Latest Products

টার্কির নাগরিকত্ব বিতর্কঃ বাংলাদেশ কি ইন্ডিয়া | Turkey citizenship debate. What is Bangladesh, India?

ইন্ডিয়ান টার্কি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠছে। মুষ্টিমেয় কিছু ক্রেতা ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি দিয়ে খামার শুরু করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেক পোস্ট আমরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে পড়েছি। বিষয়টি এখন ব্যক্তি পর্যায় থেকে সামষ্টিক পর্যায়ে উঠে এসেছে এবং এটি নিয়ে গ্রুপিং, দলাদলিরও শেষ নেই। এক পক্ষ সরাসরি ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কিকে খারাপ, অসুস্থ আর নিম্নমানের বলছে। আবার আরেক পক্ষ বলছে ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কির কোন সমস্যা নেই। আবার এক শ্রেণীর ভন্ড টার্কি প্রেমীরা এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে ক্রেতাদের আই ওয়াস করে ইন্ডিয়ানকে দেশী বলে ঠকাচ্ছে। দেশী-বিদেশী ব্রান্ডিং করে টার্কির দাম আরও বৃদ্ধি করছে।

দলাদলি আর নোংরা প্রতিযোগিতায় টালমাটালে সাধারণ টার্কি প্রেমীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগছে কি করবে ? ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি কিনবে না দেশে উৎপাদিত টার্কি কিনবে ? পক্ষ-বিপক্ষ যে যার মতামত দিচ্ছে। সবাই চায় তার অনুকূলে জনমত যাক। ভার্চুয়াল মাধ্যমের কল্যাণে আমরা মুহূর্তেই সব খবর পাচ্ছি।
দলাদলি আর গোড়ামীর আড়ালে মূল বিষয়টি সবাই এড়িয়ে যাচ্ছে। কেন ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কির বাচ্চা বাংলাদেশে আসছে সেটা একবারও কি আমরা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বিশ্লেষন করে দেখেছি ? অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী কোন পণ্যের বাজার চাহিদার সাথে যোগানের অপ্রতুলতা থাকলে পণ্যের মূল্য উর্ধগতীতে থাকে। আবার বাজারে কোন পণ্যের যোগান যখন বেশী থাকে তখন দাম থাকে নিম্নগামী। বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ টার্কির বাচ্চার চাহিদা রয়েছে তার তুলনায় স্থানীয় যোগান অতি নগন্ন। আর তাই স্বাভাবিক ভাবেই বাজারে স্থানীয় যোগানের পাশাপাশি বিকল্প যোগানের প্রয়োজন হচ্ছে।
কেন টার্কির এত চাহিদাঃ
পোল্ট্রির অন্যান্য পাখী বাদ দিয়ে কেন নতুন উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও সৌখিনরা পঙ্গপালের ন্যায় ছুটছে টার্কির দিকে? জনমণে প্রশ্নটা থেকেই যায়। আমার দৃষ্টিতে যা ধরা পরেছে নিচে তা উল্লেখ করলাম।
▪ পোল্ট্রি শিল্পে লাভের মুখ না দেখতে পারা, তুলনামুলকভাবে অন্যান্য পোল্ট্রির চেয়ে টার্কি পালণ সহজ হওয়া, টার্কির খাবার খরচ ও রোগ ব্যধি অন্যান্য পোল্ট্রির তুলনায় কম হওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে টার্কির মাংসের উচ্চ মূল্য ও সর্বোপরি মিডিয়ার কল্যাণে নতুন নতুন উদ্যোক্তার আকর্ষনের কেন্দ্র বিন্দুতে এখন টার্কি।
▪ এছাড়া দেখতে আকর্ষনীয় ও মনমুগ্ধকর হওয়ায় সৌখিনরাও ছুটছে এর পেছনে।
▪ টার্কির মাংস অতি সুস্বাদু হওয়ায় ভোজন রসিকরাও এর প্রেমে মশগুল।
উপর্যুক্ত কারনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টার্কির চাহিদা এখন তুঙ্গে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমার ছোট্ট শখের খামারটি প্রায় প্রতিদিনই সারাদেশ থেকে বেশ কিছু নতুন উদ্যোক্তা ও সৌখিনরা আসে ভিজিট করতে, তথ্য নিতে ও টার্কি সম্পর্কে জানতে। আমার ব্যক্তিগত জরীপ মতে প্রায় প্রতিদিন শুধুমাত্র আমার খামারে যারা ভিজিট করে তাদের প্রায় ৫০%-৬০% টার্কি প্রেমী একমাসের মধ্যেই টার্কি পালণ শুরু করছে। এখন সারাদেশের চিত্রটা যদি আমরা একটু ক্যালকুলেশন করার চেষ্টা করি তাহলেই আরো স্পষ্ট হবে ক্রমবর্ধমান টার্কি প্রেমীর % কতটা আশাব্যঞ্জক।
তাহলে এই ক্রমবর্ধমান টার্কি প্রেমীদের চাহিদার যোগান কিভাবে মেটানো সম্ভব?? উৎপাদন বৃদ্ধি করা ছাড়া আমরা যতই বলি ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি বাংলাদেশে আসা বন্ধ হোক তা আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া কিছুইনা।
বাংলাদেশে যদি টার্কির বাচ্চা উৎপাদন বৃদ্ধি পায় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চার দাম কমে যাবে। আর দাম কমে গেলে ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি অটোমেটিক আসা বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য অবশ্য টার্কির বর্তমান ০১টি ডিমের মূল্যে ০১টি বাচ্চা অর্থাৎ ২০০-৩০০/- টাকার মধ্যে বাচ্চা বিক্রয় করতে হবে।
তাহলে এটাই স্পষ্ট বুঝা যায় ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় বাজারে টার্কির বাচ্চার অপ্রতুলতাই টার্কির বাজার মূল্য উর্ধগতীর অন্যতম কারণ॥ এছাড়াও টার্কির সাথে জড়িতদের আন্ত:কোন্দল, দেশী-বিদেশী ব্রান্ডিং, অতি মুনাফার লোভও এর জন্য দায়ী।
বিঃ দ্রঃ আমার লেখালেখির কারনে অনেকেই আমাকে ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কির দালাল বলে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আমিও মনে প্রাণে চাই ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি বাংলাদেশে আসা বন্ধ হোক। কারন আমিও আপনাদের মতই খামারি। আর আপনাদের মত আমিও চাই টার্কির দাম দির্ঘদিন বেশী বেশী থাকুক।
ইন্ডিয়ান টার্কি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠছে। মুষ্টিমেয় কিছু ক্রেতা ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি দিয়ে খামার শুরু করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেক পোস্ট আমরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে পড়েছি। বিষয়টি এখন ব্যক্তি পর্যায় থেকে সামষ্টিক পর্যায়ে উঠে এসেছে এবং এটি নিয়ে গ্রুপিং, দলাদলিরও শেষ নেই। এক পক্ষ সরাসরি ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কিকে খারাপ, অসুস্থ আর নিম্নমানের বলছে। আবার আরেক পক্ষ বলছে ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কির কোন সমস্যা নেই। আবার এক শ্রেণীর ভন্ড টার্কি প্রেমীরা এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে ক্রেতাদের আই ওয়াস করে ইন্ডিয়ানকে দেশী বলে ঠকাচ্ছে। দেশী-বিদেশী ব্রান্ডিং করে টার্কির দাম আরও বৃদ্ধি করছে।

দলাদলি আর নোংরা প্রতিযোগিতায় টালমাটালে সাধারণ টার্কি প্রেমীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগছে কি করবে ? ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি কিনবে না দেশে উৎপাদিত টার্কি কিনবে ? পক্ষ-বিপক্ষ যে যার মতামত দিচ্ছে। সবাই চায় তার অনুকূলে জনমত যাক। ভার্চুয়াল মাধ্যমের কল্যাণে আমরা মুহূর্তেই সব খবর পাচ্ছি।
দলাদলি আর গোড়ামীর আড়ালে মূল বিষয়টি সবাই এড়িয়ে যাচ্ছে। কেন ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কির বাচ্চা বাংলাদেশে আসছে সেটা একবারও কি আমরা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বিশ্লেষন করে দেখেছি ? অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী কোন পণ্যের বাজার চাহিদার সাথে যোগানের অপ্রতুলতা থাকলে পণ্যের মূল্য উর্ধগতীতে থাকে। আবার বাজারে কোন পণ্যের যোগান যখন বেশী থাকে তখন দাম থাকে নিম্নগামী। বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ টার্কির বাচ্চার চাহিদা রয়েছে তার তুলনায় স্থানীয় যোগান অতি নগন্ন। আর তাই স্বাভাবিক ভাবেই বাজারে স্থানীয় যোগানের পাশাপাশি বিকল্প যোগানের প্রয়োজন হচ্ছে।
কেন টার্কির এত চাহিদাঃ
পোল্ট্রির অন্যান্য পাখী বাদ দিয়ে কেন নতুন উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও সৌখিনরা পঙ্গপালের ন্যায় ছুটছে টার্কির দিকে? জনমণে প্রশ্নটা থেকেই যায়। আমার দৃষ্টিতে যা ধরা পরেছে নিচে তা উল্লেখ করলাম।
▪ পোল্ট্রি শিল্পে লাভের মুখ না দেখতে পারা, তুলনামুলকভাবে অন্যান্য পোল্ট্রির চেয়ে টার্কি পালণ সহজ হওয়া, টার্কির খাবার খরচ ও রোগ ব্যধি অন্যান্য পোল্ট্রির তুলনায় কম হওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে টার্কির মাংসের উচ্চ মূল্য ও সর্বোপরি মিডিয়ার কল্যাণে নতুন নতুন উদ্যোক্তার আকর্ষনের কেন্দ্র বিন্দুতে এখন টার্কি।
▪ এছাড়া দেখতে আকর্ষনীয় ও মনমুগ্ধকর হওয়ায় সৌখিনরাও ছুটছে এর পেছনে।
▪ টার্কির মাংস অতি সুস্বাদু হওয়ায় ভোজন রসিকরাও এর প্রেমে মশগুল।
উপর্যুক্ত কারনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টার্কির চাহিদা এখন তুঙ্গে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমার ছোট্ট শখের খামারটি প্রায় প্রতিদিনই সারাদেশ থেকে বেশ কিছু নতুন উদ্যোক্তা ও সৌখিনরা আসে ভিজিট করতে, তথ্য নিতে ও টার্কি সম্পর্কে জানতে। আমার ব্যক্তিগত জরীপ মতে প্রায় প্রতিদিন শুধুমাত্র আমার খামারে যারা ভিজিট করে তাদের প্রায় ৫০%-৬০% টার্কি প্রেমী একমাসের মধ্যেই টার্কি পালণ শুরু করছে। এখন সারাদেশের চিত্রটা যদি আমরা একটু ক্যালকুলেশন করার চেষ্টা করি তাহলেই আরো স্পষ্ট হবে ক্রমবর্ধমান টার্কি প্রেমীর % কতটা আশাব্যঞ্জক।
তাহলে এই ক্রমবর্ধমান টার্কি প্রেমীদের চাহিদার যোগান কিভাবে মেটানো সম্ভব?? উৎপাদন বৃদ্ধি করা ছাড়া আমরা যতই বলি ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি বাংলাদেশে আসা বন্ধ হোক তা আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া কিছুইনা।
বাংলাদেশে যদি টার্কির বাচ্চা উৎপাদন বৃদ্ধি পায় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চার দাম কমে যাবে। আর দাম কমে গেলে ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি অটোমেটিক আসা বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য অবশ্য টার্কির বর্তমান ০১টি ডিমের মূল্যে ০১টি বাচ্চা অর্থাৎ ২০০-৩০০/- টাকার মধ্যে বাচ্চা বিক্রয় করতে হবে।
তাহলে এটাই স্পষ্ট বুঝা যায় ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় বাজারে টার্কির বাচ্চার অপ্রতুলতাই টার্কির বাজার মূল্য উর্ধগতীর অন্যতম কারণ॥ এছাড়াও টার্কির সাথে জড়িতদের আন্ত:কোন্দল, দেশী-বিদেশী ব্রান্ডিং, অতি মুনাফার লোভও এর জন্য দায়ী।
বিঃ দ্রঃ আমার লেখালেখির কারনে অনেকেই আমাকে ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কির দালাল বলে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আমিও মনে প্রাণে চাই ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত টার্কি বাংলাদেশে আসা বন্ধ হোক। কারন আমিও আপনাদের মতই খামারি। আর আপনাদের মত আমিও চাই টার্কির দাম দির্ঘদিন বেশী বেশী থাকুক।
আরো পড়ুন>

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টার্কি মুরগি চাষ | Turkey's chicken farming has become popular

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আমেরিকা ও ইউরোপের টার্কি মুরগি। ডিম সংগ্রহের এক মাসের মধ্যে বাচ্চা ফুটে ও তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় কেজি ওজন হচ্ছে এসব টার্কি মুরগির।

বর্তমানে মাংসের চাহিদা পূরণে গরু, মুরগি ও হাঁসের খামার দেখা মেলে অহরহ। কিন্তু মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য অধিক মাংসসমৃদ্ধ টার্কি জাতের মুরগি পালনের বিষয়টি এবার লক্ষ্য করা গেছে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে।

তবে
টার্কি এক সময়ের বন্যপাখি হলেও এখন এটি গৃহপালিত বড় আকারের একটি পাখি। তেমনি একজন টার্কি খামারি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের পাইকসা এলাকার বাছেদ মিয়া।

তিনি আগে মুরগি পালন করতেন, শখের বসে সিলেট থেকে দুটি মাত্র টার্কির বাচ্চা সংগ্রহ করেন। পরে বিষয়টি নিজের কাছেই কৌতূহল মনে হলে তা থেকে যে ডিম আসে তা দেশি মুরগি দিয়ে ফোটানো শুরু করেন। সেই থেকে টার্কির খামার করার ইচ্ছা পোষণ করেন বাছেদ।

তার কাছে থেকে টার্কির বাচ্চা নিয়ে সফল হয়েছেন আশপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার। তারা বাড়িতে ছোট আকারেই পালন করছেন এ টার্কির মুরগি। তাদের মধ্যে অন্যতম হুমায়ুন, বারেক, জামান, আলামিনসহ আরো অনেকে।

বাছেদ মিয়া জানান, টার্কি মুরগি পালন অর্থনৈতিকভাবে খরচ অনেক কম। বয়লার বা লেয়ার ও হাঁস পালনের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয়। এ ছাড়া টার্কি ৩০ সপ্তাহ থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে। একটি টার্কি বছরে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়। আবার ২৮ থেকে ৩০ দিনেই এই ডিম ফুটে বাচ্চার জন্ম হয়।

একটি টার্কি ৪ মাস বয়স হলেই গড় ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি। ৩ থেকে ৪ মাস বয়স হলেই একটি টার্কি মাংসের জন্য বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। দেশি হাঁস-মুরগির মতো সাধারণ নিয়মে পালন করলেও ৫ থেকে ৬ মাসে প্রতিটি টার্কি গড়ে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। খোলা বা আবদ্ধ উভয়ভাবেই টার্কি পালন করা যায়।

টার্কি মুরগি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে পারে। তবে টার্কি না দিয়ে ফোটানোই উত্তম। কেননা টার্কি ডিমে তা দিলে পুনরায় ডিম পারতে দেরি করে। এর বদলে দেশি মুরগি অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায়।

বাছেদ মিয়া আরো বলেন, টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হিসেবে ঢাকার নামিদামি হোটেলে সরবরাহ হয়ে থাকে সিংহভাগ।

ঘোড়াশালের টার্কি মুরগি খামারি কাসেম মিয়া জানান, বাছেদ মিয়ার কাছ থেকে মাত্র ১০টি টার্কির বাচ্চা নিয়ে ছোট আকারে পালন শুরু করেন তিনি। মাত্র এক বছর যাবত টার্কি পালন করেই তিনি লাভের মুখ দেখেন। তাই তার ইচ্ছা  নিজস্ব মুরগির ডিম দিয়েই খামারটি আরো বড় করার।

একই এলাকার বিষু দত্ত জানান, আগে হাঁসের খামার করেছিলেন। তাতে প্রচুর লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তারপর শুরু করেন কোয়েল পাখির খামার। ব্যবসা কিছুটা জমতে শুরু করে। কোয়েল পাখি পালনের পাশাপাশি তিনি ২০/২৫ দিন পূর্বে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে প্রায় দেড় শতাধিক টার্কি মুরগি সংগ্রহ করেন। শুরু হয় তার টার্কি পালনের যাত্রা। তিনি এর পাশাপাশি খোলা অবস্থায় অর্ধশতাধিক দেশি জাতের মুরগিও পালন শুরু করেন।

পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহা জামান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস বেশ জনপ্রিয়। পাখির মাংসের মধ্যে হাঁস, মুরগি, কোয়েল এরপর টার্কির অবস্থান। টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে বেশ অবদান রাখছে। এ ছাড়া এর মাংসে প্রোটিন বেশি, চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখির মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি খুব জনপ্রিয়।

তবে রোগ বালাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো রোগ দেখা না দিলেও পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দিতে পারে। পরিবেশ ও খামার অব্যবস্থাপনার কারণে এসব রোগ সংক্রমণ হতে পারে। তবে নিয়মিত টিকা দেওয়া হলে এ সব রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আমেরিকা ও ইউরোপের টার্কি মুরগি। ডিম সংগ্রহের এক মাসের মধ্যে বাচ্চা ফুটে ও তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় কেজি ওজন হচ্ছে এসব টার্কি মুরগির।

বর্তমানে মাংসের চাহিদা পূরণে গরু, মুরগি ও হাঁসের খামার দেখা মেলে অহরহ। কিন্তু মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য অধিক মাংসসমৃদ্ধ টার্কি জাতের মুরগি পালনের বিষয়টি এবার লক্ষ্য করা গেছে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে।

তবে
টার্কি এক সময়ের বন্যপাখি হলেও এখন এটি গৃহপালিত বড় আকারের একটি পাখি। তেমনি একজন টার্কি খামারি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের পাইকসা এলাকার বাছেদ মিয়া।

তিনি আগে মুরগি পালন করতেন, শখের বসে সিলেট থেকে দুটি মাত্র টার্কির বাচ্চা সংগ্রহ করেন। পরে বিষয়টি নিজের কাছেই কৌতূহল মনে হলে তা থেকে যে ডিম আসে তা দেশি মুরগি দিয়ে ফোটানো শুরু করেন। সেই থেকে টার্কির খামার করার ইচ্ছা পোষণ করেন বাছেদ।

তার কাছে থেকে টার্কির বাচ্চা নিয়ে সফল হয়েছেন আশপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার। তারা বাড়িতে ছোট আকারেই পালন করছেন এ টার্কির মুরগি। তাদের মধ্যে অন্যতম হুমায়ুন, বারেক, জামান, আলামিনসহ আরো অনেকে।

বাছেদ মিয়া জানান, টার্কি মুরগি পালন অর্থনৈতিকভাবে খরচ অনেক কম। বয়লার বা লেয়ার ও হাঁস পালনের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয়। এ ছাড়া টার্কি ৩০ সপ্তাহ থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে। একটি টার্কি বছরে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়। আবার ২৮ থেকে ৩০ দিনেই এই ডিম ফুটে বাচ্চার জন্ম হয়।

একটি টার্কি ৪ মাস বয়স হলেই গড় ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি। ৩ থেকে ৪ মাস বয়স হলেই একটি টার্কি মাংসের জন্য বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। দেশি হাঁস-মুরগির মতো সাধারণ নিয়মে পালন করলেও ৫ থেকে ৬ মাসে প্রতিটি টার্কি গড়ে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। খোলা বা আবদ্ধ উভয়ভাবেই টার্কি পালন করা যায়।

টার্কি মুরগি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে পারে। তবে টার্কি না দিয়ে ফোটানোই উত্তম। কেননা টার্কি ডিমে তা দিলে পুনরায় ডিম পারতে দেরি করে। এর বদলে দেশি মুরগি অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায়।

বাছেদ মিয়া আরো বলেন, টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হিসেবে ঢাকার নামিদামি হোটেলে সরবরাহ হয়ে থাকে সিংহভাগ।

ঘোড়াশালের টার্কি মুরগি খামারি কাসেম মিয়া জানান, বাছেদ মিয়ার কাছ থেকে মাত্র ১০টি টার্কির বাচ্চা নিয়ে ছোট আকারে পালন শুরু করেন তিনি। মাত্র এক বছর যাবত টার্কি পালন করেই তিনি লাভের মুখ দেখেন। তাই তার ইচ্ছা  নিজস্ব মুরগির ডিম দিয়েই খামারটি আরো বড় করার।

একই এলাকার বিষু দত্ত জানান, আগে হাঁসের খামার করেছিলেন। তাতে প্রচুর লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তারপর শুরু করেন কোয়েল পাখির খামার। ব্যবসা কিছুটা জমতে শুরু করে। কোয়েল পাখি পালনের পাশাপাশি তিনি ২০/২৫ দিন পূর্বে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে প্রায় দেড় শতাধিক টার্কি মুরগি সংগ্রহ করেন। শুরু হয় তার টার্কি পালনের যাত্রা। তিনি এর পাশাপাশি খোলা অবস্থায় অর্ধশতাধিক দেশি জাতের মুরগিও পালন শুরু করেন।

পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহা জামান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস বেশ জনপ্রিয়। পাখির মাংসের মধ্যে হাঁস, মুরগি, কোয়েল এরপর টার্কির অবস্থান। টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে বেশ অবদান রাখছে। এ ছাড়া এর মাংসে প্রোটিন বেশি, চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখির মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি খুব জনপ্রিয়।

তবে রোগ বালাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো রোগ দেখা না দিলেও পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দিতে পারে। পরিবেশ ও খামার অব্যবস্থাপনার কারণে এসব রোগ সংক্রমণ হতে পারে। তবে নিয়মিত টিকা দেওয়া হলে এ সব রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।
আরো পড়ুন>

টার্কির খাদ্য মাটি ছাড়া হাইড্রপোনিক ঘাস চাষ পদ্ধতি | Hydroponic grass farming system For turkey food without soil

জমির স্বল্পতায় টার্কির খাদ্য সংকট ইত্যাদি থেকে মুক্ত হতে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি,  টার্কির খাদ্যের জন্য খুব সহজ এই পদ্ধতি ঘাস উৎপাদন এর বিকল্প পদ্ধতি, যা বর্তমানে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে ।
হাইড্রোপনিক পদ্ধতি গ্রিন ফোডার... পশু খাদ্যের এক অপূর্ব সমাধান।
যারা টার্কি ডেইরি, গরু মোটাতাজা করন, ছাগল ও গড়াল পালন করছে বা করতে চাই তারা কাঁচা ঘাসের সংকটে পরেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার জোগাড় করতে কি পরিমান ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যে সেটা করেছে সেই তার বিড়ম্বনার কথা বলতে পারবে।
এই সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হলো "হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার"। খুব সহজে, সল্প জায়গায়, অল্প খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে মান সম্মত পশু টার্কি খাদ্য আমরা এর মাধ্যমে পেতে পারি। এর পুষ্টি গুন সাধারণ উফশী ঘাসের চেয়ে বেশি।

উপকরণ:
১. ২ কেজি পরিমান গম বা ভুট্টা (চারা গজাবে এমন)।
২. কিছু পানি।
৩. ট্রে বা ট্রের মতো পাত্র (৩'×২'×৩")।
৪. ঠান্ডা ও ছায়া যুক্ত পরিবেশ।
৫. একটি নিংড়ানো পুরান তোয়ালে বা চটের বস্তা।
৬. বালতি বা গামলা।
প্রস্তুত প্রণালী:
যে দিন করতে চান সে দিন, সকালে প্রথমে ভুট্টা বা গম ভাল করে ধুয়ে ৬-৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখবেন। বিকেলে পানি ছেকে ট্রেতে সাজিয়ে তার উপরে নিংড়ানো তোয়ালে বা চট দিয়ে ঢেকে ঠান্ডা ছায়া যুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে। এরূপ রাখলে ১০-১৫ ঘন্টার মধ্যে ভুট্টা বা গম অঙ্কুর দেবে। অঙ্কুর দেয়ার পর অঙ্কুর ১-১.৫ ইঞ্চি হলে তার পর চট সরিয়ে রাখতে হবে। এবং অঙ্কুর দেয়ার পর থেকে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ৩-৪ ঘন্টা পর পর পানি স্প্রে বা ছিটিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি ট্রেতে জমে না থাকে। এমন করতে করতে ৭-৯ দিনের মধ্যে ৬-৯ ইঞ্চি হলে পশু কে এর কান্ড সহ খাওয়ানো যায়।
১ কেজি পরিমান ভুট্টা বা গমে ৭-১০ কেজি পরিমাণ গ্রিন ফোডার পাওয়া যায়।
হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডারের উপকারীতা:
১. এতে প্রোটিনের পরিমান ৩১.৯৯% আর সাধারণ ঘাসে প্রোটিন থাকে ১১.৫%।
২. এনার্জি ৪৭২৭কি:ক্যা:/KG আর সাধারণ ঘাসে ২৬০০কি:ক্যা:/KG।
৩. তাই সাধারণ ঘাস দিনে ৩ বার লাগে আর এটা ২ বার দিলে হবে।
৪. ২৪০ কেজি পরিমাণ ঘাস ফলাতে জমি লাগে ২১৭৮ বর্গফুট আর সমপরিমাণ গ্রিন ফোডার ফলাতে ২২৯ বর্গফুট জমি।
৫. সাধারণত ৮০ লিঃ পানি খরচ করে যে পরিমাণ ঘাস পাওয়া যায়। সে পরিমান গ্রিন ফোডার ফলাতে মাত্র ৩ লিঃ পানি লাগে।
৬. ৭-৯ দিনে এই ফোডার যে পরিমাণ বাড়ে, সে পরিমান সাধারণ ঘাস বড় হতে লাগে ৩৭-৪০ দিন।
৭. গ্রিন ফোডার নিরাপদ, ফুড পয়জনিংয়ের সম্ভাবনা নাই। দূষণ মুক্ত।
৮. এটা সহজে পশুকে পরিবেশন করা যায়। কাটা কাটির দরকার হয় না।
৯. এটা পশুর স্বাস্থ্য ভাল করে এবং দ্রুত প্রজনন ক্ষম করে কারন এতে অনেক ভিটামিন উপাদান আছে।
১০. ১ কেজি ফডারের উৎপাদন খরচ ২.৫-৪ টাকা।
১১. এর মাধ্যমে খামারের শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো যায়।
১২. সারা বছর এটা উৎপাদন করা যায়।
জমির স্বল্পতায় টার্কির খাদ্য সংকট ইত্যাদি থেকে মুক্ত হতে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি,  টার্কির খাদ্যের জন্য খুব সহজ এই পদ্ধতি ঘাস উৎপাদন এর বিকল্প পদ্ধতি, যা বর্তমানে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে ।
হাইড্রোপনিক পদ্ধতি গ্রিন ফোডার... পশু খাদ্যের এক অপূর্ব সমাধান।
যারা টার্কি ডেইরি, গরু মোটাতাজা করন, ছাগল ও গড়াল পালন করছে বা করতে চাই তারা কাঁচা ঘাসের সংকটে পরেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার জোগাড় করতে কি পরিমান ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যে সেটা করেছে সেই তার বিড়ম্বনার কথা বলতে পারবে।
এই সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হলো "হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার"। খুব সহজে, সল্প জায়গায়, অল্প খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে মান সম্মত পশু টার্কি খাদ্য আমরা এর মাধ্যমে পেতে পারি। এর পুষ্টি গুন সাধারণ উফশী ঘাসের চেয়ে বেশি।

উপকরণ:
১. ২ কেজি পরিমান গম বা ভুট্টা (চারা গজাবে এমন)।
২. কিছু পানি।
৩. ট্রে বা ট্রের মতো পাত্র (৩'×২'×৩")।
৪. ঠান্ডা ও ছায়া যুক্ত পরিবেশ।
৫. একটি নিংড়ানো পুরান তোয়ালে বা চটের বস্তা।
৬. বালতি বা গামলা।
প্রস্তুত প্রণালী:
যে দিন করতে চান সে দিন, সকালে প্রথমে ভুট্টা বা গম ভাল করে ধুয়ে ৬-৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখবেন। বিকেলে পানি ছেকে ট্রেতে সাজিয়ে তার উপরে নিংড়ানো তোয়ালে বা চট দিয়ে ঢেকে ঠান্ডা ছায়া যুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে। এরূপ রাখলে ১০-১৫ ঘন্টার মধ্যে ভুট্টা বা গম অঙ্কুর দেবে। অঙ্কুর দেয়ার পর অঙ্কুর ১-১.৫ ইঞ্চি হলে তার পর চট সরিয়ে রাখতে হবে। এবং অঙ্কুর দেয়ার পর থেকে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ৩-৪ ঘন্টা পর পর পানি স্প্রে বা ছিটিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি ট্রেতে জমে না থাকে। এমন করতে করতে ৭-৯ দিনের মধ্যে ৬-৯ ইঞ্চি হলে পশু কে এর কান্ড সহ খাওয়ানো যায়।
১ কেজি পরিমান ভুট্টা বা গমে ৭-১০ কেজি পরিমাণ গ্রিন ফোডার পাওয়া যায়।
হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডারের উপকারীতা:
১. এতে প্রোটিনের পরিমান ৩১.৯৯% আর সাধারণ ঘাসে প্রোটিন থাকে ১১.৫%।
২. এনার্জি ৪৭২৭কি:ক্যা:/KG আর সাধারণ ঘাসে ২৬০০কি:ক্যা:/KG।
৩. তাই সাধারণ ঘাস দিনে ৩ বার লাগে আর এটা ২ বার দিলে হবে।
৪. ২৪০ কেজি পরিমাণ ঘাস ফলাতে জমি লাগে ২১৭৮ বর্গফুট আর সমপরিমাণ গ্রিন ফোডার ফলাতে ২২৯ বর্গফুট জমি।
৫. সাধারণত ৮০ লিঃ পানি খরচ করে যে পরিমাণ ঘাস পাওয়া যায়। সে পরিমান গ্রিন ফোডার ফলাতে মাত্র ৩ লিঃ পানি লাগে।
৬. ৭-৯ দিনে এই ফোডার যে পরিমাণ বাড়ে, সে পরিমান সাধারণ ঘাস বড় হতে লাগে ৩৭-৪০ দিন।
৭. গ্রিন ফোডার নিরাপদ, ফুড পয়জনিংয়ের সম্ভাবনা নাই। দূষণ মুক্ত।
৮. এটা সহজে পশুকে পরিবেশন করা যায়। কাটা কাটির দরকার হয় না।
৯. এটা পশুর স্বাস্থ্য ভাল করে এবং দ্রুত প্রজনন ক্ষম করে কারন এতে অনেক ভিটামিন উপাদান আছে।
১০. ১ কেজি ফডারের উৎপাদন খরচ ২.৫-৪ টাকা।
১১. এর মাধ্যমে খামারের শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো যায়।
১২. সারা বছর এটা উৎপাদন করা যায়।
আরো পড়ুন>

টার্কি পালন নতুন সম্ভাবনার হাতছানিঃ (টার্কির সংক্রামক রোগ ও প্রতিকার) Turkey Hen infectious diseases



টার্কির ফাউল পক্স একটি উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ যা পক্স ভাইরাসের সংক্রমনে হয়ে থাকে।সাধারণত টার্কির শরীরের পালক বিহীন জায়গায় সাধারণত শক্ত গোটা উঠে এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
পক্স সচরাচর দুই রকমের হয়:-
১। শুকনা পক্স
২। ভিজা পক্স।
সংক্রমনের কারণ এবং স্থানান্থরঃ
• শুষ্ক পক্স একটি ভাইরাস জনিত রোগ যা টার্কির পালকবিহীন অংশে হয়,সাধারণত ঝুটি এং চোখের পাতায় এটি হয়।
• ভেজা পক্স টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে হয়, এটি প্রাণঘাতী।
• মুরগীতে পক্সের সংক্রমণ সাধারণত পোকার কামড়ের মাধ্যমে হয় (যেমন:- মশা)।
• আক্রান্ত টার্কির পালক, পালকের অংশবিশেষ, চামড়ার অংশ, লালা এবং রক্তের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
• পক্স উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ এবং আস্তে আস্তে ফ্লকের মধ্যে ছড়াতে থাকে। এটি সুপ্তাবস্থায় ফ্লকের মধ্যে সপ্তাহ, মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
• সংবেদনশীল মুরগী সাধারনত নাক এবং মুখ দিয়ে অক্রান্ত হয়।
লক্ষনঃ
• শুষ্ক পক্সে প্রাথমিক অবস্থায় ঝুটি এং চোখের পাতায় ছাই রংয়ের হালকা উচু ফোস্কার মত গুটি উঠে । এই ফোস্কাগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, বড় হয়ে হলুদ রং ধারণ করে এবং চুড়ান্ত অবস্থায় কালো আচিলের মত হয়ে যায়।
• ভেজা পক্সে টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে লক্ষণ পাওয়া যায়।
• মুরগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।
• লেয়ার টার্কির প্রোডাকশন কমে যায়।
• টার্কির ওজন কমে যায়।
• মুরগী খাদ্য এবং পানি খাওয়া কমিয়ে দেয়।
প্রতিরোধঃ
১. আক্রান্ত ফ্লক থেকে যেন পক্স না ছড়ায় তার জন্য সঠিকভাবে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. নতুন ফ্লককে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করতে হবে।
৩. মশক নিধন করতে হবে।
৪. দশনার্থী প্রবেশ সীমাবদ্ধ করতে হবে।
৫. নিয়মিত রেজিস্ট্যার্ড ভেটেরিনারিয়ান এর পরামর্শ মোতাবেক ভ্যাকসিনেশন করতে হবে।
চিকিৎসাঃ
ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এর কোন সঠিক চিকিৎসা নেই, তবে পরবর্তী ব্যাকটেরয়িার সংক্রমণ রোধে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো যেতে পারে।
খাদ্যের সাথে কালোজিরা খাওয়ানো যেতে পারে।
ব্যাচের মধ্যে পক্স দেখা গেলে আক্রান্ত মুরগী সরিয়ে সুস্থগুলোকে ভ্যাকসিনেশন করাতে হবে।
ফাউল পক্স ভ্যাকসিন (F P V)
এই ভ্যাকসিন টার্কির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এটি ২০০ মাত্রায় কঠিন অবস্থায় বায়ুশুন্য বোতলে সংরক্ষিত থাকে। এটার রং গোলাপি, ১০ মি: লি: বিশুদ্ধ পানিতে পুরাটা মিশিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করতে হয়। তৈরির পরে কবুতর ও মুরগী যাদের বয়স ২৮-৩২ দিন সেগুলো কে পাখনার নিচে, যেখানে কোন পালক নেই, সেখানে ৪-৫ টি খোটা দিয়ে এই ভ্যাকসিন লাগিয়ে দিতে হবে, খোচা দেওয়া জায়গা যদি ৪-৫ দিনের মধ্যে ফুলে উঠে তাহলে বুঝতে হবে ভ্যাকসিন টি কাজ করছে,আর যদি ফুলে না ওঠে বুঝতে হবে কাজ করেনি। পুনরায় আবার আগের নিয়মে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এই ভ্যাকসিন প্রতি বছর ১ বার দিতে হবে।
ফাউল কলেরাঃ
ফাউল কলেরা মুরগির একটি ছোয়াচে রোগ । এটি এ্কটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ।এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০-৭৫% পযন্ত হতে পারে। এতে খামার বেশ আথিক ক্ষতি সম্মুখীন হয়।
ফাউল কলেরা কেন হয়?
ফাউল কলেরা Pasteurella matocida নামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে ।
ফাউল কলেরা সম্পকে কিছু তথ্যঃ
১। ২-৪ মাস বয়সের মুরগিতে এই রোগ দেখা যায়।
২। অতিরিক্ত গরম পড়লে মুরগি এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
৩। এছাড়া পরিবেশে বেশি পরিমান আদ্রতা থাকলে ও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
ফাউল কলেরা রোগের লক্ষণঃ
১। জ্বর থাকবে।
২। খাদ্য গ্রহনে অনিহা থাকবে।
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট হবে।
৪। ডিম উৎপাদন কমে যাবে।
৫। মাথার ঝুটি ও গলার ফুল ফুলে যাবে।
৬। মুরগী দুবল হয়ে যাবে।
৭। সভুজাভ,বা হলুদাভ ডায়রিয়া হতে পারে,
৮। মুখ দিয়ে লালা পড়বে
৯। মাথা নিচের দিকে দিয়ে ঝিমাবে।
চিকিৎসাঃ
১। যেহেতু ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ তাই যে কোন একটি ভালো এন্টিবায়োটিক দিতে হবে, সে হিসাবে , ciprofloxacin, gentamycin, doxacycline ৩-৫ দিন দেয়া যেতে পারে।
২। এছাড়া যেহেতু পায়খানার সমস্যা আছে তাই একটি সালফার গ্রুপের ঔষধ দিতে হবে।এ ক্ষেত্রে Ati vet suspension/ Sulphatrim powder/S-trim vet ৩-৫ দিন এন্টিবায়োটিক এর সাথে দিতে হবে,
৩। গরম বেশি পড়লে ভিটামিন সি / লেবুর রস দেয়া যেতে পারে।
ফাউল কলেরা কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
১। ফাউল কলেরা ভ্যাক্সিন দিতে হবে।
২। খামারে জৈব নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
৩। খামারে ইদুরের উপদ্রুপ সম্পুনরুপে বন্ধ করতে হবে।
৪। সব সময় একজন ভাল রেজিস্টাড ভেটরিনারিয়ানের পরামশ নিতে হবে।
সালমোনেলোসিস
সালমোনেলোসিস পোল্ট্রির ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি প্রাণঘাতী রোগ।এটি পুলোরাম এবং ফাউল টাইফয়েড নামে পরিচিত।পুলোরাম রোগ বাচ্চা মুরগিতে এবং ফাউল টাইফয়েড পরিণত বয়সে দেখা দেয়।সালমোনেলোসিস পৃথিবীব্যাপী একটি সমস্যা এবং এটি পোল্ট্রিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।


টার্কির ফাউল পক্স একটি উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ যা পক্স ভাইরাসের সংক্রমনে হয়ে থাকে।সাধারণত টার্কির শরীরের পালক বিহীন জায়গায় সাধারণত শক্ত গোটা উঠে এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
পক্স সচরাচর দুই রকমের হয়:-
১। শুকনা পক্স
২। ভিজা পক্স।
সংক্রমনের কারণ এবং স্থানান্থরঃ
• শুষ্ক পক্স একটি ভাইরাস জনিত রোগ যা টার্কির পালকবিহীন অংশে হয়,সাধারণত ঝুটি এং চোখের পাতায় এটি হয়।
• ভেজা পক্স টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে হয়, এটি প্রাণঘাতী।
• মুরগীতে পক্সের সংক্রমণ সাধারণত পোকার কামড়ের মাধ্যমে হয় (যেমন:- মশা)।
• আক্রান্ত টার্কির পালক, পালকের অংশবিশেষ, চামড়ার অংশ, লালা এবং রক্তের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
• পক্স উচ্চ মাত্রার সংক্রামক রোগ এবং আস্তে আস্তে ফ্লকের মধ্যে ছড়াতে থাকে। এটি সুপ্তাবস্থায় ফ্লকের মধ্যে সপ্তাহ, মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
• সংবেদনশীল মুরগী সাধারনত নাক এবং মুখ দিয়ে অক্রান্ত হয়।
লক্ষনঃ
• শুষ্ক পক্সে প্রাথমিক অবস্থায় ঝুটি এং চোখের পাতায় ছাই রংয়ের হালকা উচু ফোস্কার মত গুটি উঠে । এই ফোস্কাগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, বড় হয়ে হলুদ রং ধারণ করে এবং চুড়ান্ত অবস্থায় কালো আচিলের মত হয়ে যায়।
• ভেজা পক্সে টার্কির শ্বাসতন্ত্র, চোখ, মুখ এবং মুখ:গহ্বরে লক্ষণ পাওয়া যায়।
• মুরগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।
• লেয়ার টার্কির প্রোডাকশন কমে যায়।
• টার্কির ওজন কমে যায়।
• মুরগী খাদ্য এবং পানি খাওয়া কমিয়ে দেয়।
প্রতিরোধঃ
১. আক্রান্ত ফ্লক থেকে যেন পক্স না ছড়ায় তার জন্য সঠিকভাবে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. নতুন ফ্লককে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করতে হবে।
৩. মশক নিধন করতে হবে।
৪. দশনার্থী প্রবেশ সীমাবদ্ধ করতে হবে।
৫. নিয়মিত রেজিস্ট্যার্ড ভেটেরিনারিয়ান এর পরামর্শ মোতাবেক ভ্যাকসিনেশন করতে হবে।
চিকিৎসাঃ
ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এর কোন সঠিক চিকিৎসা নেই, তবে পরবর্তী ব্যাকটেরয়িার সংক্রমণ রোধে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো যেতে পারে।
খাদ্যের সাথে কালোজিরা খাওয়ানো যেতে পারে।
ব্যাচের মধ্যে পক্স দেখা গেলে আক্রান্ত মুরগী সরিয়ে সুস্থগুলোকে ভ্যাকসিনেশন করাতে হবে।
ফাউল পক্স ভ্যাকসিন (F P V)
এই ভ্যাকসিন টার্কির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এটি ২০০ মাত্রায় কঠিন অবস্থায় বায়ুশুন্য বোতলে সংরক্ষিত থাকে। এটার রং গোলাপি, ১০ মি: লি: বিশুদ্ধ পানিতে পুরাটা মিশিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করতে হয়। তৈরির পরে কবুতর ও মুরগী যাদের বয়স ২৮-৩২ দিন সেগুলো কে পাখনার নিচে, যেখানে কোন পালক নেই, সেখানে ৪-৫ টি খোটা দিয়ে এই ভ্যাকসিন লাগিয়ে দিতে হবে, খোচা দেওয়া জায়গা যদি ৪-৫ দিনের মধ্যে ফুলে উঠে তাহলে বুঝতে হবে ভ্যাকসিন টি কাজ করছে,আর যদি ফুলে না ওঠে বুঝতে হবে কাজ করেনি। পুনরায় আবার আগের নিয়মে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এই ভ্যাকসিন প্রতি বছর ১ বার দিতে হবে।
ফাউল কলেরাঃ
ফাউল কলেরা মুরগির একটি ছোয়াচে রোগ । এটি এ্কটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ।এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০-৭৫% পযন্ত হতে পারে। এতে খামার বেশ আথিক ক্ষতি সম্মুখীন হয়।
ফাউল কলেরা কেন হয়?
ফাউল কলেরা Pasteurella matocida নামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে ।
ফাউল কলেরা সম্পকে কিছু তথ্যঃ
১। ২-৪ মাস বয়সের মুরগিতে এই রোগ দেখা যায়।
২। অতিরিক্ত গরম পড়লে মুরগি এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
৩। এছাড়া পরিবেশে বেশি পরিমান আদ্রতা থাকলে ও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
ফাউল কলেরা রোগের লক্ষণঃ
১। জ্বর থাকবে।
২। খাদ্য গ্রহনে অনিহা থাকবে।
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট হবে।
৪। ডিম উৎপাদন কমে যাবে।
৫। মাথার ঝুটি ও গলার ফুল ফুলে যাবে।
৬। মুরগী দুবল হয়ে যাবে।
৭। সভুজাভ,বা হলুদাভ ডায়রিয়া হতে পারে,
৮। মুখ দিয়ে লালা পড়বে
৯। মাথা নিচের দিকে দিয়ে ঝিমাবে।
চিকিৎসাঃ
১। যেহেতু ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ তাই যে কোন একটি ভালো এন্টিবায়োটিক দিতে হবে, সে হিসাবে , ciprofloxacin, gentamycin, doxacycline ৩-৫ দিন দেয়া যেতে পারে।
২। এছাড়া যেহেতু পায়খানার সমস্যা আছে তাই একটি সালফার গ্রুপের ঔষধ দিতে হবে।এ ক্ষেত্রে Ati vet suspension/ Sulphatrim powder/S-trim vet ৩-৫ দিন এন্টিবায়োটিক এর সাথে দিতে হবে,
৩। গরম বেশি পড়লে ভিটামিন সি / লেবুর রস দেয়া যেতে পারে।
ফাউল কলেরা কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
১। ফাউল কলেরা ভ্যাক্সিন দিতে হবে।
২। খামারে জৈব নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
৩। খামারে ইদুরের উপদ্রুপ সম্পুনরুপে বন্ধ করতে হবে।
৪। সব সময় একজন ভাল রেজিস্টাড ভেটরিনারিয়ানের পরামশ নিতে হবে।
সালমোনেলোসিস
সালমোনেলোসিস পোল্ট্রির ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি প্রাণঘাতী রোগ।এটি পুলোরাম এবং ফাউল টাইফয়েড নামে পরিচিত।পুলোরাম রোগ বাচ্চা মুরগিতে এবং ফাউল টাইফয়েড পরিণত বয়সে দেখা দেয়।সালমোনেলোসিস পৃথিবীব্যাপী একটি সমস্যা এবং এটি পোল্ট্রিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে।
আরো পড়ুন>

টার্কি বাচ্চা ব্রুডিং কি? টার্কির বাচ্চা ব্রুডিং করার উপায় । The way to brush turkey baby


কৃত্রিম বা প্রাকৃতিকভাবে টার্কি বাচ্চার তাপায়ন,বাতাস চলাচল, খাবার,পানি এবং সর্বোপরি ভাল আরামদায়ক অবস্থার নামই ব্রুডিং।
টার্কির বাচ্চা ব্রুডিং কেন করা হয়?
সাধারণত বাচ্চার জীবনের প্রথমদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর মত অবস্থা থাকেনা। তাই কৃত্রিম ব্রুডিং এর প্রয়োজন হয়।
টার্কির বাচ্চা ব্রুডিং এর উদ্দেশ্য
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা
সকল টিকা প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়া
শারীরিক গঠন সঠিকভাবে হওয়া
সকল মুরগি ওজনের দিক দিয়ে সমতায় আনা
জীনগত বৈশিষ্টের পূর্ণ বিকাশ ঘটানো
বিভিন্ন পীড়ন থেকে সুরক্ষা করা
প্রতিকুল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা
ব্রুডিং ঘর প্রস্তুতি
ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা
লিটার হিসেবে ব্যাবহারের তুষ জীবাণুমুক্ত করা ও শুকানোর পর ৩ ইঞ্চি পুরু করে বিছানো
বিছানো তুষের উপর ছালার চট দিয়ে ঢেকে দেয়া
চিক গার্ডের উচ্চতা গরমকালে ১৮ ইঞ্চি ও শীতকালে ২৮ ইঞ্চি হওয়া
প্রথম দিন প্রতিটি বাচ্চাকে ০.১৩ বর্গফুট জায়গা দেয়া
বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম গ্লুকজ/চিনি ও ১ গ্রাম ভিটামিন সি মিশ্রিত পানি দিয়ে রাখতে হবে

কৃত্রিম বা প্রাকৃতিকভাবে টার্কি বাচ্চার তাপায়ন,বাতাস চলাচল, খাবার,পানি এবং সর্বোপরি ভাল আরামদায়ক অবস্থার নামই ব্রুডিং।
টার্কির বাচ্চা ব্রুডিং কেন করা হয়?
সাধারণত বাচ্চার জীবনের প্রথমদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর মত অবস্থা থাকেনা। তাই কৃত্রিম ব্রুডিং এর প্রয়োজন হয়।
টার্কির বাচ্চা ব্রুডিং এর উদ্দেশ্য
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা
সকল টিকা প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়া
শারীরিক গঠন সঠিকভাবে হওয়া
সকল মুরগি ওজনের দিক দিয়ে সমতায় আনা
জীনগত বৈশিষ্টের পূর্ণ বিকাশ ঘটানো
বিভিন্ন পীড়ন থেকে সুরক্ষা করা
প্রতিকুল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা
ব্রুডিং ঘর প্রস্তুতি
ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা
লিটার হিসেবে ব্যাবহারের তুষ জীবাণুমুক্ত করা ও শুকানোর পর ৩ ইঞ্চি পুরু করে বিছানো
বিছানো তুষের উপর ছালার চট দিয়ে ঢেকে দেয়া
চিক গার্ডের উচ্চতা গরমকালে ১৮ ইঞ্চি ও শীতকালে ২৮ ইঞ্চি হওয়া
প্রথম দিন প্রতিটি বাচ্চাকে ০.১৩ বর্গফুট জায়গা দেয়া
বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার পূর্বে প্রতি লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম গ্লুকজ/চিনি ও ১ গ্রাম ভিটামিন সি মিশ্রিত পানি দিয়ে রাখতে হবে
আরো পড়ুন>

যে কারনে টার্কির মাংস মানুষ কিনে খাবে? Why turkey meat people buy and eat


টার্কি শুধু বড় লোকের খাবার নয় এটা পুরো
মানবজাতির জন্যই একটি উপকারী খাবার
হতে পারে দেখে নেই টার্কির মাংসের সেই
গুণাবলী
low GI Food ( গ্লাসিক ইনডেক্স ফুড )
# ডায়বেটিকের ঝুঁকি কমায়।
# হার্টের ঝুঁকি কমায়।
# ওজন কমাতে সাহায্য করে।
# আহত ব্যক্তির ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
ভিটামিন B-6, B-3 অথবা niacin এর অন্যতম
উৎস
# রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে।
#রক্তে ইনসুলিন লেবেল নিয়ন্ত্রন রাখে।
# শরীরের চামড়ার সুরক্ষায় কাজ করে।
# মানুষের ব্রেইন সিস্টেম কে নিয়ন্ত্রন করে।
# জয়েন্টের ব্যথা ও বাত ব্যথার জন্য
কার্যকরী।
# পুরুষত্যহীনতার জন্য মহা দাওয়াই বলতে
পারেন।
# মারাত্ত্যক পুষ্টি হীনতায় কাজে দেয়
# B -6 বিপাক অথবা মেটাবলিসম অর্থাৎ
জীবদেহের সমস্ত ধরনের রাসায়নিক
বিক্রিয়াকে সঠিক ভাবে কাজ করতে
সাহায্য করে।
# লিভার কে সুস্থ রাখতে সাহাজ্য করে।
# চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকরী B-6.
#শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে টনিক হিসেবে
কাজ করে B-6।
অ্যামিনো এসিড ট্রিপ্টোফ্যান
# প্রাকিতিক ভাবে বড় হওয়া টার্কির
মাংসের এই এসিড পাওয়া যায় যা মানব
দেহের ঘুমের জন্য খুবই উপকারী।
আরও জেনে নেই
# প্রোটিনের অন্যতম উৎস।
# চামড়া ছাড়া টার্কির মাংসে চর্বির
পরিমান অনেক কম।
# খনিজ পদার্থ আয়রন,জিংক,পটাশিয়াম ও
পসপরাসের উৎস।
তথ্য গুলো ইন্টারনেট থেকে নেওয়া তথ্য♥♥

টার্কি শুধু বড় লোকের খাবার নয় এটা পুরো
মানবজাতির জন্যই একটি উপকারী খাবার
হতে পারে দেখে নেই টার্কির মাংসের সেই
গুণাবলী
low GI Food ( গ্লাসিক ইনডেক্স ফুড )
# ডায়বেটিকের ঝুঁকি কমায়।
# হার্টের ঝুঁকি কমায়।
# ওজন কমাতে সাহায্য করে।
# আহত ব্যক্তির ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
ভিটামিন B-6, B-3 অথবা niacin এর অন্যতম
উৎস
# রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে।
#রক্তে ইনসুলিন লেবেল নিয়ন্ত্রন রাখে।
# শরীরের চামড়ার সুরক্ষায় কাজ করে।
# মানুষের ব্রেইন সিস্টেম কে নিয়ন্ত্রন করে।
# জয়েন্টের ব্যথা ও বাত ব্যথার জন্য
কার্যকরী।
# পুরুষত্যহীনতার জন্য মহা দাওয়াই বলতে
পারেন।
# মারাত্ত্যক পুষ্টি হীনতায় কাজে দেয়
# B -6 বিপাক অথবা মেটাবলিসম অর্থাৎ
জীবদেহের সমস্ত ধরনের রাসায়নিক
বিক্রিয়াকে সঠিক ভাবে কাজ করতে
সাহায্য করে।
# লিভার কে সুস্থ রাখতে সাহাজ্য করে।
# চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকরী B-6.
#শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে টনিক হিসেবে
কাজ করে B-6।
অ্যামিনো এসিড ট্রিপ্টোফ্যান
# প্রাকিতিক ভাবে বড় হওয়া টার্কির
মাংসের এই এসিড পাওয়া যায় যা মানব
দেহের ঘুমের জন্য খুবই উপকারী।
আরও জেনে নেই
# প্রোটিনের অন্যতম উৎস।
# চামড়া ছাড়া টার্কির মাংসে চর্বির
পরিমান অনেক কম।
# খনিজ পদার্থ আয়রন,জিংক,পটাশিয়াম ও
পসপরাসের উৎস।
তথ্য গুলো ইন্টারনেট থেকে নেওয়া তথ্য♥♥
আরো পড়ুন>

টার্কি পালন নতুন সম্ভাবনার হাতছানিঃ পর্ব-০৩ (রোগ বালাই ও জৈব নিরাপত্তা) Tarki Murgi Palon Korte Chaile


প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোক সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি না পেয়ে  কাজের সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। এই তরুণদের চোখের সামনে নেই কোনো স্বপ্ন, নেই জীবনের অনাগত দিনগুলো সাজানোর কোনো সুন্দর পরিকল্পনা। কিন্তু এই ক্রান্তিকাল শুরুর আগে, কারো মনেই এমন প্রত্যাশা ও ছিল না। সবার মনেই ছিল একটা সুন্দর স্বপ্ন! সমাজের মানুষের কাছে দিন দিন নিজেদের নেতিবাচক অবস্থান দেখে তাদের অনেকেই আজ বিপর্যস্ত। যদি এই সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা না করা যায়, তাহলে এটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখা দিবে।”
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে ও শহরে ছাদ সহ অনেক জায়গা অনাবাদি/পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে নানা ধরনের ঘাস লতা। এ রকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশি উপযোগী। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে এক  বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী। তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান পোলট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোনো কাজে আসছে না, যারা কম ঝামেলাপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুঁজছেন, যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুঁজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের হতে পারে।”
টার্কি পালনের সুবিধা সমুহঃ
১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়
৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে
৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে
৫।  টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে
৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে
৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে।এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়
৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে
১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না
১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম
১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম
১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর
১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয়  অনেক বেশী
টার্কি পালনের অর্থনৈতিক স্থিতিমাপ সমূহ:
•    পুরুষ – মাদী অনুপাত- ১:৫
•    গড় ডিমের ওজন -৬৫ গ্রা.
•    গড় এক দিনের বাচ্চার ওজন-৫০ গ্রা.
•    যৌন পরিপক্কতার বয়স-৩০ সপ্তাহ
•    গড় ডিমের সংখ্যা-৮০-১০০
•    ইনকিউবেশন বা ডিমে তা দেওয়ার সময়সীমা-২৮ দিন
•    ২০ সপ্তাহে গড় ওজন-৪.৫-৫ কিগ্রা (মাদী) ৬-৭ কিগ্রা (পুরুষ)
•    ডিম দেওয়ার সময়সীমা-৩০ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স-পুরুষ-১৪-১৫ সপ্তাহ ,মাদী-১৭-১৮ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত ওজন-পুরুষ-৭.৫ কিগ্রা,মাদী-৫.৫ কিগ্রা
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত গড় খাবার গ্রহণ-পুরুষ-২৪-২৬ কিগ্রা,মাদী-১৭-১৯ কিগ্রা
* রোগ বালাইঃ
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায়। পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে।
টার্কির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার :
ক্রমরোগকারনলক্ষনপ্রতিরোধ
অ্যারিজানোসিসস্যালমোনেলা অ্যারিজানাছানারা বাড়ে না এবং চোখের অস্বচ্ছতা ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত হবার সম্ভাব্য বয়স ২৫-৩০ দিনসংক্রামিত ব্রীজারের পালকে বর্জন করা ও হ্যাচারি ফিউমিগেশন (জীবাণুনাশক ধোঁয়া প্রয়োগ) করা এবং জীবাণুমুক্ত করা৷
ব্লু-কোম রোগকরোনা ভাইরাসওজন হ্রাস,ফেনাফেনা বা জলের মত মল,মাথা ও চর্মের রং গাঢ় হওয়া৷খামারের পাখির সংখ্যা কমান ও সংক্রমণমুক্ত করা৷ কিছুটা সময় বিরতি দিন৷
শ্বাসনালীর রোগমাইকোপ্লাজ়মা গ্যালিসেপটিকামকাশি, গড়গড় শব্দ, হাঁচি, নাক দিয়ে রস গড়ান৷মাইকোপ্লাজমা বিহীন স্টক কিনুন
এরিসিপেলাসএরিসিপেলোথ্রিক্সরুসিওপ্যাথিডিআকস্মিক মৃত্যু,ফোলা স্নুড,মুখের নে স্থানে রং পরিবর্তন,ঝুঁকে পড়া ভাবটিকাকরণ
ফাউল কলেরাপ্যাস্চুরেলামাল্টো সিডাবেগুনি মাথা,সবজেটে হলুদ মল, আকস্মিক মৃত্যুজীবাণুনাশ ও মৃত পাখি যথাযথ ভাবে নষ্ট করা৷
ফাউল পক্সপক্স ভাইরাসঝুঁটি ও গলকম্বলে (ওয়াট্ল) ছোট ছোট হলুদ ফোসকা ও মামড়ি পড়াটিকাকরণ
রক্তস্রাবী আন্ত্রিক প্রদাহভাইরাসএক বা একাধিক মৃত পাখিটিকাকরণ
সংক্রামক সাইনোভাইটিসমাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকামপায়ের সন্ধি ও প্যাড ফোলা,খঞ্জত্ব, বুকে ফোসকাপরিষ্কার স্টক কিনুন
সাইনাসাইটিসব্যাকটিরিয়ানাক দিয়ে রস গড়ান,সাইনাস ও কাশিনীরোগ ব্রীডারদের কাছ থেকে শাবক কিনুন
১০মাইকোটক্সিকোসিসছত্রাক ঘটিতরক্তস্রাব,চর্বিযুক্ত লিভার ও কিডনিখাবার নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না
১১প্যারাটাইফয়েডস্যালমোনেলাপুলোরামছানাদের ডায়রিয়াপ্রতিরোধ ও পালের জীবাণুনাশ
১২টার্কি করাইজাবর্ডেটেল্লা এভিয়ামনাকে চাপা শব্দ, ফুসফুসে ঘড়ঘড় শব্দ ও নাক থেকে অত্যধিক শ্লেষ্মা পড়াটিকাকরণ
১৩কক্সিডিওসিসকক্সিডিয়াপ্ররক্তযুক্ত ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসযথাযথ জীবাণুনাশ ও লিটার পরিচালন
১৪টার্কি যৌন রোগমাইকোপ্লাজমা মেলিয়াগ্রিসউর্বরতা ও ফোটার যোগ্য ডিমের পরিমাণ হ্রাসকঠোর জীবাণুনাশ
টার্কি খামার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তাঃ
টার্কির খামারে যেন কোন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রতিরোধমূলক জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা জোড়দার করা উচিত। এ ছাড়াও রাণীক্ষেত, গামবোরো, বসন্ত ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ বেশি হয়। এসব রোগের প্রতিকার নেই বলে প্রতিরোধব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। কোনোভাবেই যাতে জীবাণু খামারের ভেতর প্রবেশ না করে এ জন্য জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
▪ খামারের প্রধান গেট তালা দিয়ে রাখতে হবে। ‘জৈব নিরাপত্তা চালু আছে, প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে
▪ খামারের চার পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
▪ খামারের শেডের পাশে খাদ্যদ্রব্য ফেলা যাবে না, এতে বন্যপাখি আসবে। বন্যপাখি বার্ড ফ্লুর ভাইরাস বহন করে
▪ দর্শনার্থীদের এবং অন্য খামারের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না
▪ খামারের ভেতরে নিয়োজিত কর্মীদের খামার কর্র্তৃক প্রদত্ত জীবাণুমুক্ত পোশাক, জুতা, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে
▪ খামারের ভেতর প্রবেশের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে। এসব কিছুতে জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
▪ খামারের ভেতর যারা থাকবে বা প্রবেশ করবে তাদের পরিধেয় সবকিছু জীবাণুমুক্ত হতে হবে
▪ টার্কির ঘরের দরজ বìধ রাখতে হবে; যাতে বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর, সাপ, বেজি ইত্যাদি প্রবেশ করতে না পারে
▪ এক খামারের লোক অন্য খামারে গোসল করতে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। জীবাণু এক খামার থেকে অন্য খামারে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে
▪ খামারের কর্মীদের বন্যপাখির দোকানে খাওয়া যাবে না
▪ খামার পরিত্যাগের সময় খামারের বস্ত্রাদি পরিবর্তন করে হাত-পা ভালোভাবে ধুতে হবে
▪ প্রতিটি শেডের সামনে পা ধোয়ার জীবাণুমুক্তকরণ তরল পদার্থ রাখতে হবে
▪ শেডে প্রবেশের সময় পা জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে
▪ দেশের ভেতর থেকে বাচ্চা সংগ্রহের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খামারের গত এক বছরে কোনো রোগ দেখা দিয়েছে কি না
▪ অতিথি পাখি খামারের আশপাশে বা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। খামারের কর্মীদেরও অতিথি পাখির কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ শীতকালে বিভিন্ন দেশে থেকে এ দেশে অতিথি পাখি আসে। পাখিগুলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে
▪ কোনো হাঁস-টার্কি অসুস্খ হলে বা মারা গেলে সাথে সাথে জেলা বা উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে হবে
▪ মৃত টার্কি মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ খামারে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র পথ চালু থাকবে
▪ টার্কি ও ডিম বিক্রি করে খাঁচা, সরঞ্জামাদি ও যানবাহন পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে খামারে প্রবেশ করতে হবে। কারণ যেখানে টার্কি ও ডিম বিক্রি করা হবে, সেখানে অন্য টার্কি থেকে জীবাণু আসতে পারে
▪ অবিক্রীত টার্কি ও ডিম খামারের ভেতর নেয়া যাবে না
▪ হাঁস-টার্কিকে সময়মতো সব রোগের টিকা দিতে হবে
▪ টার্কি, হাঁস, কবুতর ও অন্যান্য পাখি একত্রে পালন করা যাবে না
▪ অতিথি পাখি শিকার বìধ করা, বিক্রি বìধ করা এবং অতিথি পাখির কাছে যাওয়া নিষেধ
▪ বাড়িতে পালার জন্য বাজার থেকে কেনা টার্কি অন্তত ১৫ দিন আলাদা রেখে তারপর বাড়িতে টার্কির সাথে রাখতে হবে
▪ খামারের ভেতরে প্রবেশের সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক, টুপি ও এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে
▪ এক শেডের যন্ত্রপাতি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য শেডে ব্যবহার করা যাবে না
▪ রোগাক্রান্ত হাঁস-টার্কির বিষ্ঠা, ময়লা, বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ শেডের লিটার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে এবং শুকনা রাখার ব্যবস্খা করতে হবে
▪ টার্কির ঘরে কাজ করার সময় ভেতর থেকে দরজা বìধ রাখতে হবে
▪ টার্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পশু হাসপাতালে জানাতে হবে। অস্বাভাবিক আচরণের মধ্যে রয়েছে টার্কি পরপর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে পানি ও খাদ্য কম খেলে এবং ডিম উৎপাদন পর পর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে কমলে।
▪ লেয়ার টার্কির বিষ্ঠা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে
▪ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম ও টাটকা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
▪ জীবাণুনাশক হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ভিরকন, ফার্ম ফ্লুইড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে
টার্কি খামারে করণীয়ঃ
১) টার্কি শেডের চারপাশে ৫ মিটার জায়গা অতিরিক্ত বাড়াতে হবে;
২) বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে; বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে;
৩) ছাদের যেকোনো ছিদ্র পূর্বেই সারিয়ে নিতে হবে;
৪) প্রয়োজনীয় পলিথিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে যদি অতিরিক্ত ছাউনি দেওয়া না হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সামনে ও পেছনে যেন চটের তৈরি আচ্ছাদন থাকে। বড় টার্কির ক্ষেত্রে বৃষ্টি না থাকলে তা উঠিয়ে রাখতে হবে যাতে ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে;
৫) বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালমত রিপিয়ারিং করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে;
৬) খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে;
৭) লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে। শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ভেজা লিটার কক্সিডিওসিস, এন্টারইটিস, কৃমি সংক্রমণের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হবে যা টার্কির জন্য ক্ষতিকর;
৮) যারা আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করেন তাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।
৯) টার্কি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন রোগ-বালাই শেডে প্রবেশ করতে পারে।

প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোক সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি না পেয়ে  কাজের সন্ধানে শিক্ষিত বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। এই তরুণদের চোখের সামনে নেই কোনো স্বপ্ন, নেই জীবনের অনাগত দিনগুলো সাজানোর কোনো সুন্দর পরিকল্পনা। কিন্তু এই ক্রান্তিকাল শুরুর আগে, কারো মনেই এমন প্রত্যাশা ও ছিল না। সবার মনেই ছিল একটা সুন্দর স্বপ্ন! সমাজের মানুষের কাছে দিন দিন নিজেদের নেতিবাচক অবস্থান দেখে তাদের অনেকেই আজ বিপর্যস্ত। যদি এই সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা না করা যায়, তাহলে এটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখা দিবে।”
বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে ও শহরে ছাদ সহ অনেক জায়গা অনাবাদি/পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। যেখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে নানা ধরনের ঘাস লতা। এ রকম উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনের জন্য বেশি উপযোগী। অন্যদিকে আমাদের রয়েছে এক  বৃহত্তর বেকার জনগোষ্ঠী। তাই একদিকে অব্যবহৃত জমিকে ব্যবহার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন হতে পারে ছোট একটি টার্কি খামার। যারা বেকার বসে আছেন, যারা নতুন কিছু শুরু করতে চান পোলট্রি ব্যবসা করে যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আপনার স্থাপনা এখন কোনো কাজে আসছে না, যারা কম ঝামেলাপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন এবং ভালো আয়ের উৎস খুঁজছেন, যারা অল্প পুঁজি এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা খুঁজছেন, টার্কির খামার তাদের জন্য আদর্শের হতে পারে।”
টার্কি পালনের সুবিধা সমুহঃ
১। মাংস উদপাদন ক্ষমতা ব্যাপক
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায়
৩। টার্কি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে
৪। টার্কি পালনে তুলনা মূলক খরচ অনেক কম, কারন এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস,লতা পাতা খেতেও পছন্দ করে
৫।  টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে
৬। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশী, চর্বিকম ।তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে পারে
৭। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাস থাকে।এ উপাদান গুলু মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়
৮। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলেশরীরেরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৯। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিকপরিমাণে থাকে
১০। একটি আদর্শ টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয়না
১১। অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম
১২। যেহেতু ৭৫% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম
১৩। বাজার চাহিদা প্রচুর
১৪। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয়  অনেক বেশী
টার্কি পালনের অর্থনৈতিক স্থিতিমাপ সমূহ:
•    পুরুষ – মাদী অনুপাত- ১:৫
•    গড় ডিমের ওজন -৬৫ গ্রা.
•    গড় এক দিনের বাচ্চার ওজন-৫০ গ্রা.
•    যৌন পরিপক্কতার বয়স-৩০ সপ্তাহ
•    গড় ডিমের সংখ্যা-৮০-১০০
•    ইনকিউবেশন বা ডিমে তা দেওয়ার সময়সীমা-২৮ দিন
•    ২০ সপ্তাহে গড় ওজন-৪.৫-৫ কিগ্রা (মাদী) ৬-৭ কিগ্রা (পুরুষ)
•    ডিম দেওয়ার সময়সীমা-৩০ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স-পুরুষ-১৪-১৫ সপ্তাহ ,মাদী-১৭-১৮ সপ্তাহ
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত ওজন-পুরুষ-৭.৫ কিগ্রা,মাদী-৫.৫ কিগ্রা
•    বাজারজাত করার উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত গড় খাবার গ্রহণ-পুরুষ-২৪-২৬ কিগ্রা,মাদী-১৭-১৯ কিগ্রা
* রোগ বালাইঃ
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা, মাইটস ও এভিয়ান ইনফুলেঞ্জা বেশী দেখা যায়। পরিবেশ ও খমার অব্যাবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে।
টার্কির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার :
ক্রমরোগকারনলক্ষনপ্রতিরোধ
অ্যারিজানোসিসস্যালমোনেলা অ্যারিজানাছানারা বাড়ে না এবং চোখের অস্বচ্ছতা ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত হবার সম্ভাব্য বয়স ২৫-৩০ দিনসংক্রামিত ব্রীজারের পালকে বর্জন করা ও হ্যাচারি ফিউমিগেশন (জীবাণুনাশক ধোঁয়া প্রয়োগ) করা এবং জীবাণুমুক্ত করা৷
ব্লু-কোম রোগকরোনা ভাইরাসওজন হ্রাস,ফেনাফেনা বা জলের মত মল,মাথা ও চর্মের রং গাঢ় হওয়া৷খামারের পাখির সংখ্যা কমান ও সংক্রমণমুক্ত করা৷ কিছুটা সময় বিরতি দিন৷
শ্বাসনালীর রোগমাইকোপ্লাজ়মা গ্যালিসেপটিকামকাশি, গড়গড় শব্দ, হাঁচি, নাক দিয়ে রস গড়ান৷মাইকোপ্লাজমা বিহীন স্টক কিনুন
এরিসিপেলাসএরিসিপেলোথ্রিক্সরুসিওপ্যাথিডিআকস্মিক মৃত্যু,ফোলা স্নুড,মুখের নে স্থানে রং পরিবর্তন,ঝুঁকে পড়া ভাবটিকাকরণ
ফাউল কলেরাপ্যাস্চুরেলামাল্টো সিডাবেগুনি মাথা,সবজেটে হলুদ মল, আকস্মিক মৃত্যুজীবাণুনাশ ও মৃত পাখি যথাযথ ভাবে নষ্ট করা৷
ফাউল পক্সপক্স ভাইরাসঝুঁটি ও গলকম্বলে (ওয়াট্ল) ছোট ছোট হলুদ ফোসকা ও মামড়ি পড়াটিকাকরণ
রক্তস্রাবী আন্ত্রিক প্রদাহভাইরাসএক বা একাধিক মৃত পাখিটিকাকরণ
সংক্রামক সাইনোভাইটিসমাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকামপায়ের সন্ধি ও প্যাড ফোলা,খঞ্জত্ব, বুকে ফোসকাপরিষ্কার স্টক কিনুন
সাইনাসাইটিসব্যাকটিরিয়ানাক দিয়ে রস গড়ান,সাইনাস ও কাশিনীরোগ ব্রীডারদের কাছ থেকে শাবক কিনুন
১০মাইকোটক্সিকোসিসছত্রাক ঘটিতরক্তস্রাব,চর্বিযুক্ত লিভার ও কিডনিখাবার নষ্ট হয়ে যেতে দেবেন না
১১প্যারাটাইফয়েডস্যালমোনেলাপুলোরামছানাদের ডায়রিয়াপ্রতিরোধ ও পালের জীবাণুনাশ
১২টার্কি করাইজাবর্ডেটেল্লা এভিয়ামনাকে চাপা শব্দ, ফুসফুসে ঘড়ঘড় শব্দ ও নাক থেকে অত্যধিক শ্লেষ্মা পড়াটিকাকরণ
১৩কক্সিডিওসিসকক্সিডিয়াপ্ররক্তযুক্ত ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসযথাযথ জীবাণুনাশ ও লিটার পরিচালন
১৪টার্কি যৌন রোগমাইকোপ্লাজমা মেলিয়াগ্রিসউর্বরতা ও ফোটার যোগ্য ডিমের পরিমাণ হ্রাসকঠোর জীবাণুনাশ
টার্কি খামার ব্যবস্থাপনা ও জৈব নিরাপত্তাঃ
টার্কির খামারে যেন কোন ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রতিরোধমূলক জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা জোড়দার করা উচিত। এ ছাড়াও রাণীক্ষেত, গামবোরো, বসন্ত ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগ বেশি হয়। এসব রোগের প্রতিকার নেই বলে প্রতিরোধব্যবস্খাই একমাত্র উপায়। কোনোভাবেই যাতে জীবাণু খামারের ভেতর প্রবেশ না করে এ জন্য জৈব নিরাপত্তাব্যবস্খা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
▪ খামারের প্রধান গেট তালা দিয়ে রাখতে হবে। ‘জৈব নিরাপত্তা চালু আছে, প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে
▪ খামারের চার পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
▪ খামারের শেডের পাশে খাদ্যদ্রব্য ফেলা যাবে না, এতে বন্যপাখি আসবে। বন্যপাখি বার্ড ফ্লুর ভাইরাস বহন করে
▪ দর্শনার্থীদের এবং অন্য খামারের কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না
▪ খামারের ভেতরে নিয়োজিত কর্মীদের খামার কর্র্তৃক প্রদত্ত জীবাণুমুক্ত পোশাক, জুতা, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে
▪ খামারের ভেতর প্রবেশের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে। এসব কিছুতে জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
▪ খামারের ভেতর যারা থাকবে বা প্রবেশ করবে তাদের পরিধেয় সবকিছু জীবাণুমুক্ত হতে হবে
▪ টার্কির ঘরের দরজ বìধ রাখতে হবে; যাতে বিড়াল, কুকুর, ইঁদুর, সাপ, বেজি ইত্যাদি প্রবেশ করতে না পারে
▪ এক খামারের লোক অন্য খামারে গোসল করতে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। জীবাণু এক খামার থেকে অন্য খামারে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে
▪ খামারের কর্মীদের বন্যপাখির দোকানে খাওয়া যাবে না
▪ খামার পরিত্যাগের সময় খামারের বস্ত্রাদি পরিবর্তন করে হাত-পা ভালোভাবে ধুতে হবে
▪ প্রতিটি শেডের সামনে পা ধোয়ার জীবাণুমুক্তকরণ তরল পদার্থ রাখতে হবে
▪ শেডে প্রবেশের সময় পা জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে
▪ দেশের ভেতর থেকে বাচ্চা সংগ্রহের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খামারের গত এক বছরে কোনো রোগ দেখা দিয়েছে কি না
▪ অতিথি পাখি খামারের আশপাশে বা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। খামারের কর্মীদেরও অতিথি পাখির কাছে যাওয়া যাবে না। কারণ শীতকালে বিভিন্ন দেশে থেকে এ দেশে অতিথি পাখি আসে। পাখিগুলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে
▪ কোনো হাঁস-টার্কি অসুস্খ হলে বা মারা গেলে সাথে সাথে জেলা বা উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে হবে
▪ মৃত টার্কি মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ খামারে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার জন্য একটিমাত্র পথ চালু থাকবে
▪ টার্কি ও ডিম বিক্রি করে খাঁচা, সরঞ্জামাদি ও যানবাহন পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে খামারে প্রবেশ করতে হবে। কারণ যেখানে টার্কি ও ডিম বিক্রি করা হবে, সেখানে অন্য টার্কি থেকে জীবাণু আসতে পারে
▪ অবিক্রীত টার্কি ও ডিম খামারের ভেতর নেয়া যাবে না
▪ হাঁস-টার্কিকে সময়মতো সব রোগের টিকা দিতে হবে
▪ টার্কি, হাঁস, কবুতর ও অন্যান্য পাখি একত্রে পালন করা যাবে না
▪ অতিথি পাখি শিকার বìধ করা, বিক্রি বìধ করা এবং অতিথি পাখির কাছে যাওয়া নিষেধ
▪ বাড়িতে পালার জন্য বাজার থেকে কেনা টার্কি অন্তত ১৫ দিন আলাদা রেখে তারপর বাড়িতে টার্কির সাথে রাখতে হবে
▪ খামারের ভেতরে প্রবেশের সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক, টুপি ও এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে
▪ এক শেডের যন্ত্রপাতি বা ব্যবহার্য জিনিসপত্র অন্য শেডে ব্যবহার করা যাবে না
▪ রোগাক্রান্ত হাঁস-টার্কির বিষ্ঠা, ময়লা, বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে
▪ শেডের লিটার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে এবং শুকনা রাখার ব্যবস্খা করতে হবে
▪ টার্কির ঘরে কাজ করার সময় ভেতর থেকে দরজা বìধ রাখতে হবে
▪ টার্কির মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে পশু হাসপাতালে জানাতে হবে। অস্বাভাবিক আচরণের মধ্যে রয়েছে টার্কি পরপর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে পানি ও খাদ্য কম খেলে এবং ডিম উৎপাদন পর পর দু’দিন ২০ শতাংশ হারে কমলে।
▪ লেয়ার টার্কির বিষ্ঠা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে
▪ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম ও টাটকা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
▪ জীবাণুনাশক হিসেবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ভিরকন, ফার্ম ফ্লুইড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে
টার্কি খামারে করণীয়ঃ
১) টার্কি শেডের চারপাশে ৫ মিটার জায়গা অতিরিক্ত বাড়াতে হবে;
২) বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে; বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে;
৩) ছাদের যেকোনো ছিদ্র পূর্বেই সারিয়ে নিতে হবে;
৪) প্রয়োজনীয় পলিথিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে যদি অতিরিক্ত ছাউনি দেওয়া না হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সামনে ও পেছনে যেন চটের তৈরি আচ্ছাদন থাকে। বড় টার্কির ক্ষেত্রে বৃষ্টি না থাকলে তা উঠিয়ে রাখতে হবে যাতে ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে;
৫) বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালমত রিপিয়ারিং করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে;
৬) খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে;
৭) লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে। শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় ভেজা লিটার কক্সিডিওসিস, এন্টারইটিস, কৃমি সংক্রমণের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার হবে যা টার্কির জন্য ক্ষতিকর;
৮) যারা আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করেন তাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।
৯) টার্কি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন রোগ-বালাই শেডে প্রবেশ করতে পারে।
আরো পড়ুন>