Latest Products
Showing posts with label turkey hen price in BanglaDesh. Show all posts
Showing posts with label turkey hen price in BanglaDesh. Show all posts

টার্কির বাজার নিয়ে বিরুদ্ধবাদীদের শংকা | Opposition threat against Bangladesh Turkey Bird market !

আজকাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফেসবুকে টার্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন রকম বিরূপ মন্তব্য করছেন। আবার উৎসুক নতুন খামারী বা সৌখিনদের অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে টার্কি পালণ করবেন নাকি অন্য কিছু ? অনেকেই শংকিত টার্কির ভবিষ্যৎ কবুতরের বাজারের মত হবেনা ? কয়েক হাজার টাকার টার্কি কয়েক শত টাকায় বিক্রি করতে হবেনাত ?
 কেউ কেউ আবার রাখঢাক না করে সরাসরি টার্কিকে এম.এল.এম কোম্পানী ডেস্টিনি এর সাথে তুলনা করছেন এবং করুণ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাদের কয়েকটা যুক্তি হচ্ছে টার্কির যদি এতই চাহিদা থাকে তাহলে হাটে-বাজারে কেন টার্কি পাওয়া যায়না? আর এত দাম দিয়ে টার্কিই বা কে কিনে খাবে ? আবার টার্কি যদি আন্তর্জাতিক ভাবে এতই চাহিদা সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে এখনো বাংলাদেশে এটি রপ্তানীর প্রসেসে আসেনি কেন ?
এহেন পরিস্থিতিতে একজন টার্কি খামারী হিসাবে টার্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার মতামত ও ভাবনা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।
প্রথমত আমি আমি সমালোচকদের সাথে একটি বিষয়ে একমত যে, বর্তমান দামে অর্থাৎ ৩,০০০-৪,০০০/- দিয়ে কেউ টার্কি কিনে খাবেনা এটা খুবই স্বাভাবিক। দাম হাতের নাগালে আসলে আশাকরি আপনিও (সমালোচক) এর স্বাদ নিতে চাইবেন । আর দাম হাতের নাগালে আসার মূল প্রতিবন্ধক হচ্ছে চাহিদার সাথে যোগানের ভারসাম্য না থাকা। এখন অধিকাংশ টার্কি ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে খামারী ও সৌখিনদের মাঝে।তাও আবার এর বেশীর ভাগই হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে। গণমাধ্যমে প্রচারকৃত টার্কি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভার্চুয়াল মাধ্যমের কল্যাণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্যোক্তার সৃষ্টি হচ্ছে টার্কি সেক্টরে। আবার ব্রয়লারে ক্রমাগত লসের কারনে অনেক পুরাতন পোল্ট্রি ব্যবসায়ীও ব্রয়লার ছেড়ে টার্কির দিকে ঝুঁকছে। আর এই ক্রমবর্ধমান টার্কির বাচ্চার চাহিদার কারনেই ট্র্যাডিশনাল মার্কেটে অর্থাৎ হাটে-বাজারে টার্কি খুজে পাওয়া যায়না। ট্র্যাডিশনাল মার্কেটে টার্কি তখনই পাওয়া সম্ভব যখন খামারী পর্যায়ে টার্কির বাচ্চার চাহিদা পূরণ হবে।
হাটে-বাজারে বা পোর্ট্রির দোকান গুলোতে টার্কি পেতে হলে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আশাব্যঞ্জক হারে টার্কি ফার্মিং শুরু হয়েছে। আর তাই আশা করা যায় ভোক্তা পর্যায়ে টার্কি আসতে হয়তো খুব বেশীদিন লাগবেনা।
যারা শংকায় আছেন টার্কির মার্কেট কবুতরের মার্কেটের মত পরে যাবে, আমি মনে করি তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন ॥ সহজ কথা কেন বুঝতে পারছেননা টার্কি মাংস উৎপাদনে ব্যবহূত হয় পক্ষান্তরে কবুতর শুধুমাত্র সৌখিন পাখি। টার্কির মিট হিসাবে ভ্যালু আছে। আর তাই টার্কি কবুতরের মত কিছুদিন পরে কয়েক হাজার টাকার জিনিস কয়েক শত টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দাম কমে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি মনে করি দাম কমে গিয়ে একটি ০৬-০৭ কেজি ওজনের টার্কির দাম ২,০০০-২,৫০০/- এর মধ্যে হলে সেটাই হবে টার্কির সঠিক এবং স্বাভাবিক মূল্য।
আর রপ্তানীর কথা কি বলবো-এই নগন্য সংখ্যক টার্কি নিয়ে যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বাচ্চার চাহিদাই মেটানো সম্ভব হচ্ছেনা সেখানে এত জলদি জলদি মাংস রপ্তানির কথা বলে প্রশ্ন তোলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নবিদ্ধ। রপ্তানীর পর্যায়ে যেতে হলে বৃহৎ উদ্যোগ ও তারচেয়ে বৃহত্তর প্রজেক্ট দরকার॥
একজন টার্কি খামারী হিসাবে টার্কির ভবিষ্যৎ হিসাবে আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে প্রতিটি পরিবারে যেমন দেশীয় জাতের হাঁস-মুরগী পালণ করা হয়, ঠিক তেমনি একদিন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামীন পরিবারে টার্কি পালণ হবে। কারণ টার্কি পালণ অনেক সহজসাধ্য ও আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক বেশী।
বিঃদ্রঃ লেখাটি পড়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণকারীদের আঁতে ঘা লাগলে লেখক দায়ী নয়।
আজকাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফেসবুকে টার্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন রকম বিরূপ মন্তব্য করছেন। আবার উৎসুক নতুন খামারী বা সৌখিনদের অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে টার্কি পালণ করবেন নাকি অন্য কিছু ? অনেকেই শংকিত টার্কির ভবিষ্যৎ কবুতরের বাজারের মত হবেনা ? কয়েক হাজার টাকার টার্কি কয়েক শত টাকায় বিক্রি করতে হবেনাত ?
 কেউ কেউ আবার রাখঢাক না করে সরাসরি টার্কিকে এম.এল.এম কোম্পানী ডেস্টিনি এর সাথে তুলনা করছেন এবং করুণ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাদের কয়েকটা যুক্তি হচ্ছে টার্কির যদি এতই চাহিদা থাকে তাহলে হাটে-বাজারে কেন টার্কি পাওয়া যায়না? আর এত দাম দিয়ে টার্কিই বা কে কিনে খাবে ? আবার টার্কি যদি আন্তর্জাতিক ভাবে এতই চাহিদা সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে এখনো বাংলাদেশে এটি রপ্তানীর প্রসেসে আসেনি কেন ?
এহেন পরিস্থিতিতে একজন টার্কি খামারী হিসাবে টার্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার মতামত ও ভাবনা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।
প্রথমত আমি আমি সমালোচকদের সাথে একটি বিষয়ে একমত যে, বর্তমান দামে অর্থাৎ ৩,০০০-৪,০০০/- দিয়ে কেউ টার্কি কিনে খাবেনা এটা খুবই স্বাভাবিক। দাম হাতের নাগালে আসলে আশাকরি আপনিও (সমালোচক) এর স্বাদ নিতে চাইবেন । আর দাম হাতের নাগালে আসার মূল প্রতিবন্ধক হচ্ছে চাহিদার সাথে যোগানের ভারসাম্য না থাকা। এখন অধিকাংশ টার্কি ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে খামারী ও সৌখিনদের মাঝে।তাও আবার এর বেশীর ভাগই হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে। গণমাধ্যমে প্রচারকৃত টার্কি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভার্চুয়াল মাধ্যমের কল্যাণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্যোক্তার সৃষ্টি হচ্ছে টার্কি সেক্টরে। আবার ব্রয়লারে ক্রমাগত লসের কারনে অনেক পুরাতন পোল্ট্রি ব্যবসায়ীও ব্রয়লার ছেড়ে টার্কির দিকে ঝুঁকছে। আর এই ক্রমবর্ধমান টার্কির বাচ্চার চাহিদার কারনেই ট্র্যাডিশনাল মার্কেটে অর্থাৎ হাটে-বাজারে টার্কি খুজে পাওয়া যায়না। ট্র্যাডিশনাল মার্কেটে টার্কি তখনই পাওয়া সম্ভব যখন খামারী পর্যায়ে টার্কির বাচ্চার চাহিদা পূরণ হবে।
হাটে-বাজারে বা পোর্ট্রির দোকান গুলোতে টার্কি পেতে হলে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আশাব্যঞ্জক হারে টার্কি ফার্মিং শুরু হয়েছে। আর তাই আশা করা যায় ভোক্তা পর্যায়ে টার্কি আসতে হয়তো খুব বেশীদিন লাগবেনা।
যারা শংকায় আছেন টার্কির মার্কেট কবুতরের মার্কেটের মত পরে যাবে, আমি মনে করি তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন ॥ সহজ কথা কেন বুঝতে পারছেননা টার্কি মাংস উৎপাদনে ব্যবহূত হয় পক্ষান্তরে কবুতর শুধুমাত্র সৌখিন পাখি। টার্কির মিট হিসাবে ভ্যালু আছে। আর তাই টার্কি কবুতরের মত কিছুদিন পরে কয়েক হাজার টাকার জিনিস কয়েক শত টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দাম কমে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি মনে করি দাম কমে গিয়ে একটি ০৬-০৭ কেজি ওজনের টার্কির দাম ২,০০০-২,৫০০/- এর মধ্যে হলে সেটাই হবে টার্কির সঠিক এবং স্বাভাবিক মূল্য।
আর রপ্তানীর কথা কি বলবো-এই নগন্য সংখ্যক টার্কি নিয়ে যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বাচ্চার চাহিদাই মেটানো সম্ভব হচ্ছেনা সেখানে এত জলদি জলদি মাংস রপ্তানির কথা বলে প্রশ্ন তোলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নবিদ্ধ। রপ্তানীর পর্যায়ে যেতে হলে বৃহৎ উদ্যোগ ও তারচেয়ে বৃহত্তর প্রজেক্ট দরকার॥
একজন টার্কি খামারী হিসাবে টার্কির ভবিষ্যৎ হিসাবে আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে প্রতিটি পরিবারে যেমন দেশীয় জাতের হাঁস-মুরগী পালণ করা হয়, ঠিক তেমনি একদিন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামীন পরিবারে টার্কি পালণ হবে। কারণ টার্কি পালণ অনেক সহজসাধ্য ও আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক বেশী।
বিঃদ্রঃ লেখাটি পড়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণকারীদের আঁতে ঘা লাগলে লেখক দায়ী নয়।
আরো পড়ুন>

টার্কি পালণে ঘুচতে পারে বেকারত্ব | Unemployment can be overcome by pet turkey

টার্কি এক সময়ের বন্য পাখী হলেও এখন একটি গৃহ পালিত বড় আকারের টার্কি মুরগী। এটি গৃহে পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায় । কিন্ত বর্তমানে ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে টার্কি পাখী কম–বেশী পালন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস বেশ জনপ্রিয়।

টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে ।
টার্কির মাংসে প্রোটিন বেশী, চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখীর মাংসের চেয়ে বেশী পুষ্টিকর । পশ্চিমা দেশ গুলতে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয় । তাই সবচেয়ে বেশী টার্কি পালন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স,ইতালি,নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে । তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যাক্তি উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে । যেটা আমাদের জন্য সুখবর এবং বেকার যুবকদের টার্কি পালনে আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরে মধ্যেই এটা ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করবে।
টার্কি পালনের সুবিধাসমুহঃ-
 টার্কির মাংস উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপক। সাধারণত ০৭-১৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে, কিছু কিছু প্রজাতী আরো বেশী ওজন হতে পারে।
এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়, পাশাপাশি আবদ্ধ অবস্থায়ও পালন করা যায় ।
টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে, ২০ সপ্তাহে গড় ওজন পুরুষ পাখী =৭–৮ কেজি ও স্ত্রী পাখী =৪–৫ কেজি ।
 টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস, লতাপাতা খেতে বেশী পছন্দ করে ।
টার্কি দ্রুত মাংস উৎপাদনশীল একটি পাখী । দেশী হাঁস–মুরগীর মত সাধারন নিয়মে পালন করলেও ২৮ -৩০ সপ্তাহে প্রতিটি গড়ে ৫-৬ কেজি ওজন হয়।
 টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির শোভা বর্ধন করে ।
টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বি কম । তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে ।
 টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ ও ফসফরাস থাকে । এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায় ।
 টার্কির মাংসে ভিটামিন ই, এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ।
 সাধারণত ৩০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে । প্রয়োজনীয় আলো বাতাস, পরিষ্কার পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হলে বছরে ৮০ – ১০০ ডিম দিয়ে থাকে ।
 টার্কির খাবার সরবরাহের জন্য দুইটি পদ্ধতি ব্যাবহার করা যায় । যেমন ম্যাশ ফিডিং ও পিলেট ফিডিং ।
একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো –ধান-২০%, গম- ২০%, ভুট্টা- ২৫%, সয়াবিন মিল- ১০%, ঘাসের বীজ- ৮%, সূর্যমুখী বীজ- ১০%, ঝিনুক গুড়া- ৭% মোট = ১০০%
 সব সময় মোট খাবারের সঙ্গে ৫০% সবুজ ঘাস খেতে দিলে ভালো । সে ক্ষেত্রে নরম জাতীয় যে কোন ঘাস হতে হবে । যেমন – কলমি, হেলেঞ্চা, কচুরী পানা ইত্যাদি । একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০–১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০ – ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে ।
 টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশী করে ।
 টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে ।
যাদের অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু / খাসীর মাংস খায়না , টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ –ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার । এবং গরু / খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।
যারা বেকার বসে আছেন * যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান * পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না * যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন * যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের । কারন হিসেবে আমার অভিমত:
১। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয় না ।
২। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললেগি এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম।
৩। যেহেতু ৫০% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম ।
৪। বাজার চাহিদা প্রচুর ও উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয় অনেক বেশী ।
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে অনেক জায়গা অনাবাদী/ পতিত অবস্থায় পরে থাকে । যেখানে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে রয়েছে বিভিন্ন ঘাস–লতা । এরকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশী উপযোগী। অন্যদিকে আমদের রয়েছে এক বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী । তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্ম সংস্থান, এই দুই এর মাঝে সেতু বন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার ।
★★কোথায় পাবেন টার্কি মুরগি ?★★
 টার্কি মুরগি পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

টার্কি এক সময়ের বন্য পাখী হলেও এখন একটি গৃহ পালিত বড় আকারের টার্কি মুরগী। এটি গৃহে পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায় । কিন্ত বর্তমানে ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে টার্কি পাখী কম–বেশী পালন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস বেশ জনপ্রিয়।

টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে ।
টার্কির মাংসে প্রোটিন বেশী, চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখীর মাংসের চেয়ে বেশী পুষ্টিকর । পশ্চিমা দেশ গুলতে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয় । তাই সবচেয়ে বেশী টার্কি পালন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স,ইতালি,নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে । তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যাক্তি উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে । যেটা আমাদের জন্য সুখবর এবং বেকার যুবকদের টার্কি পালনে আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরে মধ্যেই এটা ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করবে।
টার্কি পালনের সুবিধাসমুহঃ-
 টার্কির মাংস উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপক। সাধারণত ০৭-১৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে, কিছু কিছু প্রজাতী আরো বেশী ওজন হতে পারে।
এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়, পাশাপাশি আবদ্ধ অবস্থায়ও পালন করা যায় ।
টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে, ২০ সপ্তাহে গড় ওজন পুরুষ পাখী =৭–৮ কেজি ও স্ত্রী পাখী =৪–৫ কেজি ।
 টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস, লতাপাতা খেতে বেশী পছন্দ করে ।
টার্কি দ্রুত মাংস উৎপাদনশীল একটি পাখী । দেশী হাঁস–মুরগীর মত সাধারন নিয়মে পালন করলেও ২৮ -৩০ সপ্তাহে প্রতিটি গড়ে ৫-৬ কেজি ওজন হয়।
 টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির শোভা বর্ধন করে ।
টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বি কম । তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে ।
 টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ ও ফসফরাস থাকে । এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায় ।
 টার্কির মাংসে ভিটামিন ই, এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ।
 সাধারণত ৩০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে । প্রয়োজনীয় আলো বাতাস, পরিষ্কার পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হলে বছরে ৮০ – ১০০ ডিম দিয়ে থাকে ।
 টার্কির খাবার সরবরাহের জন্য দুইটি পদ্ধতি ব্যাবহার করা যায় । যেমন ম্যাশ ফিডিং ও পিলেট ফিডিং ।
একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো –ধান-২০%, গম- ২০%, ভুট্টা- ২৫%, সয়াবিন মিল- ১০%, ঘাসের বীজ- ৮%, সূর্যমুখী বীজ- ১০%, ঝিনুক গুড়া- ৭% মোট = ১০০%
 সব সময় মোট খাবারের সঙ্গে ৫০% সবুজ ঘাস খেতে দিলে ভালো । সে ক্ষেত্রে নরম জাতীয় যে কোন ঘাস হতে হবে । যেমন – কলমি, হেলেঞ্চা, কচুরী পানা ইত্যাদি । একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০–১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০ – ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে ।
 টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশী করে ।
 টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে ।
যাদের অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু / খাসীর মাংস খায়না , টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ –ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার । এবং গরু / খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।
যারা বেকার বসে আছেন * যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান * পোল্ট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোন কাজে আসছে না * যারা কম ঝামেলা পূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুজছেন * যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের । কারন হিসেবে আমার অভিমত:
১। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয় না ।
২। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললেগি এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম।
৩। যেহেতু ৫০% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম ।
৪। বাজার চাহিদা প্রচুর ও উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয় অনেক বেশী ।
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে অনেক জায়গা অনাবাদী/ পতিত অবস্থায় পরে থাকে । যেখানে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে রয়েছে বিভিন্ন ঘাস–লতা । এরকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশী উপযোগী। অন্যদিকে আমদের রয়েছে এক বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী । তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্ম সংস্থান, এই দুই এর মাঝে সেতু বন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার ।
★★কোথায় পাবেন টার্কি মুরগি ?★★
 টার্কি মুরগি পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আরো পড়ুন>

টার্কি পালন খামারের জন্য স্থান নির্বাচন | Select place for turkey pet farm

সাহেবের মন ভাল নেই! কেননা টার্কি পালণের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও সে ব্যর্থ। তবে কি তাকে দিয়ে টার্কি পালণ হবেনা ? ভাবতেই সাহেবের চোখের কোনে জল চলে আসল। তার এতদিনের লালিত স্বপ্ন, একটি শখের টার্কি খামার করার স্বপ্ন তাহলে কি কোনদিনও সফলতার মুখ দেখবেনা ?

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় আর্ত সাহেব আনমনে হাটতে হাটতে নিজের অজান্তেই তার চীরচেনা বংশী নদীর তীরে পৌছে গেল। আদিব সাহেবের কৈশরের সেই দূরন্ত দিনগুলোর কথা স্মৃতীর পটে একের পর এক জড়ো হতে লাগল। নদীতে ঝাপাঝাপি, সাঁতার, বাল্য বন্ধুদের সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি। হঠাৎ তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটির কথা মনে আসতেই তার মুখটা উজ্জল হয়ে উঠল। এক নিমিষেই মনের সব গ্লাণী দূরে সরে গেল। কেননা তার বন্ধুটি পড়াশুনায় অতটা ভাল না থাকায় তার পরিবারের ইচ্ছায় প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়েও হাল না ছাড়ায় টানা ০৪ বারের প্রচেষ্টায় এখন সে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ডধারী। শুনেছে অনেক টাকা মাইনে পায়। মাঝে মাঝে কিসব অদ্ভূত ঢঙে ফিরিঙী মেয়েদের সাথে নিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়।
আদিব সাহেবের চোখের সামনে ভেসে উঠল ছেলেবেলায় তার স্কুল শিক্ষক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গল্প শুনিয়েছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) । তিনি ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন। ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান। ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে। ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়। দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা, জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে। ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন। ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান। ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন। ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন। সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে। ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান। ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন, অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
আদিব সাহেবের বন্ধুর অতীত ও স্যারের বলা সেই আব্রাহাম লিংকনের গল্প তাকে নতুন করে উজ্জিবীত করল।
আদিব সাহেব এবার তার ১ম ও ২য় বারের ভুল গুলো খুজে বের করতে লাগল। ভুল গুলো শোধরে নতুন করে পথ চলতে চাইল। আদিব সাহেব কিছু সফল উদ্যোক্তার সাথে কথা বলল এবং জানতে পারল যে, কোন ব্যবসায় এর সাফল্যের মুল চাবিকাঠি হচ্ছে ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরলে স্বাভাবিক নিয়মেই আয় বেড়ে যাবে। তবে সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রম ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতাও ঠিক রাখতে হবে। যেহেতু খামারের ভাড়া+বিদ্যুৎ বিল+শ্রমিকের বেতন+খামারের খাবার খরচ + অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক বিশাল অংকের টাকা আদিব সাহেবকে প্রতিমাসে দিতে হত, সেহেতু সে এবার ভাবতে লাগল কিভাবে খরচ কমিয়ে আনা যায়।
তার এই ভাবনা থেকে সে প্রথমেই টার্গেট নিল নিজেদের জমিতে স্বল্প পরিসরে ছোট আকারে খামার গড়ে তুলবে। আর কর্মচারী হিসাবে অভিজ্ঞ কাউকে না পেলে সে নিজেই শ্রমিকের কাজ করবে। কিন্তু তাতেও প্রতিবদ্ধকতার শেষ নেই। তারমত একজন উচ্চ শিক্ষিত গ্রাজুয়েট ছেলে লেখা পড়া শেষ করে শেষে কিনা মুরগীর বিষ্ঠা পরিষ্কার করবে ? যদিও এতে আদিব সাহেবের কোন আপত্তি নেই কিন্তু প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এমনকি খোদ পরিবারের সদস্যদের আচরণে আদিব সাহেবের বিরম্বনার শেষ নেই। আদিব সাহেবের অবস্থা তখন সেই কবিতার লাইন দুটির মত-
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।
আদিব সাহেব ভাবল নিন্দুকের নিন্দা কথাকে সে কেন কানে নিবে ? যে যাই বলুক তার স্বপ্ন সে পূরণ করবেই।
আদিব সাহেব প্রথমেই টার্কি পালণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করল। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যে বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দিলঃ
• প্রথমেই আদিব সাহেবের খামারের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খামারের মুল স্থাপনার চাইতে খামার এলাকায় প্রায় দেড়গুণ বেশী জায়গা নিতে হবে।
• খামারের জায়গাটি উচু হতে হবে যেন বণ্যা বা অতি বৃষ্টি হলে খামার এলাকায় পানি প্রবেশ না করে।
• খামারের জমির মাটি বেলে বা বেলে দোঁআশ হলে ভাল হয়। কেননা খামারের মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা বেশী হওয়া আবশ্যক।
• খামারের চারপাশে ড্রেইনেজ ব্যবস্থা ভাল রাখতে হবে যাতে পানি দ্রুত চলে যায়।
• খামারের জায়গাটি শহুরে বা মানুষের কোলাহলমুক্ত স্থানে হতে হবে। সেক্ষেত্রে লক্ষনীয় মুল সড়ক হতে একটু ভিতরে হলে ভাল হয়।
• মুল সড়ক থেকে ভিতরে হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন অবশ্যই ভাল হয়।
• বিদ্যুত ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
• আদিব সাহেবকে আরো লক্ষ্য রাখতে হবে সে যে এলাকায় খামার করবে সেখানে সস্তায় বা সহজে মুরগীর খাবার পাওয়ার সুব্যবস্থা আছে কিনা ?
• আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদিব সাহেবকে খেয়াল করতে হবে যেন তার উৎপাদিত টার্কিগুলো সে সহজে বাজারজাত করতে পারে এমন এলাকায় খামার স্থাপন করতে হবে।
আদিব সাহেব তার চাহিদামত উপযুক্ত জায়গা খুজে পেল। সামনে তার জন্য আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খামার পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোই রয়ে গেছে।
১। বাসস্থান ব্যবস্থাপনা
২। খাদ্য ব্যবস্থাপনা
৩। রোগ বালাই দমন ব্যবস্থাপনা

সাহেবের মন ভাল নেই! কেননা টার্কি পালণের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও সে ব্যর্থ। তবে কি তাকে দিয়ে টার্কি পালণ হবেনা ? ভাবতেই সাহেবের চোখের কোনে জল চলে আসল। তার এতদিনের লালিত স্বপ্ন, একটি শখের টার্কি খামার করার স্বপ্ন তাহলে কি কোনদিনও সফলতার মুখ দেখবেনা ?

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় আর্ত সাহেব আনমনে হাটতে হাটতে নিজের অজান্তেই তার চীরচেনা বংশী নদীর তীরে পৌছে গেল। আদিব সাহেবের কৈশরের সেই দূরন্ত দিনগুলোর কথা স্মৃতীর পটে একের পর এক জড়ো হতে লাগল। নদীতে ঝাপাঝাপি, সাঁতার, বাল্য বন্ধুদের সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি। হঠাৎ তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটির কথা মনে আসতেই তার মুখটা উজ্জল হয়ে উঠল। এক নিমিষেই মনের সব গ্লাণী দূরে সরে গেল। কেননা তার বন্ধুটি পড়াশুনায় অতটা ভাল না থাকায় তার পরিবারের ইচ্ছায় প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়েও হাল না ছাড়ায় টানা ০৪ বারের প্রচেষ্টায় এখন সে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ডধারী। শুনেছে অনেক টাকা মাইনে পায়। মাঝে মাঝে কিসব অদ্ভূত ঢঙে ফিরিঙী মেয়েদের সাথে নিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়।
আদিব সাহেবের চোখের সামনে ভেসে উঠল ছেলেবেলায় তার স্কুল শিক্ষক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গল্প শুনিয়েছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) । তিনি ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন। ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান। ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে। ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়। দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা, জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে। ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন। ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান। ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন। ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন। সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে। ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান। ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন, অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
আদিব সাহেবের বন্ধুর অতীত ও স্যারের বলা সেই আব্রাহাম লিংকনের গল্প তাকে নতুন করে উজ্জিবীত করল।
আদিব সাহেব এবার তার ১ম ও ২য় বারের ভুল গুলো খুজে বের করতে লাগল। ভুল গুলো শোধরে নতুন করে পথ চলতে চাইল। আদিব সাহেব কিছু সফল উদ্যোক্তার সাথে কথা বলল এবং জানতে পারল যে, কোন ব্যবসায় এর সাফল্যের মুল চাবিকাঠি হচ্ছে ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরলে স্বাভাবিক নিয়মেই আয় বেড়ে যাবে। তবে সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রম ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতাও ঠিক রাখতে হবে। যেহেতু খামারের ভাড়া+বিদ্যুৎ বিল+শ্রমিকের বেতন+খামারের খাবার খরচ + অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এক বিশাল অংকের টাকা আদিব সাহেবকে প্রতিমাসে দিতে হত, সেহেতু সে এবার ভাবতে লাগল কিভাবে খরচ কমিয়ে আনা যায়।
তার এই ভাবনা থেকে সে প্রথমেই টার্গেট নিল নিজেদের জমিতে স্বল্প পরিসরে ছোট আকারে খামার গড়ে তুলবে। আর কর্মচারী হিসাবে অভিজ্ঞ কাউকে না পেলে সে নিজেই শ্রমিকের কাজ করবে। কিন্তু তাতেও প্রতিবদ্ধকতার শেষ নেই। তারমত একজন উচ্চ শিক্ষিত গ্রাজুয়েট ছেলে লেখা পড়া শেষ করে শেষে কিনা মুরগীর বিষ্ঠা পরিষ্কার করবে ? যদিও এতে আদিব সাহেবের কোন আপত্তি নেই কিন্তু প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এমনকি খোদ পরিবারের সদস্যদের আচরণে আদিব সাহেবের বিরম্বনার শেষ নেই। আদিব সাহেবের অবস্থা তখন সেই কবিতার লাইন দুটির মত-
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।
আদিব সাহেব ভাবল নিন্দুকের নিন্দা কথাকে সে কেন কানে নিবে ? যে যাই বলুক তার স্বপ্ন সে পূরণ করবেই।
আদিব সাহেব প্রথমেই টার্কি পালণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করল। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যে বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দিলঃ
• প্রথমেই আদিব সাহেবের খামারের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খামারের মুল স্থাপনার চাইতে খামার এলাকায় প্রায় দেড়গুণ বেশী জায়গা নিতে হবে।
• খামারের জায়গাটি উচু হতে হবে যেন বণ্যা বা অতি বৃষ্টি হলে খামার এলাকায় পানি প্রবেশ না করে।
• খামারের জমির মাটি বেলে বা বেলে দোঁআশ হলে ভাল হয়। কেননা খামারের মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা বেশী হওয়া আবশ্যক।
• খামারের চারপাশে ড্রেইনেজ ব্যবস্থা ভাল রাখতে হবে যাতে পানি দ্রুত চলে যায়।
• খামারের জায়গাটি শহুরে বা মানুষের কোলাহলমুক্ত স্থানে হতে হবে। সেক্ষেত্রে লক্ষনীয় মুল সড়ক হতে একটু ভিতরে হলে ভাল হয়।
• মুল সড়ক থেকে ভিতরে হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন অবশ্যই ভাল হয়।
• বিদ্যুত ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
• আদিব সাহেবকে আরো লক্ষ্য রাখতে হবে সে যে এলাকায় খামার করবে সেখানে সস্তায় বা সহজে মুরগীর খাবার পাওয়ার সুব্যবস্থা আছে কিনা ?
• আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদিব সাহেবকে খেয়াল করতে হবে যেন তার উৎপাদিত টার্কিগুলো সে সহজে বাজারজাত করতে পারে এমন এলাকায় খামার স্থাপন করতে হবে।
আদিব সাহেব তার চাহিদামত উপযুক্ত জায়গা খুজে পেল। সামনে তার জন্য আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খামার পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোই রয়ে গেছে।
১। বাসস্থান ব্যবস্থাপনা
২। খাদ্য ব্যবস্থাপনা
৩। রোগ বালাই দমন ব্যবস্থাপনা

আরো পড়ুন>