Latest Products
Showing posts with label টার্কি মুরগি পালন পদ্ধতি. Show all posts
Showing posts with label টার্কি মুরগি পালন পদ্ধতি. Show all posts

টার্কি পালন করে লাখপতি | Millionaire by turkey Bird Khamar


খাদ্য মানুষের শক্তির অন্যতম উৎস। উন্নত দেশ মানেই শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন সুষম পুষ্টিকর খাদ্য।
পুষ্টিকর খাদ্যের ক্ষেত্রে আমাদের যে বিষয়টির বেশি মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা হলো আমিষের সংকট। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী মানবদেহের শক্তির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আসা উচিত আমিষ জাতীয় খাদ্য থেকে। আর এই আমিষের কমপক্ষে ২০ শতাংশ আসতে হবে প্রাণিজ আমিষ থেকে। যদিও উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এই আমিষের ৫০ শতাংশ আসে প্রাণিজ আমিষ থেকে। আমাদের দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে পাঙ্গাশ মাছ ও পোলট্রি মুরগির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এ দুটি বেশ গুরুত্ব বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করেছি, বাজারে কোনো কোনো সবজির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। যেখানে পোলট্রি মুরগির কেজি ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। কিন্তু এই পোলট্রি খাতেও অসাধু ব্যবসায়ী ও খামারির দৌরাত্ম্যে নাজেহাল অবস্থা। এসব নিয়ে বেশকিছু প্রতিবেদন আমি ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছি।
তবে আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সময়ে আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে টার্কি। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার শৌখিন ও কৃষি অনুরাগী উদ্যোক্তারা গড়ে তুলছেন টার্কি খামার। অল্প দিনেই পাচ্ছেন ভালো সাফল্য ও লাভ। কৃত্রিম খাবারের তুলনায় প্রাকৃতিক ঘাস জাতীয় খাবারই টার্কির জন্য উপাদেয়। এ ছাড়া টার্কি অনেক বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এটি লালন-পালনে খাদ্যের খরচ যেমন কম অন্যদিকে মাংসের গুণগত মানও অনেক ভালো। আর টার্কির মাংস অনেকটাই কলেস্টেরলমুক্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী টার্কির মাংস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হিসেবে স্বীকৃত। নানা গুণ ও সুবিধা বিবেচনা করে আমাদের দেশে নতুন উদ্যোক্তারা গড়ে তুলছেন টার্কির খামার। এমন দু-এক জন উদ্যোক্তার সঙ্গে এর আগেও আমি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও লেখার মাধ্যমে। আমি ধারণা করি, খামারিরা পোলট্রিতে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এর বিকল্প হিসেবে টার্কি লালন-পালন হতে পারে লাভজনক সমাধান। প্রিয় পাঠক! আজ অন্য আরেকজন সফল টার্কি খামার উদ্যোক্তার গল্প বলতে চাই। ১৯ নভেম্বর। ভোর ৫টা। ঢাকা থেকে সাভারের আশুলিয়ার দোসাইদ গ্রামের আমির হোসেনের টার্কি ফার্মের উদ্দেশে রওনা হলাম। নভেম্বরের এই শেষ ভাগে এসেও শীতের বিন্দুমাত্র আবেশ মেলে না ঢাকায়, কিন্তু শহর পেরিয়ে একটু গ্রামে ঢুকলেই ঠাণ্ডা হোক না হোক কুয়াশার একটা ছটা লক্ষ্য করা যায়। গাড়ির ভিতরে বসে বাইরের গ্রামের কুয়াশাচ্ছন্ন দৃশ্য দেখলে ভিতর থেকে শীত অনুভব করা যায় কিছুটা। কিন্তু দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লে সেই শীত আমেজের স্বপ্নভঙ্গ হয়। আমির হোসেনের খামারে এসে পৌঁছালাম ভোর সোয়া ৬টায়। দোসাইদ গ্রামে তার খামারের প্রকাণ্ড গেট খুলতেই চোখে পড়ল টানা এল-শেপে বিশাল একটি শেড। যার দুই ধার কাপড় দিয়ে ঢাকা। বোঝাই যায় রাতের শীত থেকে টার্কি বাঁচানোর এই ব্যবস্থাপনা। বলছিলাম আমির হোসেনের টার্কি ফার্মের কথা। বেলা বাড়ছে। কর্মীরা কাপড়ের শেডগুলো তুলে নিচ্ছেন। দলবাঁধা টার্কির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। পাঠক মাত্র বছরখানেক আগে শুরু তার খামার। মাত্র ২১টি বাচ্চা দিয়ে শুরু করে এরই মধ্যে তার খামারে টার্কির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শখ থেকে এখন খামারটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এক খামারে। আমির হোসেন সরকার অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও পরিকল্পিতভাবে খাঁচার মধ্যে প্রতিপালন করছেন বিভিন্ন জাতের টার্কি। একেকটির আকার বেশ বড়। এদের জাতভেদে রং ভিন্ন ভিন্ন। মাত্র এক বছরের মাথায় এসে উদ্যোক্তা আমির হোসেন সরকার এখন পুরোদস্তুর এক বাণিজ্যিক খামারি। তার লাভের হিসাবই বলে দিচ্ছে, যে কেউ জেনেবুঝে লগ্নি করলে বছর শেষে কয়েক গুণ লাভ ঘরে তুলতে পারেন। আমির হোসেন সরকার তার শ্রম, মেধা আর বিনিয়োগের পূর্ণ সম্মিলন ঘটিয়েছেন। আমাদের আসার খবর পেয়ে এরই মধ্যে গ্রামের অন্যান্য মানুষ জড় হতে শুরু করলেন। অনেকের সঙ্গেই খামারের ভালোমন্দ আলাপ হলো। এই গ্রামেরই জনা চারেক পাওয়া গেল যারা এরই মধ্যে আমিরের কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে টার্কি খামার করছেন। সাতসকালে সব বিষয়েই আমি খুব অনুপ্রাণিত হচ্ছি এই ভেবে যে, নব্বইয়ের দশকে বাণিজ্যিক পোলট্রি যখন যাত্রা করল, তখনকার শুটিংয়ের বিভিন্ন দৃশ্য চোখের সামনে ভাসতে শুরু করল। সেই পোলট্রি শিল্প নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে লাখ লাখ বেকার তরুণের শ্রম আর চেষ্টায় এখন ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি শিল্প। বার্ডফ্লু থেকে শুরু করে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত রোগব্যাধি, খাদ্য খরচ, ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় পোলট্রি খামারিরা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। ওই খামারিরাই আস্তে আস্তে পোলট্রি ছেড়ে টার্কি পালনে চলে আসেন। যদিও আমির হোসেন সরকার একেবারেই টার্কির একজন নতুন খামারি। এরাই হয়তো দু-চার বছর পরে এ দেশে টার্কি মুরগির একটা বিশাল বাণিজ্যের বাজার তৈরি করবেন। 
আমির হোসেন ৬-৭ লাখ টাকায় বিশাল আকারের ৬ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি শেড নির্মাণ করেন। যেখানে দেড়-দুই হাজার টার্কি লালন-পালন সম্ভব। আর ২১টি টার্কি কিনেছিলেন ৩৫ হাজার টাকায়। এই ছিল তার বিনিয়োগ। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই এক বছরেই আমির হোসেন ৭ লাখ টাকার টার্কি বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন দেখছেন লাভের মুখ। হাতে আছে খামারের ১৪ লাখ টাকার টার্কি। ভাবাই যায় না কী করে এত দ্রুত এত বিশাল সাফল্য হাতে ধরা দিল। টার্কি ছয় মাস বয়সে ডিম দিতে শুরু করে। আর সাধারণত চার বছর পর্যন্ত দিয়ে থাকে। বছরে সর্বোচ্চ ২০০ ডিম দেয়। তবে ডিম এবং এক দিনের বাচ্চার দামও বেশ অনেক; যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নাগালে আনা দরকার মনে করছেন এই খামারিও। এক হালি ডিমের দাম ৮০০ টাকা। একটা ১৫ দিনের টার্কির দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। খামারে রয়েছে নানান জাতের টার্কি। কোনোটার রং কালো, কোনোটা সাদা, কোনোটা সাদা-কালো মিশেলে। আর এক জাতের টার্কি আছে কার্বন রেড নামে। আমির হোসেন বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শৌখিন ও দামি জাতের টার্কি এটি। পূর্ণবয়স্ক এক জোড়া কার্বন রেড টার্কির দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আমির হোসেন বলছেন, একটি টার্কির বাচ্চা ঠিকমতো পালন করলে এক বছরেই ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। প্রতিদিন একটি টার্কি খাবার খায় মাত্র ১৫০ গ্রাম। ঘাস, লতাপাতা খেতে পছন্দ করে টার্কি। পাশাপাশি দানাদার খাবারও খায়। তাই তাকে টার্কির খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় না। যারা পোলট্রি খামারে সুবিধা করতে পারছেন না তারাও ছোট পরিসরে টার্কি খামার গড়তে পারেন। টার্কির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং এর স্বভাব ও খাদ্য চাহিদা প্রকৃতিবান্ধব হওয়ায় এগুলো অনেক বেশি লাভজনক।
দিন যত যাচ্ছে টার্কি দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। বেশ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে খামার। বাড়ছে মাংসের চাহিদাও। এই খামারেও প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন ডিম ও ছোট বাচ্চা সংগ্রহের জন্য। বিশেষ করে বেকার তরুণ ও গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এটি অর্থ উপার্জনের বেশ লাভজনক মাধ্যম হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে আগ্রহীরা যেন কোনো ক্ষতির শিকার না হয় সেজন্য এখান থেকে অভিজ্ঞতার আলোকে একটা বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হয়। পথ দেখিয়ে দেওয়া হয় উৎপাদনের পর বিপণনের। আমির হোসেন সরকার টার্কি সম্পর্কে বিস্তর জেনেছেন অনলাইন থেকে। বিপণনেও তিনি বেছে নিয়েছেন ফেসবুক, ইউটিউব। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তার খামারে লোক আসে টার্কির ডিম ও বাচ্চা কেনার জন্য। বলে রাখি পাঠক, দেশে এখনো টার্কির বড় বাণিজ্যিক হ্যাচারি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উদ্যোক্তারা নিজ উদ্যোগে ছোট আকারে গড়ে তুলছেন ইনকিবিউটর; যা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য। এখন বাচ্চার চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে এক দিনের বাচ্চা আসছে। আমির হোসেন জানালেন, ভারত থেকে আসা টার্কির বাচ্চাগুলোর মান পরীক্ষিত নয়। বেশির ভাগই মরে যায়। সঙ্গে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে টার্কির নতুন এই উদ্যোগের শুরুতেই এই খাতেও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ খাতে সরকারের কঠিন তদারকি ও অন্যান্য সহযোগিতা পেলে এর সম্প্রসারণ হবে দ্রুত এবং লাভজনক। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছ থেকে তথ্য ও প্রশিক্ষণের প্রত্যাশাও অনেক।
পাঠক! কৃষি এখন বিনিয়োগমুখী একটি বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হচ্ছে। সুবিধা হলো, কৃষিতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। রয়েছে ছোট পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার। যারাই ছোট পরিসরে একটু নিবিড়ভাবে ফল ফসল কিংবা প্রাণিসম্পদে নতুন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন, তারাই অর্থনৈতিকভাবে সফল হচ্ছেন। আমির হোসেন সরকারের টার্কি খামারটি তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আমার বিশ্বাস, অল্প দিনেই প্রাণিজ আমিষের এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করবে টার্কি। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা যে গতিতে এগিয়ে চলেছেন, সেই গতিতে প্রাণিসম্পদসংশ্লিষ্ট সরকারি গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান এগোচ্ছে না। এখানেই বড় ছন্দপতনটি রয়ে গেছে। আমরা চাইব, আমাদের দেশের উপযোগী টার্কির জাত উন্নয়ন, এক দিনের বাচ্চার সংস্থান এবং টার্কি পালন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হোক প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। তাতে উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হবেন, লাভবান হবে প্রাণিসম্পদ খাত তথা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি। টার্কি মুরগি বিক্রয়
লেখক : মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 
shykhs@gmail.com

খাদ্য মানুষের শক্তির অন্যতম উৎস। উন্নত দেশ মানেই শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন সুষম পুষ্টিকর খাদ্য।
পুষ্টিকর খাদ্যের ক্ষেত্রে আমাদের যে বিষয়টির বেশি মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা হলো আমিষের সংকট। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী মানবদেহের শক্তির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আসা উচিত আমিষ জাতীয় খাদ্য থেকে। আর এই আমিষের কমপক্ষে ২০ শতাংশ আসতে হবে প্রাণিজ আমিষ থেকে। যদিও উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এই আমিষের ৫০ শতাংশ আসে প্রাণিজ আমিষ থেকে। আমাদের দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে পাঙ্গাশ মাছ ও পোলট্রি মুরগির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এ দুটি বেশ গুরুত্ব বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করেছি, বাজারে কোনো কোনো সবজির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। যেখানে পোলট্রি মুরগির কেজি ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। কিন্তু এই পোলট্রি খাতেও অসাধু ব্যবসায়ী ও খামারির দৌরাত্ম্যে নাজেহাল অবস্থা। এসব নিয়ে বেশকিছু প্রতিবেদন আমি ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছি।
তবে আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সময়ে আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে টার্কি। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার শৌখিন ও কৃষি অনুরাগী উদ্যোক্তারা গড়ে তুলছেন টার্কি খামার। অল্প দিনেই পাচ্ছেন ভালো সাফল্য ও লাভ। কৃত্রিম খাবারের তুলনায় প্রাকৃতিক ঘাস জাতীয় খাবারই টার্কির জন্য উপাদেয়। এ ছাড়া টার্কি অনেক বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এটি লালন-পালনে খাদ্যের খরচ যেমন কম অন্যদিকে মাংসের গুণগত মানও অনেক ভালো। আর টার্কির মাংস অনেকটাই কলেস্টেরলমুক্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী টার্কির মাংস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হিসেবে স্বীকৃত। নানা গুণ ও সুবিধা বিবেচনা করে আমাদের দেশে নতুন উদ্যোক্তারা গড়ে তুলছেন টার্কির খামার। এমন দু-এক জন উদ্যোক্তার সঙ্গে এর আগেও আমি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও লেখার মাধ্যমে। আমি ধারণা করি, খামারিরা পোলট্রিতে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এর বিকল্প হিসেবে টার্কি লালন-পালন হতে পারে লাভজনক সমাধান। প্রিয় পাঠক! আজ অন্য আরেকজন সফল টার্কি খামার উদ্যোক্তার গল্প বলতে চাই। ১৯ নভেম্বর। ভোর ৫টা। ঢাকা থেকে সাভারের আশুলিয়ার দোসাইদ গ্রামের আমির হোসেনের টার্কি ফার্মের উদ্দেশে রওনা হলাম। নভেম্বরের এই শেষ ভাগে এসেও শীতের বিন্দুমাত্র আবেশ মেলে না ঢাকায়, কিন্তু শহর পেরিয়ে একটু গ্রামে ঢুকলেই ঠাণ্ডা হোক না হোক কুয়াশার একটা ছটা লক্ষ্য করা যায়। গাড়ির ভিতরে বসে বাইরের গ্রামের কুয়াশাচ্ছন্ন দৃশ্য দেখলে ভিতর থেকে শীত অনুভব করা যায় কিছুটা। কিন্তু দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লে সেই শীত আমেজের স্বপ্নভঙ্গ হয়। আমির হোসেনের খামারে এসে পৌঁছালাম ভোর সোয়া ৬টায়। দোসাইদ গ্রামে তার খামারের প্রকাণ্ড গেট খুলতেই চোখে পড়ল টানা এল-শেপে বিশাল একটি শেড। যার দুই ধার কাপড় দিয়ে ঢাকা। বোঝাই যায় রাতের শীত থেকে টার্কি বাঁচানোর এই ব্যবস্থাপনা। বলছিলাম আমির হোসেনের টার্কি ফার্মের কথা। বেলা বাড়ছে। কর্মীরা কাপড়ের শেডগুলো তুলে নিচ্ছেন। দলবাঁধা টার্কির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। পাঠক মাত্র বছরখানেক আগে শুরু তার খামার। মাত্র ২১টি বাচ্চা দিয়ে শুরু করে এরই মধ্যে তার খামারে টার্কির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শখ থেকে এখন খামারটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এক খামারে। আমির হোসেন সরকার অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও পরিকল্পিতভাবে খাঁচার মধ্যে প্রতিপালন করছেন বিভিন্ন জাতের টার্কি। একেকটির আকার বেশ বড়। এদের জাতভেদে রং ভিন্ন ভিন্ন। মাত্র এক বছরের মাথায় এসে উদ্যোক্তা আমির হোসেন সরকার এখন পুরোদস্তুর এক বাণিজ্যিক খামারি। তার লাভের হিসাবই বলে দিচ্ছে, যে কেউ জেনেবুঝে লগ্নি করলে বছর শেষে কয়েক গুণ লাভ ঘরে তুলতে পারেন। আমির হোসেন সরকার তার শ্রম, মেধা আর বিনিয়োগের পূর্ণ সম্মিলন ঘটিয়েছেন। আমাদের আসার খবর পেয়ে এরই মধ্যে গ্রামের অন্যান্য মানুষ জড় হতে শুরু করলেন। অনেকের সঙ্গেই খামারের ভালোমন্দ আলাপ হলো। এই গ্রামেরই জনা চারেক পাওয়া গেল যারা এরই মধ্যে আমিরের কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে টার্কি খামার করছেন। সাতসকালে সব বিষয়েই আমি খুব অনুপ্রাণিত হচ্ছি এই ভেবে যে, নব্বইয়ের দশকে বাণিজ্যিক পোলট্রি যখন যাত্রা করল, তখনকার শুটিংয়ের বিভিন্ন দৃশ্য চোখের সামনে ভাসতে শুরু করল। সেই পোলট্রি শিল্প নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে লাখ লাখ বেকার তরুণের শ্রম আর চেষ্টায় এখন ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি শিল্প। বার্ডফ্লু থেকে শুরু করে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত রোগব্যাধি, খাদ্য খরচ, ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় পোলট্রি খামারিরা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। ওই খামারিরাই আস্তে আস্তে পোলট্রি ছেড়ে টার্কি পালনে চলে আসেন। যদিও আমির হোসেন সরকার একেবারেই টার্কির একজন নতুন খামারি। এরাই হয়তো দু-চার বছর পরে এ দেশে টার্কি মুরগির একটা বিশাল বাণিজ্যের বাজার তৈরি করবেন। 
আমির হোসেন ৬-৭ লাখ টাকায় বিশাল আকারের ৬ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি শেড নির্মাণ করেন। যেখানে দেড়-দুই হাজার টার্কি লালন-পালন সম্ভব। আর ২১টি টার্কি কিনেছিলেন ৩৫ হাজার টাকায়। এই ছিল তার বিনিয়োগ। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই এক বছরেই আমির হোসেন ৭ লাখ টাকার টার্কি বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন দেখছেন লাভের মুখ। হাতে আছে খামারের ১৪ লাখ টাকার টার্কি। ভাবাই যায় না কী করে এত দ্রুত এত বিশাল সাফল্য হাতে ধরা দিল। টার্কি ছয় মাস বয়সে ডিম দিতে শুরু করে। আর সাধারণত চার বছর পর্যন্ত দিয়ে থাকে। বছরে সর্বোচ্চ ২০০ ডিম দেয়। তবে ডিম এবং এক দিনের বাচ্চার দামও বেশ অনেক; যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নাগালে আনা দরকার মনে করছেন এই খামারিও। এক হালি ডিমের দাম ৮০০ টাকা। একটা ১৫ দিনের টার্কির দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। খামারে রয়েছে নানান জাতের টার্কি। কোনোটার রং কালো, কোনোটা সাদা, কোনোটা সাদা-কালো মিশেলে। আর এক জাতের টার্কি আছে কার্বন রেড নামে। আমির হোসেন বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শৌখিন ও দামি জাতের টার্কি এটি। পূর্ণবয়স্ক এক জোড়া কার্বন রেড টার্কির দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আমির হোসেন বলছেন, একটি টার্কির বাচ্চা ঠিকমতো পালন করলে এক বছরেই ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। প্রতিদিন একটি টার্কি খাবার খায় মাত্র ১৫০ গ্রাম। ঘাস, লতাপাতা খেতে পছন্দ করে টার্কি। পাশাপাশি দানাদার খাবারও খায়। তাই তাকে টার্কির খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় না। যারা পোলট্রি খামারে সুবিধা করতে পারছেন না তারাও ছোট পরিসরে টার্কি খামার গড়তে পারেন। টার্কির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং এর স্বভাব ও খাদ্য চাহিদা প্রকৃতিবান্ধব হওয়ায় এগুলো অনেক বেশি লাভজনক।
দিন যত যাচ্ছে টার্কি দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। বেশ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে খামার। বাড়ছে মাংসের চাহিদাও। এই খামারেও প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন ডিম ও ছোট বাচ্চা সংগ্রহের জন্য। বিশেষ করে বেকার তরুণ ও গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এটি অর্থ উপার্জনের বেশ লাভজনক মাধ্যম হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে আগ্রহীরা যেন কোনো ক্ষতির শিকার না হয় সেজন্য এখান থেকে অভিজ্ঞতার আলোকে একটা বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হয়। পথ দেখিয়ে দেওয়া হয় উৎপাদনের পর বিপণনের। আমির হোসেন সরকার টার্কি সম্পর্কে বিস্তর জেনেছেন অনলাইন থেকে। বিপণনেও তিনি বেছে নিয়েছেন ফেসবুক, ইউটিউব। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তার খামারে লোক আসে টার্কির ডিম ও বাচ্চা কেনার জন্য। বলে রাখি পাঠক, দেশে এখনো টার্কির বড় বাণিজ্যিক হ্যাচারি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উদ্যোক্তারা নিজ উদ্যোগে ছোট আকারে গড়ে তুলছেন ইনকিবিউটর; যা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য। এখন বাচ্চার চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে এক দিনের বাচ্চা আসছে। আমির হোসেন জানালেন, ভারত থেকে আসা টার্কির বাচ্চাগুলোর মান পরীক্ষিত নয়। বেশির ভাগই মরে যায়। সঙ্গে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে টার্কির নতুন এই উদ্যোগের শুরুতেই এই খাতেও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ খাতে সরকারের কঠিন তদারকি ও অন্যান্য সহযোগিতা পেলে এর সম্প্রসারণ হবে দ্রুত এবং লাভজনক। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছ থেকে তথ্য ও প্রশিক্ষণের প্রত্যাশাও অনেক।
পাঠক! কৃষি এখন বিনিয়োগমুখী একটি বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হচ্ছে। সুবিধা হলো, কৃষিতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। রয়েছে ছোট পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার। যারাই ছোট পরিসরে একটু নিবিড়ভাবে ফল ফসল কিংবা প্রাণিসম্পদে নতুন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন, তারাই অর্থনৈতিকভাবে সফল হচ্ছেন। আমির হোসেন সরকারের টার্কি খামারটি তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আমার বিশ্বাস, অল্প দিনেই প্রাণিজ আমিষের এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করবে টার্কি। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা যে গতিতে এগিয়ে চলেছেন, সেই গতিতে প্রাণিসম্পদসংশ্লিষ্ট সরকারি গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান এগোচ্ছে না। এখানেই বড় ছন্দপতনটি রয়ে গেছে। আমরা চাইব, আমাদের দেশের উপযোগী টার্কির জাত উন্নয়ন, এক দিনের বাচ্চার সংস্থান এবং টার্কি পালন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হোক প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। তাতে উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হবেন, লাভবান হবে প্রাণিসম্পদ খাত তথা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি। টার্কি মুরগি বিক্রয়
লেখক : মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 
shykhs@gmail.com
আরো পড়ুন>

টার্কি মুরগির খামার ২০০ থেকে ১০০০ | Turkey chicken farm 200 to 1000

পরশুরামের বাসপদুয়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠেছে আমেরিকান টার্কি মুরগির খামার। গত দেড় বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে টার্কি খামারটি। টার্কি মুরগি বিক্রি ও বাচ্চা উৎপাদন করে কোটিপতি হয়েছেন খামারের মালিক ...
টার্কি মুরগির খামার ২০০ থেকে ১০০০ একটি টার্কি মুরগির ওজন ৩০ কেজি পর্যন্ত হয়। প্রতিকেজি বিক্রি হয় ৮০০ টাকায়।  পরশুরামের বাসপদুয়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠেছে আমেরিকান টার্কি মুরগির খামার। গত দেড় বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে খামারটি। টার্কি মুরগি বিক্রি ও বাচ্চা উৎপাদন করে কোটিপতি হয়েছেন খামারের মালিক আজমীর হোসেন জুয়েল।
জানা গেছে, উপজেলার বাসপদুয়া গ্রামে ২০১৫ সালের শেষদিকে ১৬ শতক জমির উপর ‘আল্লাহর দান টার্কি ফার্ম’ নামে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তোলেন ফিশ ফিডস ব্যবসায়ী আজমীর হোসেন জুয়েল। প্রথমে আমেরিকা থেকে ২০০ বাচ্চা এনে খামার শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় এক হাজার টার্কি মুরগি আছে ওই খামারে। একটি টার্কি মুরগি একটানা ২২টি পর্যন্ত ডিম দেয়। আজমীর হোসেন জুয়েলের ভাই আবদুল হালিম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন হ্যাচারি মেশিন। এ মেশিনে ডিম রাখার ২৮ দিন পর বাচ্চা ফুটে। দানাদার খাদ্য ছাড়াও কলমির শাক, বাঁধাকপি ও সবজি জাতীয় খাবার খায় টার্কি মুরগি। চার মাস পর থেকে খাওয়ার উপযোগী হয় এসব মুরগি। ছয় মাস বয়সের মুরগি ৬ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত হয়। একটি টার্কি মুরগির ওজন ৩০ কেজি পর্যন্ত হয়। এখানে প্রতিকেজি মুরগি বিক্রি হয় ৮০০ টাকায়।
খামারের উদ্যোক্তা জুয়েল জানান, হ্যাচারি মেশিনে দৈনিক ৫০টি বাচ্চা ফুটে। এক মাস বয়সী বাচ্চা বিক্রি হয় একজোড়া সাড়ে চার হাজার টাকায়। এ খামার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন খামারি বাচ্চা নিয়ে গেছেন। টার্কি মুরগি বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৭০০ সালে যুক্তরাজ্যে ক্রস ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে টার্কি মুরগির জাত উৎপাদন করা হয়। উত্তর আমেরিকা টার্কি মুরগির উত্পত্তিস্থল। ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে টার্কি মুরগি পালন করা হয়। অনেকটা খাসির মাংসের মতোই এ মুরগির মাংসের স্বাদ। এ মাংসে অধিক পরিমাণ প্রোটিন ও কম পরিমাণ চর্বি রয়েছে। সুস্বাদু এই মুরগির রোগ বালাইও তেমন হয় না।
টার্কি মুরগির পাশাপাশি তিতির মুরগি, ফ্রান্সের দেশী মুরগি, বিদেশি কোয়েল পাখিসহ বিভিন্ন জাতের বিদেশি কবুতরের খামারও গড়ে তুলেছেন জুয়েল।
‘আল্লাহর দান
টার্কি ফার্মের’ স্বত্ত্বাধিকারী আজমীর হোসেন জুয়েল বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে বাচ্চা এনে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তুলেছিলাম। আলস্নাহর রহমতে এখন এক হাজার টার্কি মুরগি রয়েছে আমার খামারে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, টার্কি মুরগির খামার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। ফেনীতে এ প্রথম টার্কি মুরগির খামার গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে খামারিরা চাইলে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
পরশুরামের বাসপদুয়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠেছে আমেরিকান টার্কি মুরগির খামার। গত দেড় বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে টার্কি খামারটি। টার্কি মুরগি বিক্রি ও বাচ্চা উৎপাদন করে কোটিপতি হয়েছেন খামারের মালিক ...
টার্কি মুরগির খামার ২০০ থেকে ১০০০ একটি টার্কি মুরগির ওজন ৩০ কেজি পর্যন্ত হয়। প্রতিকেজি বিক্রি হয় ৮০০ টাকায়।  পরশুরামের বাসপদুয়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠেছে আমেরিকান টার্কি মুরগির খামার। গত দেড় বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে খামারটি। টার্কি মুরগি বিক্রি ও বাচ্চা উৎপাদন করে কোটিপতি হয়েছেন খামারের মালিক আজমীর হোসেন জুয়েল।
জানা গেছে, উপজেলার বাসপদুয়া গ্রামে ২০১৫ সালের শেষদিকে ১৬ শতক জমির উপর ‘আল্লাহর দান টার্কি ফার্ম’ নামে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তোলেন ফিশ ফিডস ব্যবসায়ী আজমীর হোসেন জুয়েল। প্রথমে আমেরিকা থেকে ২০০ বাচ্চা এনে খামার শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় এক হাজার টার্কি মুরগি আছে ওই খামারে। একটি টার্কি মুরগি একটানা ২২টি পর্যন্ত ডিম দেয়। আজমীর হোসেন জুয়েলের ভাই আবদুল হালিম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন হ্যাচারি মেশিন। এ মেশিনে ডিম রাখার ২৮ দিন পর বাচ্চা ফুটে। দানাদার খাদ্য ছাড়াও কলমির শাক, বাঁধাকপি ও সবজি জাতীয় খাবার খায় টার্কি মুরগি। চার মাস পর থেকে খাওয়ার উপযোগী হয় এসব মুরগি। ছয় মাস বয়সের মুরগি ৬ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত হয়। একটি টার্কি মুরগির ওজন ৩০ কেজি পর্যন্ত হয়। এখানে প্রতিকেজি মুরগি বিক্রি হয় ৮০০ টাকায়।
খামারের উদ্যোক্তা জুয়েল জানান, হ্যাচারি মেশিনে দৈনিক ৫০টি বাচ্চা ফুটে। এক মাস বয়সী বাচ্চা বিক্রি হয় একজোড়া সাড়ে চার হাজার টাকায়। এ খামার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন খামারি বাচ্চা নিয়ে গেছেন। টার্কি মুরগি বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৭০০ সালে যুক্তরাজ্যে ক্রস ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে টার্কি মুরগির জাত উৎপাদন করা হয়। উত্তর আমেরিকা টার্কি মুরগির উত্পত্তিস্থল। ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে টার্কি মুরগি পালন করা হয়। অনেকটা খাসির মাংসের মতোই এ মুরগির মাংসের স্বাদ। এ মাংসে অধিক পরিমাণ প্রোটিন ও কম পরিমাণ চর্বি রয়েছে। সুস্বাদু এই মুরগির রোগ বালাইও তেমন হয় না।
টার্কি মুরগির পাশাপাশি তিতির মুরগি, ফ্রান্সের দেশী মুরগি, বিদেশি কোয়েল পাখিসহ বিভিন্ন জাতের বিদেশি কবুতরের খামারও গড়ে তুলেছেন জুয়েল।
‘আল্লাহর দান
টার্কি ফার্মের’ স্বত্ত্বাধিকারী আজমীর হোসেন জুয়েল বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে বাচ্চা এনে টার্কি মুরগির খামার গড়ে তুলেছিলাম। আলস্নাহর রহমতে এখন এক হাজার টার্কি মুরগি রয়েছে আমার খামারে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, টার্কি মুরগির খামার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। ফেনীতে এ প্রথম টার্কি মুরগির খামার গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে খামারিরা চাইলে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
আরো পড়ুন>

টার্কি মুরগি পালন পদ্ধতি | Turkey Hen rearing Methord


আমাদের দেশে প্রাণীজ আমিষের অভাব খুবই প্রকট। আমিষের এ অভাব মেটাতে টার্কি মুরগি পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান বিশেষ জরুরী। নির্দিস্ট পুঁজি বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক সময়ে টার্কি মুরগি পালন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় টার্কি মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে টার্কি মুরগি পালনকে লাভজনক করে তোলা যায়।
টার্কি মুরগি খামার দু’ধরনের হতে পারে। যেমন-পারিবারিক টার্কি মুরগি খামার ও বাণিজ্যিক টার্কি মুরগি খামার। পারিবারিক টার্কি মুরগি খামারে অল্পসংখ্যক টার্কি মুরগি পালন করে সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক টার্কি মুরগি খামার গড়ে তোলা যায়। উৎপাদনের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে টার্কি মুরগির খামার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। মাংস উৎপাদনের জন্য টার্কি মুরগি পালন করলে একে বলা হয় ব্রয়লার খামার। আবার ডিম উৎপাদনের জন্য খামার করলে একে বলা হয় লেয়ার খামার। তবে যে খামারই স্থাপন করা হোক না কেন তা লাভজনক করতে চাইলে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচালনা।
টার্কি পালন পদ্ধতি তিন প্রকার
১) ছাড়া পদ্ধতি
২) অর্ধছাড়া পদ্ধতি
৩) আবদ্ধ পদ্ধতি
১) ছাড়া পদ্ধতি:
এ পদ্ধতিতে টার্কির রাত্রি যাপনের একটি ঘরের প্রয়োজন হয়। সকালে টার্কির ঘর খুলে সামান্য কিছু খাবার দিতে হয় তারপর টার্কি চড়তে চলে যায়। সন্ধ্যায় টার্কি নিজেই ঘরে উঠে। অনেক সময় ঘরে আসার অভ্যাস তৈরি করার জণ্য সন্ধ্যায় সামান্য খাবার দেয়া হয়।
সুবিধাঃ
তেমন যত্নের প্রয়োজন নেই, পরিবারের যে কোন সদস্য এ কাজ করতে পারে।
টার্কি নিজেই খাবার কুড়িয়ে খায় তাই খাদ্য খরচ খুবই কম।
এদের মাংস সুস্বাদু এবং বাজারে এ জাতীয় টার্কির চাহিাদা বেশী
পর্যাপ্ত সবুজ খাদ্য এবং সূর্যকিরন পায় এতে টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
অসুবিধাঃ
বেশী জায়গার প্রয়োজন হয়।
যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করে বাড়ি নোংড়া করে।
অনেক সময় ডিম হারিয়ে যায়।
বন্য প্রানী টার্কি ধরে নিয়ে যায়।
২) অর্ধছাড়া পদ্ধতি:
এ পদ্ধতিতে টার্কি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সারাদিন ছাড়া অবস্থায় থাকে। দিনের বেলা টার্কির ঘর সংলগ্ন তারজালী বা বাশের বেড়ার তৈরি রানে থাকে। ৬ মিটার লম্বা ৩ মিটার চওড়া এবং ২.৬ মিটার উচু ঘর সংলগ্ন ২ মিটার উঁচু তারের জাল বা বাশের বেড়া দিয়ে রান তৈরি করে ১০০ – ১৫০ টি টার্কি পালন করা যায়। খাদ্য ও পানির পাত্র ঘরের মধ্যে অথবা রানের মধ্যে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার সাথে সাথে টার্কি ঘরে আশ্রয় নেয়। সপ্তাহে ৩-৪ দিন রান ঝাড়– দেওয়া এবং জীবানুনাশক যেমন চুন বা ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়া উত্তম।
সুবিধাঃ
টার্কি দিনের বেলা রানের মধ্যে থাকে বিধায় প্রচুর আলো বাতাস পায় এতে স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
খাদ্য ও পানি দিতে সুবিধা
রানে আবদ্ধ থাকে ফলে অন্যের ফসল নষ্ট করতে পারেনা, বাড়তি জায়গা নোংড়া করতে পারেনা
রোগাক্রান্ত বা অসুস্থ টার্কির সংস্পর্শে আশতে পারেনা ফলে রোগ বালাই কম হয়
টার্কি হারানোর সম্ভাবনা থাকেনা
অসুবিধাঃ
ঘর ও রান তৈরির জন্য বেশী জয়গার প্রয়োজন
রান তৈরিতে বাড়তি খরচ হয়
পরিচর্যার খরচ তুলনামূলক বেশী
৩) আবদ্ধ পদ্ধতি: আবদ্ধ পদ্ধতি আবার তিন প্রকার-
ক) লিটার পদ্ধতি
খ) মাচা পদ্ধতি
গ) খাঁচা পদ্ধতি
৩ক) লিটার পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ঘরের মেঝের উপর লিটার ব্যবহার করে টার্কি পালন করা হয়ে থাকে
সুবিধাঃ
টার্কির জন্য আরামদায়ক
নির্মান খরচ কম
প্রজননের জন্য সুবিধা
ব্রয়লারের জন্য সুবিধাজনক
অসুবিধাঃ
বেশী পরিমানে ডিম ভাংগে
জায়গা বেশী প্রয়োজন
কুজে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী
অনেক সময় টার্কি ডিম খেয়ে ফেলে
৩খ) মাচা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে মাটি থেকে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় বাঁশ, কাঠ, তার, লোহা ইত্যাদি দিয়ে মাচা তৈরি করে পালন করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৫ ইঞ্চি দূরে দূরে বাঁশ বা কাঠ স্থাপন করতে হয়। পুলেটের ক্ষেত্রে ৪ সপ্তাহ এবং ব্রয়লারের ক্ষেত্রে ২ সপ্তাহের পর মাচায় লিটার দিতে হয়না।
সুবিধাঃ
রোগব্যাধি কম হয়
অল্পস্থানে বেশী টার্কি পালন করা যায়
কম পরিমানে লিটার লিটার প্রয়োজন হয়
টার্কির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়
অসুবিধাঃ
নির্মান খরচ বেশী
ডিম ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে
প্রজননে অসুবিধা হয়
বিষ্ঠা পরিস্কার করতে অসুবিধা হয়
৩গ) খাঁচা পদ্ধতি: খাঁচায় টার্কি পালন আজকাল বেশ জনপ্রিয়। বাসা বাড়িতে এবং বড় বড় বানিজ্যিক খমারে ডিম উৎপাদনের জন্য খাঁচায় টার্কি পালন করা হয়। এতে খাবার এবং পানির পাত্র খাচার সাথে সংলগ্ন থাকে। খাঁচার সামনের বর্ধিত ঢালু অংশে খাঁচায় পাড়া ডিম সাথে সাথে গড়িয়ে এসে জমা হয়। এছাড়া খাঁচার মেঝ তারজালির তৈরি হওয়ায় বিষ্ঠা সহজেই নিচে পড়ে যায়। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি টার্কি দাড়ানোর জন্য ০.৫-০.৮ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়।
সুবিধাঃ
অল্পস্থানে অধিক টার্কি পালন করা যায়
পরিচর্যা সহজ
অসুস্থ বা অনুৎপাদনশীল টার্কি সহজে বাছাই/ছাটাই করা যায়
শ্রমিক খরচ কম
খাদ্য অপচয় কম


টার্কি মুরগি পালন, টার্কি দাম, টার্কি মুরগির রোগ, টার্কি মুরগির খামার, টার্কি বাচ্চার দাম, টার্কি মুরগি পালন পদ্ধতি pdf, টার্কি মুরগির খাবার, টার্কি মুরগির দাম, টার্কি মুরগির চিকিৎসা

আমাদের দেশে প্রাণীজ আমিষের অভাব খুবই প্রকট। আমিষের এ অভাব মেটাতে টার্কি মুরগি পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান বিশেষ জরুরী। নির্দিস্ট পুঁজি বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক সময়ে টার্কি মুরগি পালন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় টার্কি মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে টার্কি মুরগি পালনকে লাভজনক করে তোলা যায়।
টার্কি মুরগি খামার দু’ধরনের হতে পারে। যেমন-পারিবারিক টার্কি মুরগি খামার ও বাণিজ্যিক টার্কি মুরগি খামার। পারিবারিক টার্কি মুরগি খামারে অল্পসংখ্যক টার্কি মুরগি পালন করে সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক টার্কি মুরগি খামার গড়ে তোলা যায়। উৎপাদনের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে টার্কি মুরগির খামার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। মাংস উৎপাদনের জন্য টার্কি মুরগি পালন করলে একে বলা হয় ব্রয়লার খামার। আবার ডিম উৎপাদনের জন্য খামার করলে একে বলা হয় লেয়ার খামার। তবে যে খামারই স্থাপন করা হোক না কেন তা লাভজনক করতে চাইলে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচালনা।
টার্কি পালন পদ্ধতি তিন প্রকার
১) ছাড়া পদ্ধতি
২) অর্ধছাড়া পদ্ধতি
৩) আবদ্ধ পদ্ধতি
১) ছাড়া পদ্ধতি:
এ পদ্ধতিতে টার্কির রাত্রি যাপনের একটি ঘরের প্রয়োজন হয়। সকালে টার্কির ঘর খুলে সামান্য কিছু খাবার দিতে হয় তারপর টার্কি চড়তে চলে যায়। সন্ধ্যায় টার্কি নিজেই ঘরে উঠে। অনেক সময় ঘরে আসার অভ্যাস তৈরি করার জণ্য সন্ধ্যায় সামান্য খাবার দেয়া হয়।
সুবিধাঃ
তেমন যত্নের প্রয়োজন নেই, পরিবারের যে কোন সদস্য এ কাজ করতে পারে।
টার্কি নিজেই খাবার কুড়িয়ে খায় তাই খাদ্য খরচ খুবই কম।
এদের মাংস সুস্বাদু এবং বাজারে এ জাতীয় টার্কির চাহিাদা বেশী
পর্যাপ্ত সবুজ খাদ্য এবং সূর্যকিরন পায় এতে টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
অসুবিধাঃ
বেশী জায়গার প্রয়োজন হয়।
যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করে বাড়ি নোংড়া করে।
অনেক সময় ডিম হারিয়ে যায়।
বন্য প্রানী টার্কি ধরে নিয়ে যায়।
২) অর্ধছাড়া পদ্ধতি:
এ পদ্ধতিতে টার্কি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সারাদিন ছাড়া অবস্থায় থাকে। দিনের বেলা টার্কির ঘর সংলগ্ন তারজালী বা বাশের বেড়ার তৈরি রানে থাকে। ৬ মিটার লম্বা ৩ মিটার চওড়া এবং ২.৬ মিটার উচু ঘর সংলগ্ন ২ মিটার উঁচু তারের জাল বা বাশের বেড়া দিয়ে রান তৈরি করে ১০০ – ১৫০ টি টার্কি পালন করা যায়। খাদ্য ও পানির পাত্র ঘরের মধ্যে অথবা রানের মধ্যে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার সাথে সাথে টার্কি ঘরে আশ্রয় নেয়। সপ্তাহে ৩-৪ দিন রান ঝাড়– দেওয়া এবং জীবানুনাশক যেমন চুন বা ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়া উত্তম।
সুবিধাঃ
টার্কি দিনের বেলা রানের মধ্যে থাকে বিধায় প্রচুর আলো বাতাস পায় এতে স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
খাদ্য ও পানি দিতে সুবিধা
রানে আবদ্ধ থাকে ফলে অন্যের ফসল নষ্ট করতে পারেনা, বাড়তি জায়গা নোংড়া করতে পারেনা
রোগাক্রান্ত বা অসুস্থ টার্কির সংস্পর্শে আশতে পারেনা ফলে রোগ বালাই কম হয়
টার্কি হারানোর সম্ভাবনা থাকেনা
অসুবিধাঃ
ঘর ও রান তৈরির জন্য বেশী জয়গার প্রয়োজন
রান তৈরিতে বাড়তি খরচ হয়
পরিচর্যার খরচ তুলনামূলক বেশী
৩) আবদ্ধ পদ্ধতি: আবদ্ধ পদ্ধতি আবার তিন প্রকার-
ক) লিটার পদ্ধতি
খ) মাচা পদ্ধতি
গ) খাঁচা পদ্ধতি
৩ক) লিটার পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ঘরের মেঝের উপর লিটার ব্যবহার করে টার্কি পালন করা হয়ে থাকে
সুবিধাঃ
টার্কির জন্য আরামদায়ক
নির্মান খরচ কম
প্রজননের জন্য সুবিধা
ব্রয়লারের জন্য সুবিধাজনক
অসুবিধাঃ
বেশী পরিমানে ডিম ভাংগে
জায়গা বেশী প্রয়োজন
কুজে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী
অনেক সময় টার্কি ডিম খেয়ে ফেলে
৩খ) মাচা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে মাটি থেকে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় বাঁশ, কাঠ, তার, লোহা ইত্যাদি দিয়ে মাচা তৈরি করে পালন করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৫ ইঞ্চি দূরে দূরে বাঁশ বা কাঠ স্থাপন করতে হয়। পুলেটের ক্ষেত্রে ৪ সপ্তাহ এবং ব্রয়লারের ক্ষেত্রে ২ সপ্তাহের পর মাচায় লিটার দিতে হয়না।
সুবিধাঃ
রোগব্যাধি কম হয়
অল্পস্থানে বেশী টার্কি পালন করা যায়
কম পরিমানে লিটার লিটার প্রয়োজন হয়
টার্কির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়
অসুবিধাঃ
নির্মান খরচ বেশী
ডিম ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে
প্রজননে অসুবিধা হয়
বিষ্ঠা পরিস্কার করতে অসুবিধা হয়
৩গ) খাঁচা পদ্ধতি: খাঁচায় টার্কি পালন আজকাল বেশ জনপ্রিয়। বাসা বাড়িতে এবং বড় বড় বানিজ্যিক খমারে ডিম উৎপাদনের জন্য খাঁচায় টার্কি পালন করা হয়। এতে খাবার এবং পানির পাত্র খাচার সাথে সংলগ্ন থাকে। খাঁচার সামনের বর্ধিত ঢালু অংশে খাঁচায় পাড়া ডিম সাথে সাথে গড়িয়ে এসে জমা হয়। এছাড়া খাঁচার মেঝ তারজালির তৈরি হওয়ায় বিষ্ঠা সহজেই নিচে পড়ে যায়। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি টার্কি দাড়ানোর জন্য ০.৫-০.৮ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়।
সুবিধাঃ
অল্পস্থানে অধিক টার্কি পালন করা যায়
পরিচর্যা সহজ
অসুস্থ বা অনুৎপাদনশীল টার্কি সহজে বাছাই/ছাটাই করা যায়
শ্রমিক খরচ কম
খাদ্য অপচয় কম


টার্কি মুরগি পালন, টার্কি দাম, টার্কি মুরগির রোগ, টার্কি মুরগির খামার, টার্কি বাচ্চার দাম, টার্কি মুরগি পালন পদ্ধতি pdf, টার্কি মুরগির খাবার, টার্কি মুরগির দাম, টার্কি মুরগির চিকিৎসা
আরো পড়ুন>