Latest Products
Showing posts with label turkey farm. Show all posts
Showing posts with label turkey farm. Show all posts

টার্কি খামার সম্প্রসারণে একজন চাষার প্রস্তাব | Propose a farmer to expand the turkey farm


আনুষ্ঠানিক শুরুটা ২০১৫ সালের শেষ ভাগে. বলছিলাম টার্কি পাখীর কথা. একটি শিক্ষা সফরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ যাই. সেমিনার শেষে ড: সুবাস চন্দ্র দাসের আন্তরিকতায় সুজোগ পেয়ে যাই, তার গবেষণা মূলক পোল্ট্রি খামারগুলো পরিদর্শন করার. সেই সূত্র ধরে দেখা মেলে টার্কির. যেখানে মাত্র ছয়টি টার্কি ছিলো. তখন পর্যন্ত দেশে হাতেগোনা তিন - চারজন খামারি ব্যক্তি উদ্যোগে টার্কি পালন করতেন. কিন্ত তেমন কোন প্রচার প্রচারণা ছিলোনা. বিষয়টি মাথায় ঢুকে যায়. ইন্টারনেট ঘেটে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের টার্কি বিষয়ে একটি লেখা পেয়ে যাই. যেখানে নওগাঁ জেলার একজন খামারি আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান সাহেবের নাম এবং টার্কি পালনে তার সফলতার বিষয়টি উল্লেখ ছিলো. তিনি টার্কিকে কিছূ সাধারণ দানাদার খাবার এবং ঘাস দিতেন. এরপর আরো তথ্য সংগ্রহের জন্য ভারতীয় বিভিন্ন বাণিজ্যিক বৃহৎ খামারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল লিখে ফেলি. পাশাপশি ড: সুবাস স্যারের সহযোগিতায় তিতির পাখী পালন নিয়ে একটি সংগঠনের ব্যানারে সেমিনারের আয়োজন করা হয়. সেই সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় টার্কি. যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই এর মাননীয় ডিজি মহোদয়, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এর দুজন পরিচালক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি অনুষদের সম্মানীত ডীন সহ একঝাক তারকা. সকলই ছিলো ড. সুবাস স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং দেশ প্রেমের ফসল.
উল্লেখ্য, উক্ত সংগঠনের আমি একজন ক্ষুদ্র সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলাম উল্লেখিত অনুষ্ঠানে. সেই অনুষ্ঠান আরো বেশি সফল হয়ে উঠলো অনলাইন মিডিয়ার বদৌলতে. আর সুজোগ তৈরী হয়ে গেলো আমার মত অতিলোভী, ঠকবাজ, প্রতারকদের জন্য. বিশেষ করে যারা উক্ত অভিশপ্ত সংগঠনের কর্ণধার ছিলেন. ড. সুবাস স্যারের মত পোল্ট্রি বিজ্ঞানী, সম্মানীত, উদারমনা, দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ একজন মানুষের নাম ভাঙ্গিয়ে শুরু হয় প্রতারণা. যার সহজ শিকারে পরিণত হয়ে যান আমাদের দেশের সহজ -সরল গরীব খামারিরা. এমনকি আমার লেখা আর্টিকেল স্বনামে - বেনামে চালানো হয়. আমার লেখা চুরি করে অনেক টার্কি দালাল ( যারা ভারত থেকে প্রতিষেধক/টিকা বিহীন, রুগ্ন টার্কির বাচ্চা আমদানী করে নিজের খামারের বাচ্চা বলে বিক্রয় করে থাকেন ) নিজেকে কখনো কৃষিবিদ, কখনো কৃষি উদ্যোগতা সহ সুবিধাজনক সময়োপযোগী বিভিন্ন  পরিচয় দিয়ে অনলাইনে টার্কি ব্যবসা চালিয়েছেন . অথচ তিনি জীবনে কৃষি শিক্ষা বইটি পড়েছেন কিনা আমার সন্দেহ. আর এখনতো টার্কি বাবা, টার্কি দাদাদের কোন অভাবই নেই. যাহোক সে অনেক কথা. তবে সুখের বিষয়, টার্কি পরিচিতি বেড়েছে , বেড়েছে খামার. যেটা দেশ ও জাতীর জন্য কল্যাণের. আর এর অন্যতম প্রশংসার দাবীদার ড. সুবাস স্যার. তবে অতি মুনাফালোভীদের যেমন সমালচনা করেছি, তেমনি সাধুবাদ জানাই. কারন নিজেদের লাভে - লোভে তাদের এই প্রচারণা, টার্কি খামারিদের আগ্রহ সৃষ্টিসহ এর খামার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে.
বর্তমান সমস্যা হলো, দেশে যেসকল টার্কি খামারি রয়েছেন, তারা সকলেই উচ্চমূল্য পরিশোধ করে বাচ্চা ক্রয় করেছেন. তাই নিজেরাও উচ্চ মূল্যে বাচ্চা বিক্রয় করছেন. যে কারণে অনেক নতুন আগ্রহী বাচ্চা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং কাংক্ষিত খামার সম্প্রসারণ হচ্ছেনা.
#তাই প্রকৃত খামারিদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ করছি দুটো কারণে .
প্রথমত, আপনি যদি নিজের টার্কি খামারকে স্থায়ী লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্টিত করতে চান, তাহলে শুধু বাচ্চা বিক্রয় করে সেটা সম্ভব হবেনা. আপনাকে টার্কির মাংসের বাজার সৃস্টি করতে হবে. আর সে জন্য চাই বেশী উতপাদন ও ভোক্তা তৈরিতে প্রচারণা. কিন্ত সেটা এক - দুজন খামারির পক্ষে অসম্ভব. প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ. আর তাই আগে দরকার খামার সম্প্রসারণ. দেশে যত দ্রুত খামার বাড়বে, তত দ্রুত মানুষ টার্কিকে চিনবে, জানবে, আকৃষ্ট হবে.
দ্বিতীয়ত, ভারতীয় টার্কির বাচ্চা আমদানী রুখতে দ্রুত খামার সম্প্রসারণ জরুরী. আর নিজেদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এরজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই. আর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমানের চেয়ে দাম কমিয়ে যুতসই একটি দাম নির্ধারণ করতে হবে. তবে সেটা আমরা লোকসান দিয়ে করবোনা. অবশ্যই খামারিদের লাভ দিয়ে বিচার করবো. কিন্ত অতিরিক্ত লাভের বদলে স্বল্প লাভ বিবেচ্য.
CAJ প্রস্তাবনা:
টার্কির জীবনচক্র, খাদ্য চাহিদা, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও লেবার খরচ মাথায় রেখেই নিন্মে আমার প্রস্তাব উপস্থাপন করছি.
১ -৫ দিনের বাচ্চা - ৪০০ টাকা পিস.
৬ -১৫ ----------------৫৫০ টাকা পিস .
১৬-৩০ --------------৭০০ টাকা পিস .
৩১-৪৫ -------------৮৫০ টাকা পিস .
৪৬-৬০--------------১০০০ টাকা পিস.
৬১-৯০ -------------১২৫০ টাকা পিস .
৯১-১২০-----------১৫০০ টাকা পিস .
১২১- ১৮০ ------২৫০০ টাকা পিস .
উপরোল্লিখিত প্রস্তাবটি প্রকৃত টার্কি খামারিদের বিবেচনা, যাচাই -বাছাই, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের জন্য উপস্থাপন করেছি মাত্র. কারণ আপনাদের মূল্যবান মতামত আমার প্রস্তাবের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ.
তবে সময়োপযোগী বাস্তবসম্মত একটা দাম যদি নির্ধারণ করা যায় , তবে এই শিল্প দ্রুত স্থান করে নিতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি ।
বিদ্রঃ আমার টার্কি খামারের যাত্রা শুরু হয়েছে কিছুদিন পূর্বে । কিন্ত আমি আশাকরি, শুধু প্রস্তাবনা নয় - বরং উল্লেখিত দামেই আমার বিপনন শুরু হবে ইনশাল্লাহ্ ॥

আনুষ্ঠানিক শুরুটা ২০১৫ সালের শেষ ভাগে. বলছিলাম টার্কি পাখীর কথা. একটি শিক্ষা সফরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ যাই. সেমিনার শেষে ড: সুবাস চন্দ্র দাসের আন্তরিকতায় সুজোগ পেয়ে যাই, তার গবেষণা মূলক পোল্ট্রি খামারগুলো পরিদর্শন করার. সেই সূত্র ধরে দেখা মেলে টার্কির. যেখানে মাত্র ছয়টি টার্কি ছিলো. তখন পর্যন্ত দেশে হাতেগোনা তিন - চারজন খামারি ব্যক্তি উদ্যোগে টার্কি পালন করতেন. কিন্ত তেমন কোন প্রচার প্রচারণা ছিলোনা. বিষয়টি মাথায় ঢুকে যায়. ইন্টারনেট ঘেটে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের টার্কি বিষয়ে একটি লেখা পেয়ে যাই. যেখানে নওগাঁ জেলার একজন খামারি আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান সাহেবের নাম এবং টার্কি পালনে তার সফলতার বিষয়টি উল্লেখ ছিলো. তিনি টার্কিকে কিছূ সাধারণ দানাদার খাবার এবং ঘাস দিতেন. এরপর আরো তথ্য সংগ্রহের জন্য ভারতীয় বিভিন্ন বাণিজ্যিক বৃহৎ খামারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল লিখে ফেলি. পাশাপশি ড: সুবাস স্যারের সহযোগিতায় তিতির পাখী পালন নিয়ে একটি সংগঠনের ব্যানারে সেমিনারের আয়োজন করা হয়. সেই সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় টার্কি. যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই এর মাননীয় ডিজি মহোদয়, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এর দুজন পরিচালক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি অনুষদের সম্মানীত ডীন সহ একঝাক তারকা. সকলই ছিলো ড. সুবাস স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং দেশ প্রেমের ফসল.
উল্লেখ্য, উক্ত সংগঠনের আমি একজন ক্ষুদ্র সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলাম উল্লেখিত অনুষ্ঠানে. সেই অনুষ্ঠান আরো বেশি সফল হয়ে উঠলো অনলাইন মিডিয়ার বদৌলতে. আর সুজোগ তৈরী হয়ে গেলো আমার মত অতিলোভী, ঠকবাজ, প্রতারকদের জন্য. বিশেষ করে যারা উক্ত অভিশপ্ত সংগঠনের কর্ণধার ছিলেন. ড. সুবাস স্যারের মত পোল্ট্রি বিজ্ঞানী, সম্মানীত, উদারমনা, দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ একজন মানুষের নাম ভাঙ্গিয়ে শুরু হয় প্রতারণা. যার সহজ শিকারে পরিণত হয়ে যান আমাদের দেশের সহজ -সরল গরীব খামারিরা. এমনকি আমার লেখা আর্টিকেল স্বনামে - বেনামে চালানো হয়. আমার লেখা চুরি করে অনেক টার্কি দালাল ( যারা ভারত থেকে প্রতিষেধক/টিকা বিহীন, রুগ্ন টার্কির বাচ্চা আমদানী করে নিজের খামারের বাচ্চা বলে বিক্রয় করে থাকেন ) নিজেকে কখনো কৃষিবিদ, কখনো কৃষি উদ্যোগতা সহ সুবিধাজনক সময়োপযোগী বিভিন্ন  পরিচয় দিয়ে অনলাইনে টার্কি ব্যবসা চালিয়েছেন . অথচ তিনি জীবনে কৃষি শিক্ষা বইটি পড়েছেন কিনা আমার সন্দেহ. আর এখনতো টার্কি বাবা, টার্কি দাদাদের কোন অভাবই নেই. যাহোক সে অনেক কথা. তবে সুখের বিষয়, টার্কি পরিচিতি বেড়েছে , বেড়েছে খামার. যেটা দেশ ও জাতীর জন্য কল্যাণের. আর এর অন্যতম প্রশংসার দাবীদার ড. সুবাস স্যার. তবে অতি মুনাফালোভীদের যেমন সমালচনা করেছি, তেমনি সাধুবাদ জানাই. কারন নিজেদের লাভে - লোভে তাদের এই প্রচারণা, টার্কি খামারিদের আগ্রহ সৃষ্টিসহ এর খামার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে.
বর্তমান সমস্যা হলো, দেশে যেসকল টার্কি খামারি রয়েছেন, তারা সকলেই উচ্চমূল্য পরিশোধ করে বাচ্চা ক্রয় করেছেন. তাই নিজেরাও উচ্চ মূল্যে বাচ্চা বিক্রয় করছেন. যে কারণে অনেক নতুন আগ্রহী বাচ্চা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং কাংক্ষিত খামার সম্প্রসারণ হচ্ছেনা.
#তাই প্রকৃত খামারিদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ করছি দুটো কারণে .
প্রথমত, আপনি যদি নিজের টার্কি খামারকে স্থায়ী লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্টিত করতে চান, তাহলে শুধু বাচ্চা বিক্রয় করে সেটা সম্ভব হবেনা. আপনাকে টার্কির মাংসের বাজার সৃস্টি করতে হবে. আর সে জন্য চাই বেশী উতপাদন ও ভোক্তা তৈরিতে প্রচারণা. কিন্ত সেটা এক - দুজন খামারির পক্ষে অসম্ভব. প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ. আর তাই আগে দরকার খামার সম্প্রসারণ. দেশে যত দ্রুত খামার বাড়বে, তত দ্রুত মানুষ টার্কিকে চিনবে, জানবে, আকৃষ্ট হবে.
দ্বিতীয়ত, ভারতীয় টার্কির বাচ্চা আমদানী রুখতে দ্রুত খামার সম্প্রসারণ জরুরী. আর নিজেদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এরজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই. আর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমানের চেয়ে দাম কমিয়ে যুতসই একটি দাম নির্ধারণ করতে হবে. তবে সেটা আমরা লোকসান দিয়ে করবোনা. অবশ্যই খামারিদের লাভ দিয়ে বিচার করবো. কিন্ত অতিরিক্ত লাভের বদলে স্বল্প লাভ বিবেচ্য.
CAJ প্রস্তাবনা:
টার্কির জীবনচক্র, খাদ্য চাহিদা, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও লেবার খরচ মাথায় রেখেই নিন্মে আমার প্রস্তাব উপস্থাপন করছি.
১ -৫ দিনের বাচ্চা - ৪০০ টাকা পিস.
৬ -১৫ ----------------৫৫০ টাকা পিস .
১৬-৩০ --------------৭০০ টাকা পিস .
৩১-৪৫ -------------৮৫০ টাকা পিস .
৪৬-৬০--------------১০০০ টাকা পিস.
৬১-৯০ -------------১২৫০ টাকা পিস .
৯১-১২০-----------১৫০০ টাকা পিস .
১২১- ১৮০ ------২৫০০ টাকা পিস .
উপরোল্লিখিত প্রস্তাবটি প্রকৃত টার্কি খামারিদের বিবেচনা, যাচাই -বাছাই, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের জন্য উপস্থাপন করেছি মাত্র. কারণ আপনাদের মূল্যবান মতামত আমার প্রস্তাবের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ.
তবে সময়োপযোগী বাস্তবসম্মত একটা দাম যদি নির্ধারণ করা যায় , তবে এই শিল্প দ্রুত স্থান করে নিতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি ।
বিদ্রঃ আমার টার্কি খামারের যাত্রা শুরু হয়েছে কিছুদিন পূর্বে । কিন্ত আমি আশাকরি, শুধু প্রস্তাবনা নয় - বরং উল্লেখিত দামেই আমার বিপনন শুরু হবে ইনশাল্লাহ্ ॥
আরো পড়ুন>

টার্কির খামার গড়ে তুলুন টার্কি ফার্ম নিয়ে প্রাথমিক নির্মাণ ধারণা | How to Start Turkey Farming


পড়াশোনা শেষ করে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরা গতানুগতিক চাকরি বা ব্যবসার আশায় বসে থাকে। এ সকল চাকরি বা ব্যবসার আশায় না থেকে আমরা যদি নিজেরাই আত্তকর্মসংস্থানের জন্য কিছু গঠনমূলক কাজ করি তাহলে আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকেও আমরা কিছু উপহার দিতে পারব। এজন্য দরকার আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। সমাজে এমন অনেক ব্যতিক্রমী পেশা রয়েছে যেখানে একটু পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমাদের ক্যারিয়ার পাতায় প্রতিদিনই আমরা চেষ্টা করি কিছু গঠনমূলক প্রজেক্টের ধারণা দিতে। আজকে এরকম একটি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো। এটি হলো টার্কি ফার্ম।
বাংলাদেশে এখন সফল টার্কি ফার্মের সংখ্যা অনেক। দিন দিন এর চাহিদা ও বাজার বাড়ছে। একদিকে যেমন এ থেকে আদর্শ খাবার হিসেবে আমিষের চাহিদা মেটাতে চর্বি মুক্ত অধিক মাংস পাওয়া যাবে, তেমনি অন্যদিকে এ খাত থেকে বেশ ভালো আয় করাও সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে অল্পবিস্তর জ্ঞান থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিলে।
প্রাথমিক প্রয়োজন : যেকোনো কিছু গড়তে সবার আগে প্রয়োজন প্রাথমিক প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে যে কোনো কাজের সফলতার ও ব্যর্থতা। টার্কি ফার্ম গড়ে তুলতে প্রয়োজন আর্থিক সঙ্গতি, অভিজ্ঞতা ও টার্কির নিরাপদ আশ্রয়। প্রথমেই বিশাল ফার্ম তৈরিতে হাত না দিয়ে ছোট পরিসরে কাজে হাত দেওয়া ভালো। ৩০থেকে ৫০টি ১মাসের ভালো মানের বাচ্চা নিয়ে যাত্রা করে আস্তে আস্তে ফার্মকে সম্প্রসারণ করাই উত্তম।
বাছাই প্রক্রিয়া : নিজ এলাকায় বিশেষ করে মফস্বলে টার্কি ফার্ম গড়ে তোলাই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন টার্কির উন্নত জাত বাছাই। উন্নত জাতের টার্কি বাছাই না করলে সারা বছর ফার্মে রোগবালাই লেগে থাকবে , এবং ওজন কম হওয়াতে লাভবান হতে পারবেন না। ভালো জাতের টার্কির পাশাপাশি ফার্মে পর্যাপ্ত ঘাস, খোলা জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফার্ম গড়ে তোলার পরপরই ডিম এবং বাচ্চা বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাতে হবে।
স্থান নির্বাচন : যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো এবং বিক্রির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এসব এলাকার আশপাশেই ফার্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন। চারপাশে উঁচু দেওয়াল, পরিবেশসম্মত আবাসন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং হাঁটাচলার জন্য জায়গা থাকতে হবে। ওষুধের দোকান, কাঁচা ঘাসের খামার আশপাশে থাকলে ভালো।
খাবার সরবরাহ : পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন খাবার না পেলে সঠিক পরিমাণ মাংস পাওয়া যায় না। সবসময়ই খেয়াল রাখতে হবে টার্কি র যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিমান সম্পন্ন হয়। এ জন্য পচা বা দীর্ঘদিন রাখা এসব পণ্য টার্কি কে খাওয়ানো উচিত নয়।
আয়ব‍্যায়: টার্কির খামার করে অন্য কোন খামারের চাইতে দ্বিগুণ লাভবান হওয়া যায় 

পড়াশোনা শেষ করে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরা গতানুগতিক চাকরি বা ব্যবসার আশায় বসে থাকে। এ সকল চাকরি বা ব্যবসার আশায় না থেকে আমরা যদি নিজেরাই আত্তকর্মসংস্থানের জন্য কিছু গঠনমূলক কাজ করি তাহলে আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকেও আমরা কিছু উপহার দিতে পারব। এজন্য দরকার আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। সমাজে এমন অনেক ব্যতিক্রমী পেশা রয়েছে যেখানে একটু পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমাদের ক্যারিয়ার পাতায় প্রতিদিনই আমরা চেষ্টা করি কিছু গঠনমূলক প্রজেক্টের ধারণা দিতে। আজকে এরকম একটি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো। এটি হলো টার্কি ফার্ম।
বাংলাদেশে এখন সফল টার্কি ফার্মের সংখ্যা অনেক। দিন দিন এর চাহিদা ও বাজার বাড়ছে। একদিকে যেমন এ থেকে আদর্শ খাবার হিসেবে আমিষের চাহিদা মেটাতে চর্বি মুক্ত অধিক মাংস পাওয়া যাবে, তেমনি অন্যদিকে এ খাত থেকে বেশ ভালো আয় করাও সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে অল্পবিস্তর জ্ঞান থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিলে।
প্রাথমিক প্রয়োজন : যেকোনো কিছু গড়তে সবার আগে প্রয়োজন প্রাথমিক প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে যে কোনো কাজের সফলতার ও ব্যর্থতা। টার্কি ফার্ম গড়ে তুলতে প্রয়োজন আর্থিক সঙ্গতি, অভিজ্ঞতা ও টার্কির নিরাপদ আশ্রয়। প্রথমেই বিশাল ফার্ম তৈরিতে হাত না দিয়ে ছোট পরিসরে কাজে হাত দেওয়া ভালো। ৩০থেকে ৫০টি ১মাসের ভালো মানের বাচ্চা নিয়ে যাত্রা করে আস্তে আস্তে ফার্মকে সম্প্রসারণ করাই উত্তম।
বাছাই প্রক্রিয়া : নিজ এলাকায় বিশেষ করে মফস্বলে টার্কি ফার্ম গড়ে তোলাই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন টার্কির উন্নত জাত বাছাই। উন্নত জাতের টার্কি বাছাই না করলে সারা বছর ফার্মে রোগবালাই লেগে থাকবে , এবং ওজন কম হওয়াতে লাভবান হতে পারবেন না। ভালো জাতের টার্কির পাশাপাশি ফার্মে পর্যাপ্ত ঘাস, খোলা জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফার্ম গড়ে তোলার পরপরই ডিম এবং বাচ্চা বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাতে হবে।
স্থান নির্বাচন : যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো এবং বিক্রির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এসব এলাকার আশপাশেই ফার্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন। চারপাশে উঁচু দেওয়াল, পরিবেশসম্মত আবাসন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং হাঁটাচলার জন্য জায়গা থাকতে হবে। ওষুধের দোকান, কাঁচা ঘাসের খামার আশপাশে থাকলে ভালো।
খাবার সরবরাহ : পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন খাবার না পেলে সঠিক পরিমাণ মাংস পাওয়া যায় না। সবসময়ই খেয়াল রাখতে হবে টার্কি র যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিমান সম্পন্ন হয়। এ জন্য পচা বা দীর্ঘদিন রাখা এসব পণ্য টার্কি কে খাওয়ানো উচিত নয়।
আয়ব‍্যায়: টার্কির খামার করে অন্য কোন খামারের চাইতে দ্বিগুণ লাভবান হওয়া যায় 
আরো পড়ুন>

টার্কি পালন খামারের জন্য স্থান নির্বাচন | Select place for turkey pet farm

সাহেবের মন ভাল নেই! কেননা টার্কি পালণের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও সে ব্যর্থ। তবে কি তাকে দিয়ে টার্কি পালণ হবেনা ? ভাবতেই সাহেবের চোখের কোনে জল চলে আসল। তার এতদিনের লালিত স্বপ্ন, একটি শখের টার্কি খামার করার স্বপ্ন তাহলে কি কোনদিনও সফলতার মুখ দেখবেনা ?

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় আর্ত সাহেব আনমনে হাটতে হাটতে নিজের অজান্তেই তার চীরচেনা বংশী নদীর তীরে পৌছে গেল। আদিব সাহেবের কৈশরের সেই দূরন্ত দিনগুলোর কথা স্মৃতীর পটে একের পর এক জড়ো হতে লাগল। নদীতে ঝাপাঝাপি, সাঁতার, বাল্য বন্ধুদের সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি। হঠাৎ তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটির কথা মনে আসতেই তার মুখটা উজ্জল হয়ে উঠল। এক নিমিষেই মনের সব গ্লাণী দূরে সরে গেল। কেননা তার বন্ধুটি পড়াশুনায় অতটা ভাল না থাকায় তার পরিবারের ইচ্ছায় প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়েও হাল না ছাড়ায় টানা ০৪ বারের প্রচেষ্টায় এখন সে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ডধারী। শুনেছে অনেক টাকা মাইনে পায়। মাঝে মাঝে কিসব অদ্ভূত ঢঙে ফিরিঙী মেয়েদের সাথে নিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়।
আদিব সাহেবের চোখের সামনে ভেসে উঠল ছেলেবেলায় তার স্কুল শিক্ষক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গল্প শুনিয়েছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) । তিনি ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন। ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান। ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে। ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়। দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা, জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে। ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন। ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান। ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন। ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন। সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে। ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান। ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন, অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
আদিব সাহেবের বন্ধুর অতীত ও স্যারের বলা সেই আব্রাহাম লিংকনের গল্প তাকে নতুন করে উজ্জিবীত করল।
আদিব সাহেব এবার তার ১ম ও ২য় বারের ভুল গুলো খুজে বের করতে লাগল। ভুল গুলো শোধরে নতুন করে পথ চলতে চাইল। আদিব সাহেব কিছু সফল উদ্যোক্তার সাথে কথা বলল এবং জানতে পারল যে, কোন ব্যবসায় এর সাফল্যের মুল চাবিকাঠি হচ্ছে ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরলে স্বাভাবিক নিয়মেই আয় বেড়ে যাবে। তবে সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রম ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতাও ঠিক রাখতে হবে। যেহেতু খামারের ভাড়া+বিদ্যুৎ বিল+শ্রমিকের বেতন+খামারের খাবার খরচ + অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক বিশাল অংকের টাকা আদিব সাহেবকে প্রতিমাসে দিতে হত, সেহেতু সে এবার ভাবতে লাগল কিভাবে খরচ কমিয়ে আনা যায়।
তার এই ভাবনা থেকে সে প্রথমেই টার্গেট নিল নিজেদের জমিতে স্বল্প পরিসরে ছোট আকারে খামার গড়ে তুলবে। আর কর্মচারী হিসাবে অভিজ্ঞ কাউকে না পেলে সে নিজেই শ্রমিকের কাজ করবে। কিন্তু তাতেও প্রতিবদ্ধকতার শেষ নেই। তারমত একজন উচ্চ শিক্ষিত গ্রাজুয়েট ছেলে লেখা পড়া শেষ করে শেষে কিনা মুরগীর বিষ্ঠা পরিষ্কার করবে ? যদিও এতে আদিব সাহেবের কোন আপত্তি নেই কিন্তু প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এমনকি খোদ পরিবারের সদস্যদের আচরণে আদিব সাহেবের বিরম্বনার শেষ নেই। আদিব সাহেবের অবস্থা তখন সেই কবিতার লাইন দুটির মত-
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।
আদিব সাহেব ভাবল নিন্দুকের নিন্দা কথাকে সে কেন কানে নিবে ? যে যাই বলুক তার স্বপ্ন সে পূরণ করবেই।
আদিব সাহেব প্রথমেই টার্কি পালণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করল। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যে বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দিলঃ
• প্রথমেই আদিব সাহেবের খামারের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খামারের মুল স্থাপনার চাইতে খামার এলাকায় প্রায় দেড়গুণ বেশী জায়গা নিতে হবে।
• খামারের জায়গাটি উচু হতে হবে যেন বণ্যা বা অতি বৃষ্টি হলে খামার এলাকায় পানি প্রবেশ না করে।
• খামারের জমির মাটি বেলে বা বেলে দোঁআশ হলে ভাল হয়। কেননা খামারের মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা বেশী হওয়া আবশ্যক।
• খামারের চারপাশে ড্রেইনেজ ব্যবস্থা ভাল রাখতে হবে যাতে পানি দ্রুত চলে যায়।
• খামারের জায়গাটি শহুরে বা মানুষের কোলাহলমুক্ত স্থানে হতে হবে। সেক্ষেত্রে লক্ষনীয় মুল সড়ক হতে একটু ভিতরে হলে ভাল হয়।
• মুল সড়ক থেকে ভিতরে হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন অবশ্যই ভাল হয়।
• বিদ্যুত ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
• আদিব সাহেবকে আরো লক্ষ্য রাখতে হবে সে যে এলাকায় খামার করবে সেখানে সস্তায় বা সহজে মুরগীর খাবার পাওয়ার সুব্যবস্থা আছে কিনা ?
• আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদিব সাহেবকে খেয়াল করতে হবে যেন তার উৎপাদিত টার্কিগুলো সে সহজে বাজারজাত করতে পারে এমন এলাকায় খামার স্থাপন করতে হবে।
আদিব সাহেব তার চাহিদামত উপযুক্ত জায়গা খুজে পেল। সামনে তার জন্য আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খামার পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোই রয়ে গেছে।
১। বাসস্থান ব্যবস্থাপনা
২। খাদ্য ব্যবস্থাপনা
৩। রোগ বালাই দমন ব্যবস্থাপনা

সাহেবের মন ভাল নেই! কেননা টার্কি পালণের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও সে ব্যর্থ। তবে কি তাকে দিয়ে টার্কি পালণ হবেনা ? ভাবতেই সাহেবের চোখের কোনে জল চলে আসল। তার এতদিনের লালিত স্বপ্ন, একটি শখের টার্কি খামার করার স্বপ্ন তাহলে কি কোনদিনও সফলতার মুখ দেখবেনা ?

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় আর্ত সাহেব আনমনে হাটতে হাটতে নিজের অজান্তেই তার চীরচেনা বংশী নদীর তীরে পৌছে গেল। আদিব সাহেবের কৈশরের সেই দূরন্ত দিনগুলোর কথা স্মৃতীর পটে একের পর এক জড়ো হতে লাগল। নদীতে ঝাপাঝাপি, সাঁতার, বাল্য বন্ধুদের সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি। হঠাৎ তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটির কথা মনে আসতেই তার মুখটা উজ্জল হয়ে উঠল। এক নিমিষেই মনের সব গ্লাণী দূরে সরে গেল। কেননা তার বন্ধুটি পড়াশুনায় অতটা ভাল না থাকায় তার পরিবারের ইচ্ছায় প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়েও হাল না ছাড়ায় টানা ০৪ বারের প্রচেষ্টায় এখন সে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ডধারী। শুনেছে অনেক টাকা মাইনে পায়। মাঝে মাঝে কিসব অদ্ভূত ঢঙে ফিরিঙী মেয়েদের সাথে নিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়।
আদিব সাহেবের চোখের সামনে ভেসে উঠল ছেলেবেলায় তার স্কুল শিক্ষক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গল্প শুনিয়েছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) । তিনি ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন। ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান। ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে। ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়। দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা, জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে। ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন। ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান। ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন। ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন। সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে। ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান। ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন, অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
আদিব সাহেবের বন্ধুর অতীত ও স্যারের বলা সেই আব্রাহাম লিংকনের গল্প তাকে নতুন করে উজ্জিবীত করল।
আদিব সাহেব এবার তার ১ম ও ২য় বারের ভুল গুলো খুজে বের করতে লাগল। ভুল গুলো শোধরে নতুন করে পথ চলতে চাইল। আদিব সাহেব কিছু সফল উদ্যোক্তার সাথে কথা বলল এবং জানতে পারল যে, কোন ব্যবসায় এর সাফল্যের মুল চাবিকাঠি হচ্ছে ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরলে স্বাভাবিক নিয়মেই আয় বেড়ে যাবে। তবে সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রম ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতাও ঠিক রাখতে হবে। যেহেতু খামারের ভাড়া+বিদ্যুৎ বিল+শ্রমিকের বেতন+খামারের খাবার খরচ + অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক বিশাল অংকের টাকা আদিব সাহেবকে প্রতিমাসে দিতে হত, সেহেতু সে এবার ভাবতে লাগল কিভাবে খরচ কমিয়ে আনা যায়।
তার এই ভাবনা থেকে সে প্রথমেই টার্গেট নিল নিজেদের জমিতে স্বল্প পরিসরে ছোট আকারে খামার গড়ে তুলবে। আর কর্মচারী হিসাবে অভিজ্ঞ কাউকে না পেলে সে নিজেই শ্রমিকের কাজ করবে। কিন্তু তাতেও প্রতিবদ্ধকতার শেষ নেই। তারমত একজন উচ্চ শিক্ষিত গ্রাজুয়েট ছেলে লেখা পড়া শেষ করে শেষে কিনা মুরগীর বিষ্ঠা পরিষ্কার করবে ? যদিও এতে আদিব সাহেবের কোন আপত্তি নেই কিন্তু প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এমনকি খোদ পরিবারের সদস্যদের আচরণে আদিব সাহেবের বিরম্বনার শেষ নেই। আদিব সাহেবের অবস্থা তখন সেই কবিতার লাইন দুটির মত-
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।
আদিব সাহেব ভাবল নিন্দুকের নিন্দা কথাকে সে কেন কানে নিবে ? যে যাই বলুক তার স্বপ্ন সে পূরণ করবেই।
আদিব সাহেব প্রথমেই টার্কি পালণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করল। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যে বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দিলঃ
• প্রথমেই আদিব সাহেবের খামারের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খামারের মুল স্থাপনার চাইতে খামার এলাকায় প্রায় দেড়গুণ বেশী জায়গা নিতে হবে।
• খামারের জায়গাটি উচু হতে হবে যেন বণ্যা বা অতি বৃষ্টি হলে খামার এলাকায় পানি প্রবেশ না করে।
• খামারের জমির মাটি বেলে বা বেলে দোঁআশ হলে ভাল হয়। কেননা খামারের মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা বেশী হওয়া আবশ্যক।
• খামারের চারপাশে ড্রেইনেজ ব্যবস্থা ভাল রাখতে হবে যাতে পানি দ্রুত চলে যায়।
• খামারের জায়গাটি শহুরে বা মানুষের কোলাহলমুক্ত স্থানে হতে হবে। সেক্ষেত্রে লক্ষনীয় মুল সড়ক হতে একটু ভিতরে হলে ভাল হয়।
• মুল সড়ক থেকে ভিতরে হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন অবশ্যই ভাল হয়।
• বিদ্যুত ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
• আদিব সাহেবকে আরো লক্ষ্য রাখতে হবে সে যে এলাকায় খামার করবে সেখানে সস্তায় বা সহজে মুরগীর খাবার পাওয়ার সুব্যবস্থা আছে কিনা ?
• আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদিব সাহেবকে খেয়াল করতে হবে যেন তার উৎপাদিত টার্কিগুলো সে সহজে বাজারজাত করতে পারে এমন এলাকায় খামার স্থাপন করতে হবে।
আদিব সাহেব তার চাহিদামত উপযুক্ত জায়গা খুজে পেল। সামনে তার জন্য আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খামার পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোই রয়ে গেছে।
১। বাসস্থান ব্যবস্থাপনা
২। খাদ্য ব্যবস্থাপনা
৩। রোগ বালাই দমন ব্যবস্থাপনা

আরো পড়ুন>