই ক্রান্তিকাল শুরুর আগে, কারো মনেই এমন প্রত্যাশা ও ছিল না। সবার মনেই ছিল একটা সুন্দর স্বপ্ন! সমাজের মানুষের কাছে দিন দিন নিজেদের নেতিবাচক অবস্থান দেখে তাদের অনেকেই আজ বিপর্যস্ত। যদি এই সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা না করা যায়, তাহলে এটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখা দিবে।”
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে ও শহরে ছাদ সহ অনেক জায়গা অনাবাদি/পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে নানা ধরনের ঘাস লতা। এ রকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশি উপযোগী। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে এক  বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী। তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান পোলট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোনো কাজে আসছে না, যারা কম ঝামেলাপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুঁজছেন, যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুঁজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের হতে পারে।”
টার্কি পালনের সুবিধা সমুহঃ
১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়
৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে
৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে
৫।  টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে
৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে
৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে।এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়
৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে
১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না
১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম
১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম
১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর
১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয়  অনেক বেশী
টার্কি পালনের অর্থনৈতিক স্থিতিমাপ সমূহ:
•    পুরুষ – মাদী অনুপাত- ১:৫
•    গড় ডিমের ওজন -৬৫ গ্রা.
•    গড় এক দিনের বাচ্চার ওজন-৫০ গ্রা.
•    যৌন পরিপক্কতার বয়স-৩০ সপ্তাহ
•    গড় ডিমের সংখ্যা-৮০-১০০
•    ইনকিউবেশন বা ডিমে তা দেওয়ার সময়সীমা-২৮ দিন
•    ২০ সপ্তাহে গড় ওজন-৪.৫-৫ কিগ্রা (মাদী) ৬-৭ কিগ্রা (পুরুষ)
•    ডিম দেওয়ার সময়সীমা-৩০ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স-পুরুষ-১৪-১৫ সপ্তাহ ,মাদী-১৭-১৮ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত ওজন-পুরুষ-৭.৫ কিগ্রা,মাদী-৫.৫ কিগ্রা
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত গড় খাবার গ্রহণ-পুরুষ-২৪-২৬ কিগ্রা,মাদী-১৭-১৯ কিগ্রা
* রোগ বালাইঃ
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায়। পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে।
টার্কির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার :
ক্রমরোগকারনলক্ষনপ্রতিরোধ
অ্যারিজানোসিসস্যালমোনেলা অ্যারিজানাছানারা বাড়ে না এবং চোখের অস্বচ্ছতা ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত হবার সম্ভাব্য বয়স ২৫-৩০ দিনসংক্রামিত ব্রীজারের পালকে বর্জন করা ও হ্যাচারি ফিউমিগেশন (জীবাণুনাশক ধোঁয়া প্রয়োগ) করা এবং জীবাণুমুক্ত করা৷
ব্লু-কোম রোগকরোনা ভাইরাসওজন হ্রাস,ফেনাফেনা বা জলের মত মল,মাথা ও চর্মের রং গাঢ় হওয়া৷খামারের পাখির সংখ্যা কমান ও সংক্রমণমুক্ত করা৷ কিছুটা সময় বিরতি দিন৷
শ্বাসনালীর রোগমাইকোপ্লাজ়মা গ্যালিসেপটিকামকাশি, গড়গড় শব্দ, হাঁচি, নাক দিয়ে রস গড়ান৷মাইকোপ্লাজমা বিহীন স্টক কিনুন
এরিসিপেলাসএরিসিপেলোথ্রিক্সরুসিওপ্যাথিডিআকস্মিক মৃত্যু,ফোলা স্নুড,মুখের নে স্থানে রং পরিবর্তন,ঝুঁকে পড়া ভাবটিকাকরণ
ফাউল কলেরাপ্যাস্চুরেলামাল্টো সিডাবেগুনি মাথা,সবজেটে হলুদ মল, আকস্মিক মৃত্যুজীবাণুনাশ ও মৃত পাখি যথাযথ ভাবে নষ্ট করা৷
ফাউল পক্সপক্স ভাইরাসঝুঁটি ও গলকম্বলে (ওয়াট্ল) ছোট ছোট হলুদ ফোসকা ও মামড়ি পড়াটিকাকরণ
রক্তস্রাবী আন্ত্রিক প্রদাহভাইরাসএক বা একাধিক মৃত পাখিটিকাকরণ
সংক্রামক সাইনোভাইটিসমাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকামপায়ের সন্ধি ও প্যাড ফোলা,খঞ্জত্ব, বুকে ফোসকাপরিষ্কার স্টক কিনুন
সাইনাসাইটিসব্যাকটিরিয়ানাক দিয়ে রস গড়ান,সাইনাস ও কাশিনীরোগ ব্রীডারদের কাছ থেকে শাবক কিনুন
১০মাইকোটক্সিকোসিসছত্রাক ঘটিতরক্তস্রাব,চর্বিযুক্ত লিভার ও কিডনিখাবার নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না
১১প্যারাটাইফয়েডস্যালমোনেলাপুলোরামছানাদের ডায়রিয়াপ্রতিরোধ ও পালের জীবাণুনাশ
১২টার্কি করাইজাবর্ডেটেল্লা এভিয়ামনাকে চাপা শব্দ, ফুসফুসে ঘড়ঘড় শব্দ ও নাক থেকে অত্যধিক শ্লেষ্মা পড়াটিকাকরণ
১৩কক্সিডিওসিসকক্সিডিয়াপ্ররক্তযুক্ত ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসযথাযথ জীবাণুনাশ ও লিটার পরিচালন
১৪টার্কি যৌন রোগমাইকোপ্লাজমা মেলিয়াগ্রিসউর্বরতা ও ফোটার যোগ্য ডিমের পরিমাণ হ্রাসকঠোর জীবাণুনাশ
টার্কি খামার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তাঃ
টার্কির খামারে যেন কোন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রতিরোধমূলক জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা জোড়দার করা উচিত। এ ছাড়াও রাণীক্ষেত, গামবোরো, বসন্ত ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ বেশি হয়। এসব রোগের প্রতিকার নেই বলে প্রতিরোধব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। কোনোভাবেই যাতে জীবাণু খামারের ভেতর প্রবেশ না করে এ জন্য জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
▪ খামারের প্রধান গেট তালা দিয়ে রাখতে হবে। ‘জৈব নিরাপত্তা চালু আছে, প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে
▪ খামারের চার পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
▪ খামারের শেডের পাশে খাদ্যদ্রব্য ফেলা যাবে না, এতে বন্যপাখি আসবে। বন্যপাখি বার্ড ফ্লুর ভাইরাস বহন করে
▪ দর্শনার্থীদের এবং অন্য খামারের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না
▪ খামারের ভেতরে নিয়োজিত কর্মীদের খামার কর্র্তৃক প্রদত্ত জীবাণুমুক্ত পোশাক, জুতা, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে
▪ খামারের ভেতর প্রবেশের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে। এসব কিছুতে জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
▪ খামারের ভেতর যারা থাকবে বা প্রবেশ করবে তাদের পরিধেয় সবকিছু জীবাণুমুক্ত হতে হবে
▪ টার্কির ঘরের দরজ বìধ রাখতে হবে; যাতে বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর, সাপ, বেজি ইত্যাদি প্রবেশ করতে না পারে
▪ এক খামারের লোক অন্য খামারে গোসল করতে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। জীবাণু এক খামার থেকে অন্য খামারে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে
▪ খামারের কর্মীদের বন্যপাখির দোকানে খাওয়া যাবে না
▪ খামার পরিত্যাগের সময় খামারের বস্ত্রাদি পরিবর্তন করে হাত-পা ভালোভাবে ধুতে হবে
▪ প্রতিটি শেডের সামনে পা ধোয়ার জীবাণুমুক্তকরণ তরল পদার্থ রাখতে হবে
▪ শেডে প্রবেশের সময় পা জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে
▪ দেশের ভেতর থেকে বাচ্চা সংগ্রহের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খামারের গত এক বছরে কোনো রোগ দেখা দিয়েছে কি না
▪ অতিথি পাখি খামারের আশপাশে বা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। খামারের কর্মীদেরও অতিথি পাখির কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ শীতকালে বিভিন্ন দেশে থেকে এ দেশে অতিথি পাখি আসে। পাখিগুলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে
▪ কোনো হাঁস-টার্কি অসুস্খ হলে বা মারা গেলে সাথে সাথে জেলা বা উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে হবে
▪ মৃত টার্কি মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ খামারে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র পথ চালু থাকবে
▪ টার্কি ও ডিম বিক্রি করে খাঁচা, সরঞ্জামাদি ও যানবাহন পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে খামারে প্রবেশ করতে হবে। কারণ যেখানে টার্কি ও ডিম বিক্রি করা হবে, সেখানে অন্য টার্কি থেকে জীবাণু আসতে পারে
▪ অবিক্রীত টার্কি ও ডিম খামারের ভেতর নেয়া যাবে না
▪ হাঁস-টার্কিকে সময়মতো সব রোগের টিকা দিতে হবে
▪ টার্কি, হাঁস, কবুতর ও অন্যান্য পাখি একত্রে পালন করা যাবে না
▪ অতিথি পাখি শিকার বìধ করা, বিক্রি বìধ করা এবং অতিথি পাখির কাছে যাওয়া নিষেধ
▪ বাড়িতে পালার জন্য বাজার থেকে কেনা টার্কি অন্তত ১৫ দিন আলাদা রেখে তারপর বাড়িতে টার্কির সাথে রাখতে হবে
▪ খামারের ভেতরে প্রবেশের সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক, টুপি ও এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে
▪ এক শেডের যন্ত্রপাতি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য শেডে ব্যবহার করা যাবে না
▪ রোগাক্রান্ত হাঁস-টার্কির বিষ্ঠা, ময়লা, বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ শেডের লিটার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে এবং শুকনা রাখার ব্যবস্খা করতে হবে
▪ টার্কির ঘরে কাজ করার সময় ভেতর থেকে দরজা বìধ রাখতে হবে
▪ টার্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পশু হাসপাতালে জানাতে হবে। অস্বাভাবিক আচরণের মধ্যে রয়েছে টার্কি পরপর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে পানি ও খাদ্য কম খেলে এবং ডিম উৎপাদন পর পর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে কমলে।
▪ লেয়ার টার্কির বিষ্ঠা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে
▪ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম ও টাটকা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
▪ জীবাণুনাশক হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ভিরকন, ফার্ম ফ্লুইড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে
টার্কি খামারে করণীয়ঃ
১) টার্কি শেডের চারপাশে ৫ মিটার জায়গা অতিরিক্ত বাড়াতে হবে;
২) বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে; বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে;
৩) ছাদের যেকোনো ছিদ্র পূর্বেই সারিয়ে নিতে হবে;
৪) প্রয়োজনীয় পলিথিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে যদি অতিরিক্ত ছাউনি দেওয়া না হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সামনে ও পেছনে যেন চটের তৈরি আচ্ছাদন থাকে। বড় টার্কির ক্ষেত্রে বৃষ্টি না থাকলে তা উঠিয়ে রাখতে হবে যাতে ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে;
৫) বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালমত রিপিয়ারিং করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে;
৬) খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে;
৭) লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে। শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ভেজা লিটার কক্সিডিওসিস, এন্টারইটিস, কৃমি সংক্রমণের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হবে যা টার্কির জন্য ক্ষতিকর;
৮) যারা আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করেন তাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।
৯) টার্কি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন রোগ-বালাই শেডে প্রবেশ করতে পারে।
আরো পড়ুন>

বেকারত্ব বনাম টার্কি মুরগী খামার | Unemployment vs Turkey Hen farm



যারা বেকার বসে আছেন আপনাদেরকেই বলছি প্রতিদিন কোনোনা কোনো ভাবে আপনি সমাজের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছেন..
এই দেশের সমাজ ব্যাবস্থা এমন যে কাওকে ভালো পরামর্শ তো দুরের কথা ভালো কাজে উতসাহ দিতেও পারেনা.।
এই ধরুন আপনি একটা টার্কি খামার করতে চান তখন আপনার আসে পাসের লোকজন আপনাকে বিভিন্ন ভাবে নিরুতসাহিত করবে।
লান্সনার সিকাড় হতেও হবে আপনাকে আবার বেকার বসে আছেন তখনো আপনাকে অবজ্ঞা করবেই।
বাংগালীরা আর কিছু না পারলেও আপনি জত্তদিন বেকার থাকবেন ততদিন আপনার সমাজে দাম কানাকড়ি ও দিবেনা, আবার সোনার হরীণ হাতে পেয়ে গেলে আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে এটাই স্বভাব। পিছু লোকে কিছু বলে।
"টার্কি খামার এবং মানুষের তাচ্ছিল্যতা"
টার্কি খামার যখন থেকে শুরু করব ভাবলাম, তখন থেকেই মনে প্রানে একটাই, চাওয়া টার্কি খামার করব।
শুরু হল টার্কি খামারীদের বাড়িতে বাড়িতে রাত বিরাত ছুটাছুটি, তবে হা বুকে হাত রেখে বলছি টার্কি পেলে কখনো কোটিপতি বা লাখ পতি হবার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম না।
তবে বুঝতে পারতাম যে এটার বাজার সম্ভবনা।
স্বপ্নের খামার গড়ার জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য জমাকরা টাকা থেকেই বানালাম সেড কিনলাম ১মাসের ১০০পিস বাচ্চা।
মনে হয়েছিলো বিদেশে গিয়ে কি হবে কি কাজ করবো আমি? তাহলে কি দেশের প্রতি কোনদিন কোন দায় নিতে পারব না??
বহু কাঠ খড় পেরিয়ে তৈরী করে ফেললাম স্বপ্নের টার্কি খামর।
( তবে হুজুগে নয়,, সব ব্যাপারে নিজের সাধ্যমত জেনে, নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা নিয়ে ) কিন্তু পতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলাম সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিব, এবং ভালোবেসে টার্কির খামার করে নিজেকে খামারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব।সব ত্যাগ করে নিজেকে খামারী হিসেবে স্টাবলিশ করব মনস্থির করলাম।
খামার প্রতিস্থাপন করার পর,
গ্রামের পাড়ায়, পাড়ায় আনাচে কানাচে, চায়ের দোকানে কানাঘুচা চলতে থাকল
অমুকের ছেলে দেখি, লেখা পড়া করল
এখন চাকুরী না নিয়া, গ্রামে মুরগী পালে? তাও জংলী মুরগী।
মহিলারা বলতে শুরু করল, এই মুরগী না আইনা ফারমের মুরগী (ব্রয়লার) পাললে ও আমরা নিয়া দু একটা কিনে খাইতাম।
এত্ত ট্যাকা দিয়া কি মানুষ এমুন জংলী মুরগী খাইবো??? গ্রামের অধিকাংশ মুরুব্বিদের মুখে জখন শুনতাম এগুলো শকুন/শকুনের সাথে ক্রস করা তখনো একেকবার বুকটা হু হু করে কেঁদেছে বহুবার..
এভাবে নানা ভাবে নানা জনের তাচ্ছিল্য সহ্য করতাম।
এক সময় শুরু হল নিজের ভালবাসার টার্কি গুলার পোডাক্শান।
যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাচ্চা, টার্কির মাংশের জন্য মোরগ নিতে ঝাকে ঝাকে মানুষ এসে আমাকে ভালোবাসা দিতে শুরু করল
তখন সেদিনের সেই তাচ্ছিল্য করা মানুষ গুলাই এখন প্রতিনিয়ত জানতে চায়
কবে তার ছেলে, জামাই, এবং তাদের বাড়িতে একটা টার্কি ফার্ম গড়ে তুলতে কবে সাহায্য করব?
এভাবেই শত ব্যস্ততার মধ্যেই খামরীদের ভালোবাসা নিয়ে যতটুকু পারি গড়িয়ে দিচ্ছি তাদের স্বপ্নের টার্কি ফার্ম।
গড়িয়ে উঠছে অসংখ্য টার্কি খামার।
>>টার্কি শুধু একটা পাখি ই না
>> টার্কি খামার বাংলাদের মানুষের স্বপ্ন এবং ভালোবাসার জায়গা।
বিঃদ্রঃ ( টার্কি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়
দেখি এখনও প্রায় তাচ্ছিল্য করে
বেড়ায় কিছু অতি নগন্য আর কিছু
নিচুশ্রেনীর মানুষ।
ব্যাপার না সব ভালোবাসার বিপরীতে
কিছু ভিলেন থাকে, তবে জয় হয়
শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই।
"আমরা শুরু করেছি আপনিও এগিয়ে আসুন। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান, পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না?
প্রবাসী ভাইয়েরা দেশে ফিরে লাভজনক কিছু একটা করবেন ভাবছেন?
যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন। যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের।"
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন / ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে।
একটুখানি সচেতনতা, সরকারী সদিচ্ছা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক অংশ গ্রহনে এই টার্কিই হয়ে উঠতে পারে আত্নকর্মসংস্থানের মাধ্যম, নিরাপদ ও সহজলভ্য মাংসের যোগান, সর্বোপরি ব্যপক উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপযোগী সব বয়সী বাচ্চা ও এডাল টার্কি বিক্রয় চলছে।


যারা বেকার বসে আছেন আপনাদেরকেই বলছি প্রতিদিন কোনোনা কোনো ভাবে আপনি সমাজের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছেন..
এই দেশের সমাজ ব্যাবস্থা এমন যে কাওকে ভালো পরামর্শ তো দুরের কথা ভালো কাজে উতসাহ দিতেও পারেনা.।
এই ধরুন আপনি একটা টার্কি খামার করতে চান তখন আপনার আসে পাসের লোকজন আপনাকে বিভিন্ন ভাবে নিরুতসাহিত করবে।
লান্সনার সিকাড় হতেও হবে আপনাকে আবার বেকার বসে আছেন তখনো আপনাকে অবজ্ঞা করবেই।
বাংগালীরা আর কিছু না পারলেও আপনি জত্তদিন বেকার থাকবেন ততদিন আপনার সমাজে দাম কানাকড়ি ও দিবেনা, আবার সোনার হরীণ হাতে পেয়ে গেলে আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে এটাই স্বভাব। পিছু লোকে কিছু বলে।
"টার্কি খামার এবং মানুষের তাচ্ছিল্যতা"
টার্কি খামার যখন থেকে শুরু করব ভাবলাম, তখন থেকেই মনে প্রানে একটাই, চাওয়া টার্কি খামার করব।
শুরু হল টার্কি খামারীদের বাড়িতে বাড়িতে রাত বিরাত ছুটাছুটি, তবে হা বুকে হাত রেখে বলছি টার্কি পেলে কখনো কোটিপতি বা লাখ পতি হবার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম না।
তবে বুঝতে পারতাম যে এটার বাজার সম্ভবনা।
স্বপ্নের খামার গড়ার জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য জমাকরা টাকা থেকেই বানালাম সেড কিনলাম ১মাসের ১০০পিস বাচ্চা।
মনে হয়েছিলো বিদেশে গিয়ে কি হবে কি কাজ করবো আমি? তাহলে কি দেশের প্রতি কোনদিন কোন দায় নিতে পারব না??
বহু কাঠ খড় পেরিয়ে তৈরী করে ফেললাম স্বপ্নের টার্কি খামর।
( তবে হুজুগে নয়,, সব ব্যাপারে নিজের সাধ্যমত জেনে, নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা নিয়ে ) কিন্তু পতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলাম সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিব, এবং ভালোবেসে টার্কির খামার করে নিজেকে খামারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব।সব ত্যাগ করে নিজেকে খামারী হিসেবে স্টাবলিশ করব মনস্থির করলাম।
খামার প্রতিস্থাপন করার পর,
গ্রামের পাড়ায়, পাড়ায় আনাচে কানাচে, চায়ের দোকানে কানাঘুচা চলতে থাকল
অমুকের ছেলে দেখি, লেখা পড়া করল
এখন চাকুরী না নিয়া, গ্রামে মুরগী পালে? তাও জংলী মুরগী।
মহিলারা বলতে শুরু করল, এই মুরগী না আইনা ফারমের মুরগী (ব্রয়লার) পাললে ও আমরা নিয়া দু একটা কিনে খাইতাম।
এত্ত ট্যাকা দিয়া কি মানুষ এমুন জংলী মুরগী খাইবো??? গ্রামের অধিকাংশ মুরুব্বিদের মুখে জখন শুনতাম এগুলো শকুন/শকুনের সাথে ক্রস করা তখনো একেকবার বুকটা হু হু করে কেঁদেছে বহুবার..
এভাবে নানা ভাবে নানা জনের তাচ্ছিল্য সহ্য করতাম।
এক সময় শুরু হল নিজের ভালবাসার টার্কি গুলার পোডাক্শান।
যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাচ্চা, টার্কির মাংশের জন্য মোরগ নিতে ঝাকে ঝাকে মানুষ এসে আমাকে ভালোবাসা দিতে শুরু করল
তখন সেদিনের সেই তাচ্ছিল্য করা মানুষ গুলাই এখন প্রতিনিয়ত জানতে চায়
কবে তার ছেলে, জামাই, এবং তাদের বাড়িতে একটা টার্কি ফার্ম গড়ে তুলতে কবে সাহায্য করব?
এভাবেই শত ব্যস্ততার মধ্যেই খামরীদের ভালোবাসা নিয়ে যতটুকু পারি গড়িয়ে দিচ্ছি তাদের স্বপ্নের টার্কি ফার্ম।
গড়িয়ে উঠছে অসংখ্য টার্কি খামার।
>>টার্কি শুধু একটা পাখি ই না
>> টার্কি খামার বাংলাদের মানুষের স্বপ্ন এবং ভালোবাসার জায়গা।
বিঃদ্রঃ ( টার্কি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়
দেখি এখনও প্রায় তাচ্ছিল্য করে
বেড়ায় কিছু অতি নগন্য আর কিছু
নিচুশ্রেনীর মানুষ।
ব্যাপার না সব ভালোবাসার বিপরীতে
কিছু ভিলেন থাকে, তবে জয় হয়
শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই।
"আমরা শুরু করেছি আপনিও এগিয়ে আসুন। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান, পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না?
প্রবাসী ভাইয়েরা দেশে ফিরে লাভজনক কিছু একটা করবেন ভাবছেন?
যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন। যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের।"
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন / ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে।
একটুখানি সচেতনতা, সরকারী সদিচ্ছা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক অংশ গ্রহনে এই টার্কিই হয়ে উঠতে পারে আত্নকর্মসংস্থানের মাধ্যম, নিরাপদ ও সহজলভ্য মাংসের যোগান, সর্বোপরি ব্যপক উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপযোগী সব বয়সী বাচ্চা ও এডাল টার্কি বিক্রয় চলছে।
আরো পড়ুন>

বাংলাদেশে টার্কির আন্তঃপ্রজনন বা ইনব্রীডিং | Interbreeding or inbreeding of turkey in Bangladesh



জনাব আদিব সাহেব টার্কি পালণে আকৃষ্ট হয়েছিল এর সৌন্দর্য্য ও মাংশ উৎপাদন ক্ষমতার কথা শুনে। সে শুনেছিল একটা টার্কি নাকি ১২-১৫কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু টার্কি পালন করতে গিয়ে দেখল তার টার্কিগুলো ৬-৭কেজির বেশী হচ্ছেইনা। এর মধ্যে আবার নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে-প্রত্যেক ব্যাচেই কিছু বাচ্চা বিভিন্ন ডিসঅর্ডার নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। সে তখন ভাবল হয়তো তার ফুড ম্যানেজমেন্টে বা অন্য কোন ত্রুটি আছে। কি কি ত্রুটি থাকতে পারে সেগুলো খুজে বের করার চেষ্টা করতে লাগল।
এদিকে বাংলাদেশে টার্কির মাংশের বাজার আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ আর এখন আগের মত প্রশ্ন করেনা টার্কি কি খাওয়া যায় নাকি ? দেশের বিভিন্ন সুপারসপ ও কিছু কিছু স্থানীয় বাজারেও টার্কির মাংশ বিক্রি হচ্ছে। টার্কির মাংশের ভোক্তা তৈরি হচ্ছে দেখে আদিব সাহেব তার দূরদর্শিতা থেকে চিন্তা করতে লাগল কিভাবে একটা টার্কি থেকে আরো বেশী পরিমাণ মাংশ উৎপাদন করা যায়?
ঠিক এমন একটা সময় সে জানতে পারল বাংলাদেশে এখন হাইব্রীড বা দ্রুতবর্ধনশীল জাতের টার্কি পাওয়া যাচ্ছে, যার একেকটির ওজন নাকি ৩০কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তথ্যটি পাওয়ার পর আদিব সাহেবের মাথা হতে এক রাস চিন্তা খুব সহজেই উবে গেল। আদিব সাহেবের নিজেকে খুব হালকা হালকা ফ্রেস লাগল। এই তাহলে গুড় রহস্য ? তার টার্কি হাইব্রীড নয় এজন্যই কি খর্বাকায় ও যতই ভাল খাবার দেয়া হচ্ছে ওজন বাড়ছেনা।
আদিব সাহেব এবার হাইব্রীড টার্কি সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। অনেক খুঁজেপেতে সে সন্ধান পেল বাংলাদেশের কোথায় হাইব্রীড টার্কি আছে। আদিব সাহেব অনেক টাকা ব্যয় করে কিছু হাইব্রীড টার্কির বাচ্চা সংগ্রহ করল। কিছুদিন যেতেই বাচ্চাগুলোর গ্রোথ দেখে তার চোঁখ চকচকে হয়ে উঠল। মানসিক ভাবে খুবই প্রশান্তি লাভ করল। এই না হলে টার্কি ? কেমন তর তর করে বেড়ে উঠছে। কয়েক মাসেই তার টার্কি গুলো কেনার আগে গল্প শুনা ৩০কেজি না হলেও ১২-১৪কেজি হয়ে গেল।
আদিব সাহেব এবার ভাবতে লাগল যাক বাবা ভালয় ভালয় হাইব্রীড টার্কিগুলো বড় হয়ে ডিম দেয়া শুরু করলে তাকে আর পায় কে ? ডিম হতে বাচ্চা, বাচ্চা বড় হয়ে মাংশ বিক্রি করেই লালে লাল, আর ওদিকে বোনাস হিসেবে বাচ্চা বিক্রিতো আছেই।
দির্ঘ প্রতিক্ষার পর আদিব সাহেবের স্বপ্নের দিন আসন্ন। আদিব সাহেবের কেনা হাইব্রীড টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করল। অনেক অনেক আশা নিয়ে আদিব সাহেব ডিমগুলো ইউটিউব চ্যানেলের টিউটোরিয়াল দেখে নিজের বানানো ইনকিউবেটরে ফুটানোর জন্য দিল। এবার শুধু ২৮দিন প্রতিক্ষার পালা। যাইহোক আদিব সাহেব ডিম গুলো হতে আশানুরূপ বাচ্চা পেল। সে খুবই সন্তুষ্টচিত্তে বাচ্চা ব্রুডিং শুরু করল।
অতঃপর কিছুদিন যেতেই সে লক্ষ্য করল যে, তার বাচ্চা গুলো তাদের বাবা-মার মত অতটা দৈহিক বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। বাচ্চা গুলো কেমন শীর্ণ, খর্বাকায় ও দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। আদিব সাহেব ভিষণ চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভাবল তার হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে। সে স্থানীয় ভেটনারী ফার্মেসীতে গেল পরামর্শের জন্য।ফার্মেসীর ঔষধ বিক্রেতা কিছু না বুঝেই তাকে একগাদা ঔষধ ধরিয়ে দিল। আদিব সাহেব হতাশ হল এর কোন প্রতিকার না পেয়ে।
হঠাৎই তার মনে পরল তার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স রিসার্চ বিভাগের সম্মানীত ড.Gaffar Miah স্যার রয়েছে। আদিব সাহেব এবার স্যারের সাথে চ্যাটিং ও পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানাল। স্যার আদিব সাহেবের সমস্ত কথা শুনে আদিব সাহেবের টার্কিতে ইনব্রীডিং সমস্যা থাকার সম্ভাবনার কথা জানালেন।
আদিব সাহেব চিন্তায় পড়ে গেলেন ইনব্রীডিং সেটা আবার কি? এতবছর ফার্ম করছি ইনব্রীডিং বলে কিছু আছে এটাতো শুনিনি। আদিব সাহেব এবার বিষয়টি নিয়ে স্টাডি শুরু করল এবং জানতে পারল-
ইনব্রিডিং (Inbreeding) বা অন্তঃপ্রজনন হচ্ছে রক্ত সম্পর্কের নিকটাত্মীয়ের মধ্যে প্রজনন প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কাছাকাছি জিনের মধ্যে মিলনের ফলে যে সন্তান জন্ম নিচ্ছে সেটাই ইনব্রিডিং।
জেনেটিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিকট সম্পর্কযুক্ত পিতামাতা হতে প্রজন্মের সৃষ্টি। যেমন: ক) ভাই + বোন = ইনব্রিড, খ) মা + ছেলে = ইনব্রিড, গ) বাবা + মেয়ে = ইনব্রিড
এভাবে বংশ পরম্পরায় যদি হতে থাকে সেটা ইনব্রিডিং।
আদিব সাহেব এবার মস্তবড় খটকায় পরে গেল। ছোটবেলা হতে দেখে এসেছে গ্রামের গৃহস্থ তার পালের সবচেয়ে বড় মোরগটিকে রেখে দেয় পরবর্তী বংশবৃদ্ধির জন্য। আবার ছাগলের বেলায় দেখেছে একি পাঠা দিয়ে বছরের পর বছর মা, মেয়ে, নাতনী সবাইকে প্রজনন করাচ্ছে। তাহলেতো সারা দেশ জুড়েই ইনব্রীডিং রয়েছে।
আমাদের দেশের দেশী, হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, দেশী গরু কোন প্রানীতে নাই ইনব্রিডিং? তাহলে ইনব্রীডিং এর কুফলটা কি??
ইনব্রিডিংয়ের কুফল:
মানুষের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক বিয়ে ইসলামে নিষিদ্ধ। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ হতেও নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে বিজ্ঞানসম্মত নয়। এমনকি চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ের ফলে যে সন্তান হয়, তার মধ্যে জন্মগত ও স্বাস্থ্য ত্রুটি দেখা দেয়ার ঝুঁকি বেশি। নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের জিনগত অস্বাভাবিকতার হার এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।
প্রাণীদের ক্ষেত্রে ভাইবোন প্রজননে প্রতি জেনারেশনেই ২৫% জেনেটিক গুনাগুন হ্রাস পায়। পরিবর্তিত পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতাও কমে যেতে থাকে। ইনব্রিডিংয়ের ফলে স্পার্ম বা শুক্রাণুর মানের উপরে প্রভাব ফেলে। এদের শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত না করতে পারার অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। বংশগতির সাধারণ সূত্রানুসারে পুরুষ ও স্ত্রী দুজনেরই যদি একই জীন লুকায়িত (Recessive) থাকে তাহলে শতকরা ২৫ ভাগের মতো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্ভাবনা থেকে যায় ত্রুটিপূর্ণ জেনেটিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সন্তান জন্মানোর এবং ৫০% সম্ভাবনা থাকে এ জীনের বাহক হওয়ার। সমস্ত প্রানীজগতের বিষয়টি একই রকম।
প্রাণীতে ইনব্রিডিং হলে যা ঘটে:
১) উন্নত জাত আস্তে অনুন্নত জাতে রূপান্তরিত হয়।
২) শাররীক বৃদ্ধির হার খুবই কম ও দূর্বল প্রকৃতির হয় এবং খর্বাকৃতি আকারের হয়।
৩) জন্মগত ত্রুটি, শাররীক বিকলাঙ্গতা চলাফেরা অসামঞ্জস্যতা, বাঁকা মুখমন্ডল বা চোখ ডাবানো হয়।
৪) জন্মগত প্যারালাইসিস বেড়ে যায়।
৫) বাঁকা পা বা পায়ের গড়ন অস্বাভাবিক হয়।
৬) বাঁকা ঠোঁট হতে পারে।
৭) স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট চোখ হতে পারে।
৮) এক বা দুইটি চোখই না ফোটতে পারে।
৯) পা একটি ছোট আরেকটি কিছুটা বড় হতে পারে।
১০) জন্ম অন্ধত্ব।
১১) স্নায়ুকোষের ক্ষয় হতে থাকে।
১২) নবজাতক বাচ্চার উচ্চ মৃত্যুহার।
১৩) নিম্নতর জন্ম ওজনে জন্ম নেয়া।
১৪) ডিম ও মাশেংর উৎপাদন কম হওয়া।
১৫) শুক্রাণুর উর্বরতা কমে যাওয়া।
১৬) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
১৭) পুরুষ প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা না থাকা অর্থাৎ বন্ধাত্ব।
১৮) পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা।
১৯) প্রতি জেনারেশনেই ২৫% জেনেটিক গুনাগুন হ্রাস পায়।
আদিব সাহেব এবার ভাবতে লাগল তাহলে এটাই প্রকৃত কারন যার জন্য তার টার্কিকে ভালমানের খাবার দিয়েও আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছেনা। আবার হাইব্রীড গুলোরও বাচ্চার আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাহলে উপায় কি?
সে স্টাডী করে দেখল উপায় একটা আছে মনে হচ্ছে, তা হল:আউট ব্রীডিং।
এটা আবার কি? আসুন তাহলে জেনে নেই -
যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক নাই তাদের মিলন হল আউটব্রিডিং (outbreeding) পদ্ধতি। এপদ্ধতিতে চমৎকার, শক্তিশালি, উর্বর, সুস্থ, বাচ্চা জন্মায়। আউটব্রিড প্রাণী হতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন পাওয়া যায়। তাই আউট ব্রিডিংয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
ইনব্রিডিং থেকে মুক্ত থাকার উপায়:
ক) রক্তের সম্পর্কের মধ্য প্রজনন না করানো।
গ) একই পুরুষ প্রাণী পুনঃপুনঃ প্রজনন কাজে ব্যবহার না করা।
ঘ) প্যারেন্টস স্টক তৈরির ক্ষেত্রে একই ফার্ম হতে বেশী পরিমাণ টার্কি সংগ্রহ না করা।
ঙ) ইনব্রীডিং সম্পর্কে যে ফার্মারের ধারনা নাই, প্যারেন্টস তৈরির ক্ষেত্রে এসব ফার্ম হতে বাচ্চা সংগ্রহ এড়িয়ে চলা।
চ) সিলেক্টেড ব্রীডিং করানো।
ছ) প্রত্যেকটি প্যারেন্টস এর রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।
জ) ব্লাড ভিন্ন করার জন্য বিভিন্ন ফার্ম হতে যেমন: এক ফার্ম হতে শুধু পুরুষ, অন্য ফার্ম হতে শুধু মহিলা সংগ্রহের চেষ্টা করা।
ঝ) হাইব্রীড পুরুষ টার্কির সাথে লোকাল মহিলা টার্কির মিলন ঘটিয়ে জাতোন্নয়ন করা যেতে পারে।
★★বিঃদ্রঃ★★
ইনব্রীডিং এখনো বাংলাদেশের টার্কি সেক্টরে তেমন একটা দেখা না দিলেও, অধিকাংশ ফার্মারের এসম্পর্কিত সঠিক ধারনা না থাকায় হয়তো অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এটি ব্যাপক আকার ধারন করবে বলে লেখকের ধারনা। তাই এখনি সময় সচেতন হওয়ার।
পুনশ্চ :
সকলের সুপরামর্শ ও সহযোগীতা কাম্য। কারো সাথে মতের অমিল হলে এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ রইল।




জনাব আদিব সাহেব টার্কি পালণে আকৃষ্ট হয়েছিল এর সৌন্দর্য্য ও মাংশ উৎপাদন ক্ষমতার কথা শুনে। সে শুনেছিল একটা টার্কি নাকি ১২-১৫কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু টার্কি পালন করতে গিয়ে দেখল তার টার্কিগুলো ৬-৭কেজির বেশী হচ্ছেইনা। এর মধ্যে আবার নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে-প্রত্যেক ব্যাচেই কিছু বাচ্চা বিভিন্ন ডিসঅর্ডার নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। সে তখন ভাবল হয়তো তার ফুড ম্যানেজমেন্টে বা অন্য কোন ত্রুটি আছে। কি কি ত্রুটি থাকতে পারে সেগুলো খুজে বের করার চেষ্টা করতে লাগল।
এদিকে বাংলাদেশে টার্কির মাংশের বাজার আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ আর এখন আগের মত প্রশ্ন করেনা টার্কি কি খাওয়া যায় নাকি ? দেশের বিভিন্ন সুপারসপ ও কিছু কিছু স্থানীয় বাজারেও টার্কির মাংশ বিক্রি হচ্ছে। টার্কির মাংশের ভোক্তা তৈরি হচ্ছে দেখে আদিব সাহেব তার দূরদর্শিতা থেকে চিন্তা করতে লাগল কিভাবে একটা টার্কি থেকে আরো বেশী পরিমাণ মাংশ উৎপাদন করা যায়?
ঠিক এমন একটা সময় সে জানতে পারল বাংলাদেশে এখন হাইব্রীড বা দ্রুতবর্ধনশীল জাতের টার্কি পাওয়া যাচ্ছে, যার একেকটির ওজন নাকি ৩০কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তথ্যটি পাওয়ার পর আদিব সাহেবের মাথা হতে এক রাস চিন্তা খুব সহজেই উবে গেল। আদিব সাহেবের নিজেকে খুব হালকা হালকা ফ্রেস লাগল। এই তাহলে গুড় রহস্য ? তার টার্কি হাইব্রীড নয় এজন্যই কি খর্বাকায় ও যতই ভাল খাবার দেয়া হচ্ছে ওজন বাড়ছেনা।
আদিব সাহেব এবার হাইব্রীড টার্কি সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। অনেক খুঁজেপেতে সে সন্ধান পেল বাংলাদেশের কোথায় হাইব্রীড টার্কি আছে। আদিব সাহেব অনেক টাকা ব্যয় করে কিছু হাইব্রীড টার্কির বাচ্চা সংগ্রহ করল। কিছুদিন যেতেই বাচ্চাগুলোর গ্রোথ দেখে তার চোঁখ চকচকে হয়ে উঠল। মানসিক ভাবে খুবই প্রশান্তি লাভ করল। এই না হলে টার্কি ? কেমন তর তর করে বেড়ে উঠছে। কয়েক মাসেই তার টার্কি গুলো কেনার আগে গল্প শুনা ৩০কেজি না হলেও ১২-১৪কেজি হয়ে গেল।
আদিব সাহেব এবার ভাবতে লাগল যাক বাবা ভালয় ভালয় হাইব্রীড টার্কিগুলো বড় হয়ে ডিম দেয়া শুরু করলে তাকে আর পায় কে ? ডিম হতে বাচ্চা, বাচ্চা বড় হয়ে মাংশ বিক্রি করেই লালে লাল, আর ওদিকে বোনাস হিসেবে বাচ্চা বিক্রিতো আছেই।
দির্ঘ প্রতিক্ষার পর আদিব সাহেবের স্বপ্নের দিন আসন্ন। আদিব সাহেবের কেনা হাইব্রীড টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করল। অনেক অনেক আশা নিয়ে আদিব সাহেব ডিমগুলো ইউটিউব চ্যানেলের টিউটোরিয়াল দেখে নিজের বানানো ইনকিউবেটরে ফুটানোর জন্য দিল। এবার শুধু ২৮দিন প্রতিক্ষার পালা। যাইহোক আদিব সাহেব ডিম গুলো হতে আশানুরূপ বাচ্চা পেল। সে খুবই সন্তুষ্টচিত্তে বাচ্চা ব্রুডিং শুরু করল।
অতঃপর কিছুদিন যেতেই সে লক্ষ্য করল যে, তার বাচ্চা গুলো তাদের বাবা-মার মত অতটা দৈহিক বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। বাচ্চা গুলো কেমন শীর্ণ, খর্বাকায় ও দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। আদিব সাহেব ভিষণ চিন্তায় পড়ে গেল। সে ভাবল তার হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে। সে স্থানীয় ভেটনারী ফার্মেসীতে গেল পরামর্শের জন্য।ফার্মেসীর ঔষধ বিক্রেতা কিছু না বুঝেই তাকে একগাদা ঔষধ ধরিয়ে দিল। আদিব সাহেব হতাশ হল এর কোন প্রতিকার না পেয়ে।
হঠাৎই তার মনে পরল তার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স রিসার্চ বিভাগের সম্মানীত ড.Gaffar Miah স্যার রয়েছে। আদিব সাহেব এবার স্যারের সাথে চ্যাটিং ও পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানাল। স্যার আদিব সাহেবের সমস্ত কথা শুনে আদিব সাহেবের টার্কিতে ইনব্রীডিং সমস্যা থাকার সম্ভাবনার কথা জানালেন।
আদিব সাহেব চিন্তায় পড়ে গেলেন ইনব্রীডিং সেটা আবার কি? এতবছর ফার্ম করছি ইনব্রীডিং বলে কিছু আছে এটাতো শুনিনি। আদিব সাহেব এবার বিষয়টি নিয়ে স্টাডি শুরু করল এবং জানতে পারল-
ইনব্রিডিং (Inbreeding) বা অন্তঃপ্রজনন হচ্ছে রক্ত সম্পর্কের নিকটাত্মীয়ের মধ্যে প্রজনন প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কাছাকাছি জিনের মধ্যে মিলনের ফলে যে সন্তান জন্ম নিচ্ছে সেটাই ইনব্রিডিং।
জেনেটিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিকট সম্পর্কযুক্ত পিতামাতা হতে প্রজন্মের সৃষ্টি। যেমন: ক) ভাই + বোন = ইনব্রিড, খ) মা + ছেলে = ইনব্রিড, গ) বাবা + মেয়ে = ইনব্রিড
এভাবে বংশ পরম্পরায় যদি হতে থাকে সেটা ইনব্রিডিং।
আদিব সাহেব এবার মস্তবড় খটকায় পরে গেল। ছোটবেলা হতে দেখে এসেছে গ্রামের গৃহস্থ তার পালের সবচেয়ে বড় মোরগটিকে রেখে দেয় পরবর্তী বংশবৃদ্ধির জন্য। আবার ছাগলের বেলায় দেখেছে একি পাঠা দিয়ে বছরের পর বছর মা, মেয়ে, নাতনী সবাইকে প্রজনন করাচ্ছে। তাহলেতো সারা দেশ জুড়েই ইনব্রীডিং রয়েছে।
আমাদের দেশের দেশী, হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, দেশী গরু কোন প্রানীতে নাই ইনব্রিডিং? তাহলে ইনব্রীডিং এর কুফলটা কি??
ইনব্রিডিংয়ের কুফল:
মানুষের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক বিয়ে ইসলামে নিষিদ্ধ। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ হতেও নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে বিজ্ঞানসম্মত নয়। এমনকি চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ের ফলে যে সন্তান হয়, তার মধ্যে জন্মগত ও স্বাস্থ্য ত্রুটি দেখা দেয়ার ঝুঁকি বেশি। নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের জিনগত অস্বাভাবিকতার হার এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।
প্রাণীদের ক্ষেত্রে ভাইবোন প্রজননে প্রতি জেনারেশনেই ২৫% জেনেটিক গুনাগুন হ্রাস পায়। পরিবর্তিত পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতাও কমে যেতে থাকে। ইনব্রিডিংয়ের ফলে স্পার্ম বা শুক্রাণুর মানের উপরে প্রভাব ফেলে। এদের শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত না করতে পারার অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। বংশগতির সাধারণ সূত্রানুসারে পুরুষ ও স্ত্রী দুজনেরই যদি একই জীন লুকায়িত (Recessive) থাকে তাহলে শতকরা ২৫ ভাগের মতো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্ভাবনা থেকে যায় ত্রুটিপূর্ণ জেনেটিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সন্তান জন্মানোর এবং ৫০% সম্ভাবনা থাকে এ জীনের বাহক হওয়ার। সমস্ত প্রানীজগতের বিষয়টি একই রকম।
প্রাণীতে ইনব্রিডিং হলে যা ঘটে:
১) উন্নত জাত আস্তে অনুন্নত জাতে রূপান্তরিত হয়।
২) শাররীক বৃদ্ধির হার খুবই কম ও দূর্বল প্রকৃতির হয় এবং খর্বাকৃতি আকারের হয়।
৩) জন্মগত ত্রুটি, শাররীক বিকলাঙ্গতা চলাফেরা অসামঞ্জস্যতা, বাঁকা মুখমন্ডল বা চোখ ডাবানো হয়।
৪) জন্মগত প্যারালাইসিস বেড়ে যায়।
৫) বাঁকা পা বা পায়ের গড়ন অস্বাভাবিক হয়।
৬) বাঁকা ঠোঁট হতে পারে।
৭) স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট চোখ হতে পারে।
৮) এক বা দুইটি চোখই না ফোটতে পারে।
৯) পা একটি ছোট আরেকটি কিছুটা বড় হতে পারে।
১০) জন্ম অন্ধত্ব।
১১) স্নায়ুকোষের ক্ষয় হতে থাকে।
১২) নবজাতক বাচ্চার উচ্চ মৃত্যুহার।
১৩) নিম্নতর জন্ম ওজনে জন্ম নেয়া।
১৪) ডিম ও মাশেংর উৎপাদন কম হওয়া।
১৫) শুক্রাণুর উর্বরতা কমে যাওয়া।
১৬) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
১৭) পুরুষ প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা না থাকা অর্থাৎ বন্ধাত্ব।
১৮) পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা।
১৯) প্রতি জেনারেশনেই ২৫% জেনেটিক গুনাগুন হ্রাস পায়।
আদিব সাহেব এবার ভাবতে লাগল তাহলে এটাই প্রকৃত কারন যার জন্য তার টার্কিকে ভালমানের খাবার দিয়েও আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছেনা। আবার হাইব্রীড গুলোরও বাচ্চার আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাহলে উপায় কি?
সে স্টাডী করে দেখল উপায় একটা আছে মনে হচ্ছে, তা হল:আউট ব্রীডিং।
এটা আবার কি? আসুন তাহলে জেনে নেই -
যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক নাই তাদের মিলন হল আউটব্রিডিং (outbreeding) পদ্ধতি। এপদ্ধতিতে চমৎকার, শক্তিশালি, উর্বর, সুস্থ, বাচ্চা জন্মায়। আউটব্রিড প্রাণী হতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন পাওয়া যায়। তাই আউট ব্রিডিংয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
ইনব্রিডিং থেকে মুক্ত থাকার উপায়:
ক) রক্তের সম্পর্কের মধ্য প্রজনন না করানো।
গ) একই পুরুষ প্রাণী পুনঃপুনঃ প্রজনন কাজে ব্যবহার না করা।
ঘ) প্যারেন্টস স্টক তৈরির ক্ষেত্রে একই ফার্ম হতে বেশী পরিমাণ টার্কি সংগ্রহ না করা।
ঙ) ইনব্রীডিং সম্পর্কে যে ফার্মারের ধারনা নাই, প্যারেন্টস তৈরির ক্ষেত্রে এসব ফার্ম হতে বাচ্চা সংগ্রহ এড়িয়ে চলা।
চ) সিলেক্টেড ব্রীডিং করানো।
ছ) প্রত্যেকটি প্যারেন্টস এর রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।
জ) ব্লাড ভিন্ন করার জন্য বিভিন্ন ফার্ম হতে যেমন: এক ফার্ম হতে শুধু পুরুষ, অন্য ফার্ম হতে শুধু মহিলা সংগ্রহের চেষ্টা করা।
ঝ) হাইব্রীড পুরুষ টার্কির সাথে লোকাল মহিলা টার্কির মিলন ঘটিয়ে জাতোন্নয়ন করা যেতে পারে।
★★বিঃদ্রঃ★★
ইনব্রীডিং এখনো বাংলাদেশের টার্কি সেক্টরে তেমন একটা দেখা না দিলেও, অধিকাংশ ফার্মারের এসম্পর্কিত সঠিক ধারনা না থাকায় হয়তো অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এটি ব্যাপক আকার ধারন করবে বলে লেখকের ধারনা। তাই এখনি সময় সচেতন হওয়ার।
পুনশ্চ :
সকলের সুপরামর্শ ও সহযোগীতা কাম্য। কারো সাথে মতের অমিল হলে এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ রইল।


আরো পড়ুন>